রবিবার, ২৬ মে ২০২৪, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

রুটিন কাজের বাইরে সাংগঠনিক কার্যক্রম নেই আওয়ামী লীগে

পর পর চার মেয়াদে ক্ষমতায় আওয়ামী লীগ। টানা ১৫ বছর দেশ পরিচালনা করছে তারা। দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা এই দলটির রুটিন কাজের বাইরে দৃশ্যমান তেমন কোনো সাংগঠনিক কার্যক্রম নেই। দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকায়, তবে কি স্তিমিত হয়ে পড়েছে আওয়ামী লীগ? বাস্তবতা হলো, ক্ষমতাসীনদের এখন আর তেমন কোনো রাজনৈতিক চাপ অনুভব করতে হয় না। তাই রুটিনের বাইরে নেই কোনো বিশেষ কর্মসূচি।

যদিও দলীয় সভাপতির নির্দেশনা রয়েছে, দলকে নিতে হবে মানুষের কাছে। সাংগঠনিক কাজ করতে হবে জনকল্যাণ মাথায় রেখে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ক্ষমতায় থেকে আত্মতুষ্টিতে ভুগছে আওয়ামী লীগ। নীতিনির্ধারকরা বলছেন, আত্মতুষ্টি বা অহমিকাবোধে নেই দল; কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, লাখ লাখ নেতাকর্মীকে নিয়ে কাজ করে আওয়ামী লীগ। আমাদের মধ্যে কখনো আত্মতৃপ্তিবোধ বা অহমিকাবোধ কাজ করে না। মানুষের সমর্থন আদায় করাটাই সবচেয়ে বড় দায়িত্ব বলে মনে করে আওয়ামী লীগ।

দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের প্রায়ই অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগের শত্রু এখন দলের নেতারা। এমনও বলেন, অনেক নেতাই ভাঙছেন শৃঙ্খলা। অন্যদিকে জনপ্রিয়তা কমেছে, বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের। যার প্রতিফলন দেখা গেছে, সংসদ নির্বাচনে ৫৯টি আসনে বিদ্রোহী নেতার জয়ে। আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনও হবে উন্মুক্ত। বিশৃঙ্খলা এড়াতে সরিয়ে রাখা হয়েছে দলীয় প্রতীক। তাহলে কি সুস্থধারার রাজনৈতিক চর্চায় ঘাটতি দেখা দিয়েছে প্রাচীন এ দলটিতে?

দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ কোনো নেতৃত্বের কোন্দল নেই। কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগে কোনো কোন্দল নেই। কাজেই জেলা, উপজেলা বা ইউনিয়ন পর্যায়ে কোনো কোন্দল গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, আমরা জেলা-উপজেলা পর্যায়ের নেতাদের সাথে যোগাযোগ করেছি। যেখানে যেখানে সমস্যা আছে সেসব বন্ধে নানা পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, দীর্ঘমেয়াদে ক্ষমতায় থাকলে আত্মতৃপ্তি ও দায়মুক্তির মানসিকতা আসে। এসময় কে আওয়ামী লীগ নন, সেটি বোঝাও কঠিন। এছাড়া সংগঠন হিসেবে আওয়ামী লীগ মারাত্মক নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে এক ব্যক্তির ওপর।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক আব্দুল মান্নান বলেন, দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার কারণে দলের জন্য যারা নিবেদিত প্রাণ তারা অনেকটা অবহেলিত হয়ে গিয়েছে। আওয়ামী লীগ অনেকটা সভানেত্রী কেন্দ্রিক হয়ে পড়েছে। তারা সবসময়ই তাকিয়ে থাকেন কখন সভানেত্রী কিছু করবেন কিংবা তিনি কখন কী বলবেন।

 

কালের চিঠি / আলিফ

Tag :

রুটিন কাজের বাইরে সাংগঠনিক কার্যক্রম নেই আওয়ামী লীগে

Update Time : ০২:২২:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৪

পর পর চার মেয়াদে ক্ষমতায় আওয়ামী লীগ। টানা ১৫ বছর দেশ পরিচালনা করছে তারা। দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা এই দলটির রুটিন কাজের বাইরে দৃশ্যমান তেমন কোনো সাংগঠনিক কার্যক্রম নেই। দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকায়, তবে কি স্তিমিত হয়ে পড়েছে আওয়ামী লীগ? বাস্তবতা হলো, ক্ষমতাসীনদের এখন আর তেমন কোনো রাজনৈতিক চাপ অনুভব করতে হয় না। তাই রুটিনের বাইরে নেই কোনো বিশেষ কর্মসূচি।

যদিও দলীয় সভাপতির নির্দেশনা রয়েছে, দলকে নিতে হবে মানুষের কাছে। সাংগঠনিক কাজ করতে হবে জনকল্যাণ মাথায় রেখে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ক্ষমতায় থেকে আত্মতুষ্টিতে ভুগছে আওয়ামী লীগ। নীতিনির্ধারকরা বলছেন, আত্মতুষ্টি বা অহমিকাবোধে নেই দল; কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, লাখ লাখ নেতাকর্মীকে নিয়ে কাজ করে আওয়ামী লীগ। আমাদের মধ্যে কখনো আত্মতৃপ্তিবোধ বা অহমিকাবোধ কাজ করে না। মানুষের সমর্থন আদায় করাটাই সবচেয়ে বড় দায়িত্ব বলে মনে করে আওয়ামী লীগ।

দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের প্রায়ই অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগের শত্রু এখন দলের নেতারা। এমনও বলেন, অনেক নেতাই ভাঙছেন শৃঙ্খলা। অন্যদিকে জনপ্রিয়তা কমেছে, বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের। যার প্রতিফলন দেখা গেছে, সংসদ নির্বাচনে ৫৯টি আসনে বিদ্রোহী নেতার জয়ে। আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনও হবে উন্মুক্ত। বিশৃঙ্খলা এড়াতে সরিয়ে রাখা হয়েছে দলীয় প্রতীক। তাহলে কি সুস্থধারার রাজনৈতিক চর্চায় ঘাটতি দেখা দিয়েছে প্রাচীন এ দলটিতে?

দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ কোনো নেতৃত্বের কোন্দল নেই। কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগে কোনো কোন্দল নেই। কাজেই জেলা, উপজেলা বা ইউনিয়ন পর্যায়ে কোনো কোন্দল গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, আমরা জেলা-উপজেলা পর্যায়ের নেতাদের সাথে যোগাযোগ করেছি। যেখানে যেখানে সমস্যা আছে সেসব বন্ধে নানা পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, দীর্ঘমেয়াদে ক্ষমতায় থাকলে আত্মতৃপ্তি ও দায়মুক্তির মানসিকতা আসে। এসময় কে আওয়ামী লীগ নন, সেটি বোঝাও কঠিন। এছাড়া সংগঠন হিসেবে আওয়ামী লীগ মারাত্মক নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে এক ব্যক্তির ওপর।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক আব্দুল মান্নান বলেন, দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার কারণে দলের জন্য যারা নিবেদিত প্রাণ তারা অনেকটা অবহেলিত হয়ে গিয়েছে। আওয়ামী লীগ অনেকটা সভানেত্রী কেন্দ্রিক হয়ে পড়েছে। তারা সবসময়ই তাকিয়ে থাকেন কখন সভানেত্রী কিছু করবেন কিংবা তিনি কখন কী বলবেন।

 

কালের চিঠি / আলিফ