শনিবার, ২৫ মে ২০২৪, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

দুই হলুদ কার্ড দেখেও কেন লাল কার্ড দেখলেন না আর্জেন্টিনার মার্তিনেস

কাতার বিশ্বকাপে ফ্রান্সের স্বপ্ন ভেঙ্গে বিশ্বকাপ জিতেছিল আর্জেন্টিনা। লুসাইলের মহানাটকীয় সে ফাইনালে টাইব্রেকারে দুর্দান্ত সেভ করে নায়ক বনে যান আর্জেন্টাইন গোলকিপার এমিলিয়ানো মার্তিনেস। সে ঘটনার পর থেকে ফরাসিদের চক্ষুশূলে পরিণত হন তিনি। গতকাল সুযোগ পেয়ে আবারও ফরাসিদের কাঁদিয়েছেন মার্তিনেস। তবে এবার দেশের হয়ে নয়, তাঁর ক্লাব অ্যাস্টন ভিলার জার্সিতে।

ইউরোপা কনফারেন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের দ্বিতীয় লেগে গতকাল ফরাসি ক্লাব লিলের বিপক্ষে মাঠে নেমেছিল অ্যাস্টন ভিলা। নির্ধারিত সময়ে ২-১ গোলে পিছিয়ে থাকে ইংলিশ ক্লাবটি। তবে দুই লেগ মিলিয়ে ব্যবধান ৩-৩ হওয়ায় ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। সেখানেও ফল নির্ধারিত না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারে যায় ম্যাচ। যেখানে দুটি পেনাল্টি ঠেকিয়ে ভিলাকে সেমিফাইনালে তোলেন মার্তিনেস।

তবে ভিলার জয় ছাপিয়ে আলোচনায় মার্তিনেসের হলুদ কার্ড। লিলের মাঠে দুবার হলুদ কার্ড দেখেও মাঠ ছাড়তে হয়নি আর্জেন্টাইন গোলকিপারকে। উল্টো তিনি হয়েছেন ম্যাচের নায়ক। এ নিয়ে লিল অভিযোগ জানালেও উয়েফার নিয়মে বেঁচে গেছেন মার্তিনেস।

গতকাল ঘরের মাঠে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক খেলা উপহার দিতে থাকে লিল। গোলের জন্য বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি ফরাসি ক্লাবটিকে। ম্যাচে ১৫ মিনিটে লিলকে এগিয়ে দেন ইউসুফ ইয়াজিকি। বাঁ প্রান্ত থেকে গ্যাব্রিয়েল গুদমুন্দসনের পাস নিয়ন্ত্রণে নিয়ে জোরালো শটে গোল করেন এ তুর্কি রাইট উইংগার।

দ্বিতীয়ার্ধে আরেকবার লিলের সমর্থকদের আনন্দে ভাসান বেনজামিন আন্দ্রে। ম্যাচের ৬৭ মিনিটে দারুণ হেডে ব্যবধান দ্বিগুণ (২-০) করেন তিনি। এতে দুই লেগ মিলিয়ে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে যায় লিল। একইসঙ্গে সেমি ফাইনালের স্বপ্ন জোরালো হতে থাকে ফরাসি ক্লাবটির। কিন্তু ম্যাচের নির্ধারিত সময়ের ৩ মিনিট আগে সে স্বপ্নে বাধ সাধেন ম্যাটি ক্যাশ। ম্যাচের স্কোরলাইন ২-১ করেন তিনি।

এরপর নির্ধারিত সময়ে আর কোনো গোল না হলে ম্যাচ ফলাফল নির্ধারণে ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানে আরেকবার নিজের জাত চেনান মার্তিনেস।

স্বাভাবিকভাবেই কাতার বিশ্বকাপের জন্য ফরাসি সমর্থকদের ক্ষোভ ছিল মার্তিনেসের ওপর। গতকাল ম্যাচের শুরু থেকেই গ্যালারি থেকেই লিল সমর্থকদের দুয়োধ্বনি শুনছিলেন আর্জেন্টাইন গোলকিপার। মার্তিনেস সেটার জবাব দিয়েছেন প্রথম পেনাল্টি ঠেকিয়ে দেওয়ার পর।

