রবিবার, ১৬ জুন ২০২৪, ১ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

রাজনীতির চরিত্র পরিবর্তন হয়েছে, গলায় মালা না হয় ফাঁসি: জি এম কাদের

নিয়মতান্ত্রিকভাবে রাজনীতি করেছি এতদিন, কিন্তু এখনকার রাজনীতির চরিত্র পরিবর্তন হয়েছে। হয় গলায় মালা নেবেন, না হয় ফাঁসি নেবেন— এমন মন্তব্য করেছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের।

রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে শনিবার (২৭ এপ্রিল) জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় এ মন্তব্য করেন তিনি।

নেতাকর্মীদের উদ্দেশে জি এম কাদের বলেন, নির্বাচন বন্ধ করে কোনো দেশের সরকার পরিবর্তন করা সম্ভব না, তাই জাতীয় পার্টি নিয়মতান্ত্রিকভাবে রাজনীতি করছে। নির্বাচনের আগে বর্ধিত সভায় মতামত দিয়েছিলেন, আপনারা নির্বাচনে যাওয়ার পক্ষে নন। ভোটে না গেলে ভবিষ্যতে জাতীয় পার্টিকে টিকিয়ে রাখা যাবে কি না সন্দেহ ছিল, তাই নির্বাচনে গিয়েছি। আপনারা আমার ওপর আস্থা রেখেছেন।

নির্বাচনে যাওয়া নিয়ে নেতাকর্মীদের মাঝে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছিল উল্লেখ করে জাপা চেয়ারম্যান বলেন, ভোটের আগ মুহূর্তে দায়িত্ব দিয়েছিলেন। তখন সুষ্ঠুভাবে পরিবেশ পর্যবেক্ষণ করেছি। আমার মনে হয়েছে, বিভিন্ন বিদেশি শক্তি বিভিন্নভাবে নানা দিকে নিচ্ছিলেন। পরিষ্কার করে বুঝতে পেরেছিলাম, তারা নিজ দৃষ্টিতে দলকে এগিয়ে নিতে চায়। আর বিএনপির আন্দোলন নিয়ে পরিষ্কার ধারণা ছিল, আন্দোলন সফল হবে না। কোনোদিন বাংলাদেশে এভাবে সরকার পরিবর্তন করা সম্ভব হয়নি। নির্বাচন বন্ধ করে দেশে সরকার পরিবর্তন করা সম্ভব না।

তিনি দাবি করেন, বিএনপি ও জামায়াত আন্দোলনে পরাস্ত হয়ে নিজেদের দোষ জাতীয় পার্টির ওপর দিচ্ছে। তবে, নির্বাচন ভালো হয়নি। সরকার জাতীয় পার্টিকে গৃহপালিত দল হিসেবে দেখতে চায়, যা কখনও সম্ভব নয়। জাতীয় পার্টি কখনোই অনুগত বিরোধী দলের ক্যাটাগরিতে ছিল না। জাতীয় পার্টিকে অনুগত বিরোধী দল বানানোর চেষ্টা করেছে সরকার। কিন্তু জাতীয় পার্টি গৃহপালিত বিরোধী দল হতে রাজি না।

দলটির মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, সারাদেশে জাপার নেতাকর্মীদের মধ্যে কিছু ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। নির্বাচনে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যায়নি, এজন্য অনেক সমস্যা জড়িত। যেমন শাসক দলের দৌরাত্ম্য, প্রশাসনের নিরপেক্ষতার অভাব। বলা যায়, আওয়ামী লীগ ও স্বতন্ত্র যারা ছিলেন তাদের পক্ষে প্রশাসন কাজ করেছে। নিরপেক্ষতার অভাবে আমাদের প্রার্থীরা পাস করেনি।

যারা দল থেকে চলে গেছেন তারা ভুল করেছেন বলে মন্তব্য করেছেন জাপা মহাসচিব। বলেছেন, দেশে অন্য কোনো দল থাকুক তা আওয়ামী লীগ চায় না। বিএনপির কী অবস্থা তা বলতে চাই না।

কালের চিঠি / আলিফ

Tag :

