মঙ্গলবার, ২১ মে ২০২৪, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

বর্ণাঢ্য আয়োজনে চবিতে উদযাপিত হলো বাংলা নববর্ষ

‘এই বৈশাখে বৈশ্বিক বৈভবে’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) উদযাপিত হয়েছে বাঙালির ঐতিহ্যবাহী উৎসব বাংলা নববর্ষ-১৪৩১।

রোববার (১৪ এপ্রিল) দিনব্যাপী নানা কর্মসূচিতে এ বর্ষবরণ উৎসবটি উদযাপন করা হয়।

এদিন সকাল সাড়ে ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্মরণ চত্বর থেকে মঙ্গল শোভাযাত্রা শুরু হয়ে জারুলতলায় এসে শেষ হয়। পরে জাতীয় সংগীত, বৈশাখের গান, নৃত্য অনুষ্ঠান, আলোচনা সভা ও গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী বলী, কাবাডি ও বউচি খেলার মধ্য দিয়ে উৎসবটি বরণ করা হয়।

চবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আবু তাহেরের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন বর্ষবরণ উদযাপন কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য-সচিব অধ্যাপক ড. মুস্তাফিজুর রহমান ছিদ্দিকী। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন চবি উপ-উপাচার্য (অ্যাকাডেমিক) অধ্যাপক বেনু কুমার দে, ও চবি উপ-উপাচার্য (প্রশাসনিক) অধ্যাপক ড. মো. সেকান্দর চৌধুরী।

আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে চবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আবু তাহের বলেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে নববর্ষ উৎসবের সূচনা করেন চবির সাবেক উপাচার্য আবু ইউসুফ। প্রথম তিনদিনব্যাপী নববর্ষ উৎসবের আয়োজন করা হয়। আজও সেই ধারাবাহিকতা বজায় রয়েছে। কিন্তু এবার অনেকেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছিল, ঈদের পরেই এই উৎসব কিভাবে পালন করা হবে? আমি তাদেরকে বলেছিলাম, যদি ঈদের দিনটাও নববর্ষের দিন হত, তাহলেও আমরা এ উৎসব পালন করতে দ্বিধাবোধ করতাম না। আমি কথায় না, কর্মে বিশ্বাস করি। এভাবেই আমি বিশ্ববিদ্যালয়কে তার আপন গতিতে উন্নতির চূড়ান্ত শিখরে নিয়ে যাব।

 

বর্ষবরণ উদযাপন কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য-সচিব অধ্যাপক ড. মুস্তাফিজুর রহমান ছিদ্দিকী বলেন, গতবছরের সকল অন্যায় অবিচারকে ঝেড়ে ফেলে নতুন বছরে আবার নতুন করে শুরু করব। যাদের জন্য এই বিশ্ববিদ্যালয় আজ তলানিতে এসে ঠেকেছে তাদের প্রতি সজাগ দৃষ্টি রাখার জন্য অনুরোধ করছি মাননীয় উপাচার্যকে।

চবি উপ-উপাচার্য (অ্যাকাডেমিক) অধ্যাপক বেনু কুমার দে বলেন, সকল ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে আমরা বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলার প্রত্যয়ে এগিয়ে যাব। যে যাই বলুক না কেন, এই নববর্ষকে নিয়ে যতোই ব্যাঙ্গ করুক না কেন আমরা আমাদের অনাগত ভবিষ্যতের কাছে এই সংস্কৃতি ছড়িয়ে দিয়ে যাব।

চবি উপ-উপাচার্য (প্রশাসনিক) অধ্যাপক ড. মো. সেকান্দর চৌধুরী বলেন, আজকের এই বাংলা নববর্ষ যাদের জন্যে পেয়েছি, তাদেরকে প্রাণভরে স্মরণ করছি। পুরাতনের গ্লানি মুছে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সুযোগ্য উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আবু তাহের স্যারের নেতৃত্বে এগিয়ে যাব আমরা।

আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন চবি শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আবদুল হক, আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ আল ফারুক, বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নাসিম হাসান, কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি মো. আলী হোসাইন, কর্মচারী সমিতির সভাপতি সুমন মামুন, অফিসার সমিতির সভাপতি রশীদুল হায়দার জাবেদ।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন ইংরেজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. সুকান্ত ভট্টাচার্য ও অর্থনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তন্ময়ী হাসান অয়ন