টাইব্রেকারে লিলের হয়ে প্রথম শট নিতে আসেন নাবিল বেনতালেব। বাঁ দিকে ঝাপিয়ে সে শট ঠেকান মার্তিনেস। এরপর মুখের সামনে আঙুল ধরে ফরাসি সমর্থকদের উদ্দেশ্যে চুপ থাকার ইশারা করেন তিনি। পাশাপাশি ব্যঙ্গাত্মক অঙ্গভঙ্গি করেন। যা চোখ এড়ায়নি ম্যাচ রেফারি ইভান ক্রুসলিয়াকের। মার্তিনেসকে হলুদ কার্ড দেখান তিনি। যা ছিল ম্যাচে আর্জেন্টাইন গোলকিপারের দ্বিতীয় হলুদ কার্ড।
এর আগে ম্যাচ চলাকালে ইচ্ছাকৃত সময়ক্ষেপণ করায় ৩৯ মিনিটে প্রথম হলুদকার্ড দেখেছিলেন মার্তিনেস।

দুইবার হলুদ কার্ড দেখার পরেও মাঠ ছাড়তে হয়নি তাঁকে। কারণ, উয়েফার নিয়ম বলছে, ম্যাচ পেনাল্টি শুট আউটে গেলে কার্ডের হিসাব নতুন করে শুরু হয়। অর্থাৎ নির্ধারিত সময়ের কার্ড ও টাইব্রেকারের কার্ড আলাদাভাবে গণ্য হয়। সে কারণে মার্তিনেসের দ্বিতীয় হলুদ কার্ডের পরে লিল খেলোয়াড়রা লাল কার্ডের আবেদন করলেও তাতে কোনো লাভ হয়নি। উল্টো লিলের চতুর্থ পেনাল্টি ঠেকিয়ে ফরাসি ক্লাবটির সমর্থকদের একেবারে চুপ করিয়ে দেন মার্তিনেস।

কালের চিঠি/ ফাহিম

Tag :

দুই হলুদ কার্ড দেখেও কেন লাল কার্ড দেখলেন না আর্জেন্টিনার মার্তিনেস

Update Time : ১০:৩৯:৪৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৪

কাতার বিশ্বকাপে ফ্রান্সের স্বপ্ন ভেঙ্গে বিশ্বকাপ জিতেছিল আর্জেন্টিনা। লুসাইলের মহানাটকীয় সে ফাইনালে টাইব্রেকারে দুর্দান্ত সেভ করে নায়ক বনে যান আর্জেন্টাইন গোলকিপার এমিলিয়ানো মার্তিনেস। সে ঘটনার পর থেকে ফরাসিদের চক্ষুশূলে পরিণত হন তিনি। গতকাল সুযোগ পেয়ে আবারও ফরাসিদের কাঁদিয়েছেন মার্তিনেস। তবে এবার দেশের হয়ে নয়, তাঁর ক্লাব অ্যাস্টন ভিলার জার্সিতে।

ইউরোপা কনফারেন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের দ্বিতীয় লেগে গতকাল ফরাসি ক্লাব লিলের বিপক্ষে মাঠে নেমেছিল অ্যাস্টন ভিলা। নির্ধারিত সময়ে ২-১ গোলে পিছিয়ে থাকে ইংলিশ ক্লাবটি। তবে দুই লেগ মিলিয়ে ব্যবধান ৩-৩ হওয়ায় ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। সেখানেও ফল নির্ধারিত না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারে যায় ম্যাচ। যেখানে দুটি পেনাল্টি ঠেকিয়ে ভিলাকে সেমিফাইনালে তোলেন মার্তিনেস।

তবে ভিলার জয় ছাপিয়ে আলোচনায় মার্তিনেসের হলুদ কার্ড। লিলের মাঠে দুবার হলুদ কার্ড দেখেও মাঠ ছাড়তে হয়নি আর্জেন্টাইন গোলকিপারকে। উল্টো তিনি হয়েছেন ম্যাচের নায়ক। এ নিয়ে লিল অভিযোগ জানালেও উয়েফার নিয়মে বেঁচে গেছেন মার্তিনেস।

