সোমবার, ১৭ জুন ২০২৪, ৩ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

তাপদাহে গলে গেছে সড়কের পিচ, আটকে যাচ্ছে জুতা ।

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে অতিরিক্ত তাপদাহে গলে তরলে পরিণত হয়েছে সড়কের পিচ। এতে আতঙ্কে রয়েছে চালক ও পথচারীরা।

মঙ্গলবার (২৩ এপ্রিল) দুপুরে কালিয়াকৈর-ফুলবাড়িয়া আঞ্চলিক সড়কের এ ঘটনা ঘটেছে।

জানা গেছে, আজ কালিয়াকৈর তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা চলতি বছরে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা। এর আগের দিন রোববার উপজেলায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৮ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

গত কয়েক দিন ধরে চলা তীব্র তাপপ্রবাহে নাকাল হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষের জনজীবন। শহরে বা গ্রামগঞ্জের লোকজনের উপস্থিতি কম হলেও শ্রমজীবী মানুষ পড়েছেন চরম বিপাকে। স্বস্তি পেতে রাস্তার পাশে জিরিয়ে নিচ্ছেন কেউ কেউ। আবার কেউ কিছু সময় পর পর হাতে মুখে পানি দিয়ে নিজেকে শীতল রাখার চেষ্টা করছেন।

রিকশাচালক আক্তার হোসেন বলেন, সকাল ৮টায় রিকশা নিয়ে বেরিয়েছি। রোদের দাপটে লোকজন বাইরে কম বের হচ্ছে। তাই আয় রোজগার কমেছে। প্রতিদিন রিকশা মালিককে দুইশো টাকা, নিজের দুপুরের খাবার, চা-নাশতার খরচ মিলিয়ে আগে ৩৫০ টাকা আয় করতে হবে। এরপর সংসার খরচের জন্য যা হয়। কিন্তু এ গরমে সে আয়ও করতে পারছি না।

রমজান নামের এক ফেরিওয়ালা বলেন, গরমে লোকজন বাইরে কম, তাই বেচাবিক্রি বেশি একটা হচ্ছে না। রাস্তায় ঘুরতে খুব কষ্ট হচ্ছে।

এদিকে গরমের কারণে উপজেলাজুড়ে বেড়েছে ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা। লাগাতার তাপপ্রবাহের কারণে রোদের মধ্যে বাইরে না বের হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা ডাক্তার লুৎফর রহমান।

তিনি জানান, এই গরমে ডায়রিয়া, বমি, পেটে ব্যথার রোগী বেশি ভর্তি হচ্ছে। এদের মধ্যে শিশুদের সংখ্যা বেশি। তবে ডায়রিয়ার কারণে ১৫ জন রোগী ভর্তি রয়েছে। তাপদাহ না কমলে হয়তো এর সংখ্যা আরও বেড়ে যেতে পারে।

কালের চিঠি/ ফাহিম

Tag :

তাপদাহে গলে গেছে সড়কের পিচ, আটকে যাচ্ছে জুতা ।

Update Time : ০৬:০৯:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৪

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে অতিরিক্ত তাপদাহে গলে তরলে পরিণত হয়েছে সড়কের পিচ। এতে আতঙ্কে রয়েছে চালক ও পথচারীরা।

মঙ্গলবার (২৩ এপ্রিল) দুপুরে কালিয়াকৈর-ফুলবাড়িয়া আঞ্চলিক সড়কের এ ঘটনা ঘটেছে।

জানা গেছে, আজ কালিয়াকৈর তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা চলতি বছরে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা। এর আগের দিন রোববার উপজেলায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৮ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

গত কয়েক দিন ধরে চলা তীব্র তাপপ্রবাহে নাকাল হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষের জনজীবন। শহরে বা গ্রামগঞ্জের লোকজনের উপস্থিতি কম হলেও শ্রমজীবী মানুষ পড়েছেন চরম বিপাকে। স্বস্তি পেতে রাস্তার পাশে জিরিয়ে নিচ্ছেন কেউ কেউ। আবার কেউ কিছু সময় পর পর হাতে মুখে পানি দিয়ে নিজেকে শীতল রাখার চেষ্টা করছেন।

রিকশাচালক আক্তার হোসেন বলেন, সকাল ৮টায় রিকশা নিয়ে বেরিয়েছি। রোদের দাপটে লোকজন বাইরে কম বের হচ্ছে। তাই আয় রোজগার কমেছে। প্রতিদিন রিকশা মালিককে দুইশো টাকা, নিজের দুপুরের খাবার, চা-নাশতার খরচ মিলিয়ে আগে ৩৫০ টাকা আয় করতে হবে। এরপর সংসার খরচের জন্য যা হয়। কিন্তু এ গরমে সে আয়ও করতে পারছি না।

রমজান নামের এক ফেরিওয়ালা বলেন, গরমে লোকজন বাইরে কম, তাই বেচাবিক্রি বেশি একটা হচ্ছে না। রাস্তায় ঘুরতে খুব কষ্ট হচ্ছে।

এদিকে গরমের কারণে উপজেলাজুড়ে বেড়েছে ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা। লাগাতার তাপপ্রবাহের কারণে রোদের মধ্যে বাইরে না বের হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা ডাক্তার লুৎফর রহমান।

তিনি জানান, এই গরমে ডায়রিয়া, বমি, পেটে ব্যথার রোগী বেশি ভর্তি হচ্ছে। এদের মধ্যে শিশুদের সংখ্যা বেশি। তবে ডায়রিয়ার কারণে ১৫ জন রোগী ভর্তি রয়েছে। তাপদাহ না কমলে হয়তো এর সংখ্যা আরও বেড়ে যেতে পারে।

কালের চিঠি/ ফাহিম