মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০২৪, ১ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

উপজেলা নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা ১২ দলীয় জোটের

বিএনপি-জামায়াতের পর এবার উপজেলা পরিষদ নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে ১২ দলীয় জোট। তারা বলেছে, ‘জনরায়হীন অবৈধ সরকারের আজ্ঞাবহ নির্বাচন কমিশনের অধীনে’ জোটটি উপজেলা নির্বাচনে যাবে না।

মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে এ ঘোষণা দেয় জোটটি।

১২ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতারা বিবৃতিতে বলেন, ‘১২ দলীয় জোট শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার ও তার আজ্ঞাবহ নির্বাচন কমিশনের অধীনে এবং প্রশাসন ও পুলিশের লেজুরবৃত্তি এবং দলীয় ক্যাডারসুলভ আচরণের জন্য ইতোপূর্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ ও স্থানীয় সরকার নির্বাচন বর্জন করেছে। এখনো সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি হয়নি এবং বিদ্যমান অরাজক পরিস্থিতি আরও অবনতিশীল হওয়ায় আসন্ন উপজেলা নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করার যৌক্তিক কারণ রয়েছে। এই সরকার ভোট, সংবিধান, ভিন্নমত প্রকাশ, বহুদলের অংশগ্রহণে নির্বাচনসহ মানুষের সহজাত অধিকারগুলোকে ধ্বংস করেছে। ১২ দলীয় জোট এই অবৈধ সরকারের অপরাজনীতি ও নির্বাচনী প্রহসনের অংশীদার না হওয়ার বিষয়ে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।’

নেতারা বলেন, ‘বর্তমানে বাংলাদেশে এক ফ্রাঙ্কেনস্টাইনের অভ্যুদয় হয়েছে। আওয়ামী দখলদার শাসকগোষ্ঠী বাংলাদেশের মসজিদ কমিটি থেকে শুরু করে যেকোনো পেশাজীবী সংগঠনের নির্বাচন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বার অ্যাসোসিয়েশনসহ সব জাতীয় ও স্থানীয় সরকার নির্বাচন ব্যবস্থাকে ধ্বংস করেছে।’

তারা বলেন, ‘আওয়ামী লীগের আমলে জাতীয় এবং স্থানীয় সরকার কোনো নির্বাচনই অবাধ ও সুষ্ঠু হয়নি। জনগণের ভোটাধিকার হরণ করে ক্ষমতাসীন দলের মনোনীত প্রার্থীদেরই আজ্ঞাবাহী নির্বাচন কমিশন বিজয়ী ঘোষণা করে।১২ দলীয় জোট আগামী ৮ মে থেকে শুরু হওয়া সব ধাপের উপজেলা পরিষদ নির্বাচন বর্জন করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।’

বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন ১২ দলীয় জোটপ্রধান ও জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার, মহাসচিব আহসান হাবীব লিংকন, জোটের মুখপাত্র বাংলাদেশ এলডিপির (একাংশ) মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম, জোটের সমন্বয়ক বাংলাদেশ জাতীয় দলের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সৈয়দ এহসানুল হুদা, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব মুফতি গোলাম মহিউদ্দিন ইকরাম, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) সহ-সভাপতি রাশেদ প্রধান, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান লায়ন ফারুক রহমান, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির (একাংশ) চেয়ারম্যান শামসুদ্দিন পারভেজ, ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব মাওলানা আব্দুল করিম, বাংলাদেশ ইসলামিক পার্টির মহাসচিব আবুল কাশেমসহ জোটের শীর্ষ নেতারা।

কালের চিঠি / আশিকুর।

Tag :
Popular Post

বেরোবিতে কোঠা ইস্যুতে আন্দোলনকারীদের ওপর ছাত্রলীগের হামলা

উপজেলা নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা ১২ দলীয় জোটের

Update Time : ০৩:৪৭:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৪

বিএনপি-জামায়াতের পর এবার উপজেলা পরিষদ নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে ১২ দলীয় জোট। তারা বলেছে, ‘জনরায়হীন অবৈধ সরকারের আজ্ঞাবহ নির্বাচন কমিশনের অধীনে’ জোটটি উপজেলা নির্বাচনে যাবে না।

মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে এ ঘোষণা দেয় জোটটি।

১২ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতারা বিবৃতিতে বলেন, ‘১২ দলীয় জোট শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার ও তার আজ্ঞাবহ নির্বাচন কমিশনের অধীনে এবং প্রশাসন ও পুলিশের লেজুরবৃত্তি এবং দলীয় ক্যাডারসুলভ আচরণের জন্য ইতোপূর্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ ও স্থানীয় সরকার নির্বাচন বর্জন করেছে। এখনো সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি হয়নি এবং বিদ্যমান অরাজক পরিস্থিতি আরও অবনতিশীল হওয়ায় আসন্ন উপজেলা নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করার যৌক্তিক কারণ রয়েছে। এই সরকার ভোট, সংবিধান, ভিন্নমত প্রকাশ, বহুদলের অংশগ্রহণে নির্বাচনসহ মানুষের সহজাত অধিকারগুলোকে ধ্বংস করেছে। ১২ দলীয় জোট এই অবৈধ সরকারের অপরাজনীতি ও নির্বাচনী প্রহসনের অংশীদার না হওয়ার বিষয়ে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।’

নেতারা বলেন, ‘বর্তমানে বাংলাদেশে এক ফ্রাঙ্কেনস্টাইনের অভ্যুদয় হয়েছে। আওয়ামী দখলদার শাসকগোষ্ঠী বাংলাদেশের মসজিদ কমিটি থেকে শুরু করে যেকোনো পেশাজীবী সংগঠনের নির্বাচন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বার অ্যাসোসিয়েশনসহ সব জাতীয় ও স্থানীয় সরকার নির্বাচন ব্যবস্থাকে ধ্বংস করেছে।’

তারা বলেন, ‘আওয়ামী লীগের আমলে জাতীয় এবং স্থানীয় সরকার কোনো নির্বাচনই অবাধ ও সুষ্ঠু হয়নি। জনগণের ভোটাধিকার হরণ করে ক্ষমতাসীন দলের মনোনীত প্রার্থীদেরই আজ্ঞাবাহী নির্বাচন কমিশন বিজয়ী ঘোষণা করে।১২ দলীয় জোট আগামী ৮ মে থেকে শুরু হওয়া সব ধাপের উপজেলা পরিষদ নির্বাচন বর্জন করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।’

বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন ১২ দলীয় জোটপ্রধান ও জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার, মহাসচিব আহসান হাবীব লিংকন, জোটের মুখপাত্র বাংলাদেশ এলডিপির (একাংশ) মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম, জোটের সমন্বয়ক বাংলাদেশ জাতীয় দলের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সৈয়দ এহসানুল হুদা, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব মুফতি গোলাম মহিউদ্দিন ইকরাম, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) সহ-সভাপতি রাশেদ প্রধান, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান লায়ন ফারুক রহমান, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির (একাংশ) চেয়ারম্যান শামসুদ্দিন পারভেজ, ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব মাওলানা আব্দুল করিম, বাংলাদেশ ইসলামিক পার্টির মহাসচিব আবুল কাশেমসহ জোটের শীর্ষ নেতারা।

কালের চিঠি / আশিকুর।