গতকাল ঘরের মাঠে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক খেলা উপহার দিতে থাকে লিল। গোলের জন্য বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি ফরাসি ক্লাবটিকে। ম্যাচে ১৫ মিনিটে লিলকে এগিয়ে দেন ইউসুফ ইয়াজিকি। বাঁ প্রান্ত থেকে গ্যাব্রিয়েল গুদমুন্দসনের পাস নিয়ন্ত্রণে নিয়ে জোরালো শটে গোল করেন এ তুর্কি রাইট উইংগার।

দ্বিতীয়ার্ধে আরেকবার লিলের সমর্থকদের আনন্দে ভাসান বেনজামিন আন্দ্রে। ম্যাচের ৬৭ মিনিটে দারুণ হেডে ব্যবধান দ্বিগুণ (২-০) করেন তিনি। এতে দুই লেগ মিলিয়ে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে যায় লিল। একইসঙ্গে সেমি ফাইনালের স্বপ্ন জোরালো হতে থাকে ফরাসি ক্লাবটির। কিন্তু ম্যাচের নির্ধারিত সময়ের ৩ মিনিট আগে সে স্বপ্নে বাধ সাধেন ম্যাটি ক্যাশ। ম্যাচের স্কোরলাইন ২-১ করেন তিনি।

এরপর নির্ধারিত সময়ে আর কোনো গোল না হলে ম্যাচ ফলাফল নির্ধারণে ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানে আরেকবার নিজের জাত চেনান মার্তিনেস।

স্বাভাবিকভাবেই কাতার বিশ্বকাপের জন্য ফরাসি সমর্থকদের ক্ষোভ ছিল মার্তিনেসের ওপর। গতকাল ম্যাচের শুরু থেকেই গ্যালারি থেকেই লিল সমর্থকদের দুয়োধ্বনি শুনছিলেন আর্জেন্টাইন গোলকিপার। মার্তিনেস সেটার জবাব দিয়েছেন প্রথম পেনাল্টি ঠেকিয়ে দেওয়ার পর।

টাইব্রেকারে লিলের হয়ে প্রথম শট নিতে আসেন নাবিল বেনতালেব। বাঁ দিকে ঝাপিয়ে সে শট ঠেকান মার্তিনেস। এরপর মুখের সামনে আঙুল ধরে ফরাসি সমর্থকদের উদ্দেশ্যে চুপ থাকার ইশারা করেন তিনি। পাশাপাশি ব্যঙ্গাত্মক অঙ্গভঙ্গি করেন। যা চোখ এড়ায়নি ম্যাচ রেফারি ইভান ক্রুসলিয়াকের। মার্তিনেসকে হলুদ কার্ড দেখান তিনি। যা ছিল ম্যাচে আর্জেন্টাইন গোলকিপারের দ্বিতীয় হলুদ কার্ড।
এর আগে ম্যাচ চলাকালে ইচ্ছাকৃত সময়ক্ষেপণ করায় ৩৯ মিনিটে প্রথম হলুদকার্ড দেখেছিলেন মার্তিনেস।

দুইবার হলুদ কার্ড দেখার পরেও মাঠ ছাড়তে হয়নি তাঁকে। কারণ, উয়েফার নিয়ম বলছে, ম্যাচ পেনাল্টি শুট আউটে গেলে কার্ডের হিসাব নতুন করে শুরু হয়। অর্থাৎ নির্ধারিত সময়ের কার্ড ও টাইব্রেকারের কার্ড আলাদাভাবে গণ্য হয়। সে কারণে মার্তিনেসের দ্বিতীয় হলুদ কার্ডের পরে লিল খেলোয়াড়রা লাল কার্ডের আবেদন করলেও তাতে কোনো লাভ হয়নি। উল্টো লিলের চতুর্থ পেনাল্টি ঠেকিয়ে ফরাসি ক্লাবটির সমর্থকদের একেবারে চুপ করিয়ে দেন মার্তিনেস।

কালের চিঠি/ ফাহিম