রবিবার, ১৬ জুন ২০২৪, ১ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

আজ ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস

আজ ১৭ এপ্রিল, বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে অনন্য এক দিন। ১৯৭১ সালের এই দিনে কুষ্টিয়া জেলার তদানীন্তন মেহেরপুর মহকুমার বৈদ্যনাথতলার আম্রকাননে আনুষ্ঠানিক শপথ নেয় স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের প্রথম সরকার। এর আগে তা গঠন করা হয় ১০ এপ্রিল। পরে জায়গাটির নাম হয় মুজিবনগর। অস্থায়ী সরকারের সফল নেতৃত্বে ৯ মাসের সশস্ত্র যুদ্ধে ১৬ই ডিসেম্বর আসে কাঙ্ক্ষিত বিজয়।

ঘোষণাপত্রে ২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণাকে দৃঢ়ভাবে সমর্থন ও অনুমোদন করা হয়। প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করা হয় শেখ মুজিবুর রহমানকে। তার অনুপস্থিতিতে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি হন সৈয়দ নজরুল ইসলাম। এ ছাড়া তাজউদ্দীন আহমদ অস্থায়ী সরকারের প্রধানমন্ত্রী, ক্যাপ্টেন মুহাম্মদ মনসুর আলী অর্থমন্ত্রী এবং এএইচএম কামরুজ্জামান স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ ও পুনর্বাসনমন্ত্রী নিযুক্ত হন। জেনারেল আতাউল গনি ওসমানী মুক্তিবাহিনীর প্রধান এবং মেজর জেনারেল আবদুর রব চিফ অব স্টাফ নিযুক্ত হন।

শপথের দিন ১২ জন আনসার সদস্য ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলামকে গার্ড অব অনার প্রদান করেন।

ইতিহাসবিদ মুনতাসির মামুন জানান, একটি সিভিল সরকারের অধীনে যুদ্ধ পরিচালিত হয়েছে। সাধারণত, আমরা সশস্ত্র সরকার দেখতে অভ্যস্ত ছিলাম। একটি নিরস্ত্র সরকারের অধীনে জয়ী হয়ে একটি দেশ সৃষ্টি করেছে। যার নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তাজউদ্দীন আহমদ। এটি কিন্তু কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। সেই সাথে যুদ্ধটি হয়েছে রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানের নামে, যিনি ছিলেন অনুপস্থিত। কিন্তু যুদ্ধ তার নামেই হয়েছে।

শপথ অনুষ্ঠানে দেশের জনগণকে তাদের বীরত্ব, সাহসিকতা ও বিপ্লবী কার্যক্রমের মাধ্যমে পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে স্বাধীনতা লাভে মরণপণ যুদ্ধে অবতীর্ণ হওয়ার আহ্বান জানানো হয়। বাংলাদেশের পক্ষে আন্তর্জাতিক জনমত সৃষ্টি ও মুক্তিযুদ্ধকালীন সরকার পরিচালনায় এই সরকার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

মুজিব নগর সরকার গঠনের ফলে বিশ্ববাসী স্বাধীনতার জন্য সশস্ত্র সংগ্রামে অংশ নেয়া বাঙালিদের প্রতি সমর্থন ও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন। অবশেষে লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত হয় চূড়ান্ত বিজয়।

কালের চিঠি / আলিফ

Tag :

আজ ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস

Update Time : ০৫:০৯:৫৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৪

আজ ১৭ এপ্রিল, বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে অনন্য এক দিন। ১৯৭১ সালের এই দিনে কুষ্টিয়া জেলার তদানীন্তন মেহেরপুর মহকুমার বৈদ্যনাথতলার আম্রকাননে আনুষ্ঠানিক শপথ নেয় স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের প্রথম সরকার। এর আগে তা গঠন করা হয় ১০ এপ্রিল। পরে জায়গাটির নাম হয় মুজিবনগর। অস্থায়ী সরকারের সফল নেতৃত্বে ৯ মাসের সশস্ত্র যুদ্ধে ১৬ই ডিসেম্বর আসে কাঙ্ক্ষিত বিজয়।

ঘোষণাপত্রে ২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণাকে দৃঢ়ভাবে সমর্থন ও অনুমোদন করা হয়। প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করা হয় শেখ মুজিবুর রহমানকে। তার অনুপস্থিতিতে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি হন সৈয়দ নজরুল ইসলাম। এ ছাড়া তাজউদ্দীন আহমদ অস্থায়ী সরকারের প্রধানমন্ত্রী, ক্যাপ্টেন মুহাম্মদ মনসুর আলী অর্থমন্ত্রী এবং এএইচএম কামরুজ্জামান স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ ও পুনর্বাসনমন্ত্রী নিযুক্ত হন। জেনারেল আতাউল গনি ওসমানী মুক্তিবাহিনীর প্রধান এবং মেজর জেনারেল আবদুর রব চিফ অব স্টাফ নিযুক্ত হন।

শপথের দিন ১২ জন আনসার সদস্য ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলামকে গার্ড অব অনার প্রদান করেন।

ইতিহাসবিদ মুনতাসির মামুন জানান, একটি সিভিল সরকারের অধীনে যুদ্ধ পরিচালিত হয়েছে। সাধারণত, আমরা সশস্ত্র সরকার দেখতে অভ্যস্ত ছিলাম। একটি নিরস্ত্র সরকারের অধীনে জয়ী হয়ে একটি দেশ সৃষ্টি করেছে। যার নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তাজউদ্দীন আহমদ। এটি কিন্তু কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। সেই সাথে যুদ্ধটি হয়েছে রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানের নামে, যিনি ছিলেন অনুপস্থিত। কিন্তু যুদ্ধ তার নামেই হয়েছে।

শপথ অনুষ্ঠানে দেশের জনগণকে তাদের বীরত্ব, সাহসিকতা ও বিপ্লবী কার্যক্রমের মাধ্যমে পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে স্বাধীনতা লাভে মরণপণ যুদ্ধে অবতীর্ণ হওয়ার আহ্বান জানানো হয়। বাংলাদেশের পক্ষে আন্তর্জাতিক জনমত সৃষ্টি ও মুক্তিযুদ্ধকালীন সরকার পরিচালনায় এই সরকার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

মুজিব নগর সরকার গঠনের ফলে বিশ্ববাসী স্বাধীনতার জন্য সশস্ত্র সংগ্রামে অংশ নেয়া বাঙালিদের প্রতি সমর্থন ও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন। অবশেষে লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত হয় চূড়ান্ত বিজয়।

কালের চিঠি / আলিফ