Tag :

বর্ণাঢ্য আয়োজনে চবিতে উদযাপিত হলো বাংলা নববর্ষ

Update Time : ০৪:৪৬:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৪

‘এই বৈশাখে বৈশ্বিক বৈভবে’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) উদযাপিত হয়েছে বাঙালির ঐতিহ্যবাহী উৎসব বাংলা নববর্ষ-১৪৩১।

রোববার (১৪ এপ্রিল) দিনব্যাপী নানা কর্মসূচিতে এ বর্ষবরণ উৎসবটি উদযাপন করা হয়।

এদিন সকাল সাড়ে ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্মরণ চত্বর থেকে মঙ্গল শোভাযাত্রা শুরু হয়ে জারুলতলায় এসে শেষ হয়। পরে জাতীয় সংগীত, বৈশাখের গান, নৃত্য অনুষ্ঠান, আলোচনা সভা ও গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী বলী, কাবাডি ও বউচি খেলার মধ্য দিয়ে উৎসবটি বরণ করা হয়।

চবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আবু তাহেরের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন বর্ষবরণ উদযাপন কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য-সচিব অধ্যাপক ড. মুস্তাফিজুর রহমান ছিদ্দিকী। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন চবি উপ-উপাচার্য (অ্যাকাডেমিক) অধ্যাপক বেনু কুমার দে, ও চবি উপ-উপাচার্য (প্রশাসনিক) অধ্যাপক ড. মো. সেকান্দর চৌধুরী।

আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে চবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আবু তাহের বলেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে নববর্ষ উৎসবের সূচনা করেন চবির সাবেক উপাচার্য আবু ইউসুফ। প্রথম তিনদিনব্যাপী নববর্ষ উৎসবের আয়োজন করা হয়। আজও সেই ধারাবাহিকতা বজায় রয়েছে। কিন্তু এবার অনেকেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছিল, ঈদের পরেই এই উৎসব কিভাবে পালন করা হবে? আমি তাদেরকে বলেছিলাম, যদি ঈদের দিনটাও নববর্ষের দিন হত, তাহলেও আমরা এ উৎসব পালন করতে দ্বিধাবোধ করতাম না। আমি কথায় না, কর্মে বিশ্বাস করি। এভাবেই আমি বিশ্ববিদ্যালয়কে তার আপন গতিতে উন্নতির চূড়ান্ত শিখরে নিয়ে যাব।

 

বর্ষবরণ উদযাপন কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য-সচিব অধ্যাপক ড. মুস্তাফিজুর রহমান ছিদ্দিকী বলেন, গতবছরের সকল অন্যায় অবিচারকে ঝেড়ে ফেলে নতুন বছরে আবার নতুন করে শুরু করব। যাদের জন্য এই বিশ্ববিদ্যালয় আজ তলানিতে এসে ঠেকেছে তাদের প্রতি সজাগ দৃষ্টি রাখার জন্য অনুরোধ করছি মাননীয় উপাচার্যকে।

চবি উপ-উপাচার্য (অ্যাকাডেমিক) অধ্যাপক বেনু কুমার দে বলেন, সকল ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে আমরা বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলার প্রত্যয়ে এগিয়ে যাব। যে যাই বলুক না কেন, এই নববর্ষকে নিয়ে যতোই ব্যাঙ্গ করুক না কেন আমরা আমাদের অনাগত ভবিষ্যতের কাছে এই সংস্কৃতি ছড়িয়ে দিয়ে যাব।

চবি উপ-উপাচার্য (প্রশাসনিক) অধ্যাপক ড. মো. সেকান্দর চৌধুরী বলেন, আজকের এই বাংলা নববর্ষ যাদের জন্যে পেয়েছি, তাদেরকে প্রাণভরে স্মরণ করছি। পুরাতনের গ্লানি মুছে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সুযোগ্য উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আবু তাহের স্যারের নেতৃত্বে এগিয়ে যাব আমরা।

আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন চবি শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আবদুল হক, আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ আল ফারুক, বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নাসিম হাসান, কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি মো. আলী হোসাইন, কর্মচারী সমিতির সভাপতি সুমন মামুন, অফিসার সমিতির সভাপতি রশীদুল হায়দার জাবেদ।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন ইংরেজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. সুকান্ত ভট্টাচার্য ও অর্থনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তন্ময়ী হাসান অয়ন