মঙ্গলবার, ২১ মে ২০২৪, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

আমাকে দেখলে কি মনে হয়, জোচ্চুরির জন্য এই ব্যবসায় নেমেছি: ইউনূস

‘দেশের এক কোটি গরিব মানুষকে একটি ব্যাংকের মালিক বানিয়েছেন’ বলে দাবি করেছেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেছেন, ‘আমাকে দেখলে কি মনে হয়, আমি জোচ্চুরি করার জন্য এই ব্যবসায় নেমেছি?’

মানি লন্ডারিং মামলায় জামিন পেয়ে বৃহস্পতিবার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪ এর চত্বরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন।  এই মামলায় অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য আগামী ২ জুন দিন নির্ধারণ করেছেন আদালত।

ড. ইউনূস সাংবাদিকদের বলেন, ‘দুঃখ ভারাক্রান্ত হৃদয়ে বলছি, আমার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আনা হয়েছে। জালিয়াতির অভিযোগ আনা হয়েছে। আমার বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে। আনা হয়েছে অর্থপাচারের অভিযোগ। আপনারা আমাকে বহুদিন থেকে চিনছেন। এই অপরাধগুলো আমার গায়ে লাগানোর মতো অপরাধ কিনা- সেটা আপনারা বিবেচনা করবেন। আগে যে রকম বিবেচনা করেছেন।’

ইউনূসের দাবি, তিনি গ্রামীণ ব্যাংকের মালিক নন। সুদ যদি কেউ নিয়ে থাকেন, গ্রামীণ ব্যাংকের মালিকেরা নিয়েছেন।

তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমাকে বলা হয়েছে, আমি সুদখোর। বহুবার এ কথা বলা হয়েছে, আপনারা সেটি গ্রহণ করেননি। আমাকে যখন গ্রামীণ ব্যাংক থেকে বের করে দেওয়া হলো, তখন গ্রামীণ ব্যাংকের ৯৭ শতাংশ সদস্য ছিলেন এর মালিক। সুদ যদি গ্রহণ করে থাকেন, সেটি তারা করেছেন। আমি কর্মচারী মাত্র। আমি গ্রামীণ ব্যাংকের মালিক ছিলাম না। কাজেই আপনারা সেটি গ্রহণ করেননি।’

সাংবাদিকদের ইউনূস আরও বলেন, ‘আমাকে বলা হয়েছে গরিবের রক্তচোষা। আমি এক কোটি গরিব মানুষকে ব্যাংকের মালিক বানিয়েছি। তাদের মালিকানা দিয়েছি। এটা তো সত্য। বলা হয়েছে, পদ্মা সেতু বানচাল করেছি। ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের টাকা বন্ধ করেছি। আপনারা সেটি গ্রহণ করেননি। আজ যে অভিযোগ, সেই একই ধরনের অভিযোগ। আপনাদের বিবেচনার ওপর ছেড়ে দিলাম।’

কালের চিঠি / আশিকুর।

Tag :

আমাকে দেখলে কি মনে হয়, জোচ্চুরির জন্য এই ব্যবসায় নেমেছি: ইউনূস

Update Time : ০৫:০৮:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ মে ২০২৪

‘দেশের এক কোটি গরিব মানুষকে একটি ব্যাংকের মালিক বানিয়েছেন’ বলে দাবি করেছেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেছেন, ‘আমাকে দেখলে কি মনে হয়, আমি জোচ্চুরি করার জন্য এই ব্যবসায় নেমেছি?’

মানি লন্ডারিং মামলায় জামিন পেয়ে বৃহস্পতিবার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪ এর চত্বরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন।  এই মামলায় অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য আগামী ২ জুন দিন নির্ধারণ করেছেন আদালত।

ড. ইউনূস সাংবাদিকদের বলেন, ‘দুঃখ ভারাক্রান্ত হৃদয়ে বলছি, আমার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আনা হয়েছে। জালিয়াতির অভিযোগ আনা হয়েছে। আমার বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে। আনা হয়েছে অর্থপাচারের অভিযোগ। আপনারা আমাকে বহুদিন থেকে চিনছেন। এই অপরাধগুলো আমার গায়ে লাগানোর মতো অপরাধ কিনা- সেটা আপনারা বিবেচনা করবেন। আগে যে রকম বিবেচনা করেছেন।’

ইউনূসের দাবি, তিনি গ্রামীণ ব্যাংকের মালিক নন। সুদ যদি কেউ নিয়ে থাকেন, গ্রামীণ ব্যাংকের মালিকেরা নিয়েছেন।

তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমাকে বলা হয়েছে, আমি সুদখোর। বহুবার এ কথা বলা হয়েছে, আপনারা সেটি গ্রহণ করেননি। আমাকে যখন গ্রামীণ ব্যাংক থেকে বের করে দেওয়া হলো, তখন গ্রামীণ ব্যাংকের ৯৭ শতাংশ সদস্য ছিলেন এর মালিক। সুদ যদি গ্রহণ করে থাকেন, সেটি তারা করেছেন। আমি কর্মচারী মাত্র। আমি গ্রামীণ ব্যাংকের মালিক ছিলাম না। কাজেই আপনারা সেটি গ্রহণ করেননি।’

সাংবাদিকদের ইউনূস আরও বলেন, ‘আমাকে বলা হয়েছে গরিবের রক্তচোষা। আমি এক কোটি গরিব মানুষকে ব্যাংকের মালিক বানিয়েছি। তাদের মালিকানা দিয়েছি। এটা তো সত্য। বলা হয়েছে, পদ্মা সেতু বানচাল করেছি। ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের টাকা বন্ধ করেছি। আপনারা সেটি গ্রহণ করেননি। আজ যে অভিযোগ, সেই একই ধরনের অভিযোগ। আপনাদের বিবেচনার ওপর ছেড়ে দিলাম।’

কালের চিঠি / আশিকুর।