রাজনীতির চরিত্র পরিবর্তন হয়েছে, গলায় মালা না হয় ফাঁসি: জি এম কাদের

Update Time : ১১:০৪:৩৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৪

নিয়মতান্ত্রিকভাবে রাজনীতি করেছি এতদিন, কিন্তু এখনকার রাজনীতির চরিত্র পরিবর্তন হয়েছে। হয় গলায় মালা নেবেন, না হয় ফাঁসি নেবেন— এমন মন্তব্য করেছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের।

রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে শনিবার (২৭ এপ্রিল) জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় এ মন্তব্য করেন তিনি।

নেতাকর্মীদের উদ্দেশে জি এম কাদের বলেন, নির্বাচন বন্ধ করে কোনো দেশের সরকার পরিবর্তন করা সম্ভব না, তাই জাতীয় পার্টি নিয়মতান্ত্রিকভাবে রাজনীতি করছে। নির্বাচনের আগে বর্ধিত সভায় মতামত দিয়েছিলেন, আপনারা নির্বাচনে যাওয়ার পক্ষে নন। ভোটে না গেলে ভবিষ্যতে জাতীয় পার্টিকে টিকিয়ে রাখা যাবে কি না সন্দেহ ছিল, তাই নির্বাচনে গিয়েছি। আপনারা আমার ওপর আস্থা রেখেছেন।

নির্বাচনে যাওয়া নিয়ে নেতাকর্মীদের মাঝে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছিল উল্লেখ করে জাপা চেয়ারম্যান বলেন, ভোটের আগ মুহূর্তে দায়িত্ব দিয়েছিলেন। তখন সুষ্ঠুভাবে পরিবেশ পর্যবেক্ষণ করেছি। আমার মনে হয়েছে, বিভিন্ন বিদেশি শক্তি বিভিন্নভাবে নানা দিকে নিচ্ছিলেন। পরিষ্কার করে বুঝতে পেরেছিলাম, তারা নিজ দৃষ্টিতে দলকে এগিয়ে নিতে চায়। আর বিএনপির আন্দোলন নিয়ে পরিষ্কার ধারণা ছিল, আন্দোলন সফল হবে না। কোনোদিন বাংলাদেশে এভাবে সরকার পরিবর্তন করা সম্ভব হয়নি। নির্বাচন বন্ধ করে দেশে সরকার পরিবর্তন করা সম্ভব না।

তিনি দাবি করেন, বিএনপি ও জামায়াত আন্দোলনে পরাস্ত হয়ে নিজেদের দোষ জাতীয় পার্টির ওপর দিচ্ছে। তবে, নির্বাচন ভালো হয়নি। সরকার জাতীয় পার্টিকে গৃহপালিত দল হিসেবে দেখতে চায়, যা কখনও সম্ভব নয়। জাতীয় পার্টি কখনোই অনুগত বিরোধী দলের ক্যাটাগরিতে ছিল না। জাতীয় পার্টিকে অনুগত বিরোধী দল বানানোর চেষ্টা করেছে সরকার। কিন্তু জাতীয় পার্টি গৃহপালিত বিরোধী দল হতে রাজি না।

দলটির মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, সারাদেশে জাপার নেতাকর্মীদের মধ্যে কিছু ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। নির্বাচনে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যায়নি, এজন্য অনেক সমস্যা জড়িত। যেমন শাসক দলের দৌরাত্ম্য, প্রশাসনের নিরপেক্ষতার অভাব। বলা যায়, আওয়ামী লীগ ও স্বতন্ত্র যারা ছিলেন তাদের পক্ষে প্রশাসন কাজ করেছে। নিরপেক্ষতার অভাবে আমাদের প্রার্থীরা পাস করেনি।

যারা দল থেকে চলে গেছেন তারা ভুল করেছেন বলে মন্তব্য করেছেন জাপা মহাসচিব। বলেছেন, দেশে অন্য কোনো দল থাকুক তা আওয়ামী লীগ চায় না। বিএনপির কী অবস্থা তা বলতে চাই না।

কালের চিঠি / আলিফ