শনিবার, ২৫ মে ২০২৪, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

সম্মেলন হলেও থানা-ওয়ার্ডের পূর্ণাঙ্গ কমিটি দেয়নি ঢাকা মহানগর আ. লীগ

দলের সভাপতি শেখ হাসিনা ও সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের নির্দেশ উপেক্ষা করে চলছে আওয়ামী লীগের ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ শাখা। সম্মেলন হলেও দীর্ঘদিন ধরে দেয়া হচ্ছে না থানা ও ওয়ার্ড কমিটি। তাতে কেন্দ্রীয় নেতারাও যেন অসহায় হয়ে পড়েছেন নগরের মূল নেতাদের কাছে।

যাদের বিরুদ্ধে এত অভিযোগ, সেই নগর নেতারা এ বিষয়ে কোনো কথা বলতে নারাজ। এমনকি পরিস্থিতি এতটাই নাজুক যে, নগর নেতৃত্বের বিরুদ্ধে কথা বলতেও রাজি নন ওয়ার্ড নেতারা। আর বারবার নির্দেশনা উপেক্ষা করায় ক্ষিপ্ত কেন্দ্রীয় কমিটির নেতারা।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, নেত্রী বারবার তাগিদ দিয়েছেন কমিটি করার। সাধারণ সম্পাদকও তাগিদ দেন। থানা ও ওয়ার্ড কাউন্সিল হয়েছে অনেক দিন হয়েছে। কিন্তু কমিটিগুলো এখন পর্যন্ত করা যায়নি।

থানা ও ওয়ার্ডে কমিটি ঘোষণা করতে ২০২৩ সালের ২০ মার্চ পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছিলেন স্বয়ং আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক। তার নির্দেশও কাজে আসেনি।

এ নিয়ে জাহাঙ্গীর কবির নানক বলছিলেন, দীর্ঘদিন যাবত ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্য দিয়ে যারা দল করেছে, রাস্তায় ছিল, অপশক্তিকে মোকাবেলা করেছে; তারা আত্মপরিচয় দিতে পারবে না কিংবা পুরস্কৃত হবে না এটা মেনে নেয়া যায় না।

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম বলেন, থানা ও ওয়ার্ড কাউন্সিল করেও আমরা কমিটি দেয়নি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেখিয়ে নেবো বলে। প্রক্রিয়াটি সঠিক ছিল না। এরপর বিভিন্ন জনকে বিভিন্ন সময়ে দায়িত্ব দেয়া হলেও তারা ঠিকমতো দায়িত্ব পালন করেনি।

এসব অভিযোগের বিষয়ে দক্ষিণের সভাপতি আবু আহামেদ মান্নাফি সময়ে দিয়েও কথা বলেননি। যোগাযোগ করা হলেও অন্যরা কথা বলতেই রাজি হননি।

সংগঠনের পরিস্থিতি যখন এতটাই নাজুক, তখন শিগগিরই উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সম্মেলনের কথা ভাবছে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।

মির্জা আজম বলেন, ঈদের পর আমরা কমিটি করার কাজে হাত দেবো। যেভাবেই পারি থানা-ওয়ার্ডের কমিটি করে মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলন করার চেষ্টা করবো। তা কুরবানের ঈদের আগেই করার চেষ্টা করবো।

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ৩০ নভেম্বর ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সম্মেলন হয়। নতুন নেতৃত্বে এই কমিটি পূর্ণাঙ্গ করতে সময় লাগে প্রায় এক বছর। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী এই কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ২০২২ সালে।

আর চার বছর পেরিয়ে গেলেও উত্তরের ২৬টি থানা ও ৬৪ টি ওয়ার্ড এবং দক্ষিণের ২৪টি থানা ও ৭৫ টি ওয়ার্ডের কোনো কমিটিই চূড়ান্ত করতে পারেননি নগর নেতারা। দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, থানা ও ওয়ার্ড সম্মেলনের ৪৫ দিনের মধ্যে ঘোষণা করতে হয় নতুন কমিটি।

কালের চিঠি / আলিফ

Tag :

সম্মেলন হলেও থানা-ওয়ার্ডের পূর্ণাঙ্গ কমিটি দেয়নি ঢাকা মহানগর আ. লীগ

Update Time : ০৩:২৬:২৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ এপ্রিল ২০২৪

দলের সভাপতি শেখ হাসিনা ও সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের নির্দেশ উপেক্ষা করে চলছে আওয়ামী লীগের ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ শাখা। সম্মেলন হলেও দীর্ঘদিন ধরে দেয়া হচ্ছে না থানা ও ওয়ার্ড কমিটি। তাতে কেন্দ্রীয় নেতারাও যেন অসহায় হয়ে পড়েছেন নগরের মূল নেতাদের কাছে।

যাদের বিরুদ্ধে এত অভিযোগ, সেই নগর নেতারা এ বিষয়ে কোনো কথা বলতে নারাজ। এমনকি পরিস্থিতি এতটাই নাজুক যে, নগর নেতৃত্বের বিরুদ্ধে কথা বলতেও রাজি নন ওয়ার্ড নেতারা। আর বারবার নির্দেশনা উপেক্ষা করায় ক্ষিপ্ত কেন্দ্রীয় কমিটির নেতারা।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, নেত্রী বারবার তাগিদ দিয়েছেন কমিটি করার। সাধারণ সম্পাদকও তাগিদ দেন। থানা ও ওয়ার্ড কাউন্সিল হয়েছে অনেক দিন হয়েছে। কিন্তু কমিটিগুলো এখন পর্যন্ত করা যায়নি।

থানা ও ওয়ার্ডে কমিটি ঘোষণা করতে ২০২৩ সালের ২০ মার্চ পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছিলেন স্বয়ং আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক। তার নির্দেশও কাজে আসেনি।

এ নিয়ে জাহাঙ্গীর কবির নানক বলছিলেন, দীর্ঘদিন যাবত ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্য দিয়ে যারা দল করেছে, রাস্তায় ছিল, অপশক্তিকে মোকাবেলা করেছে; তারা আত্মপরিচয় দিতে পারবে না কিংবা পুরস্কৃত হবে না এটা মেনে নেয়া যায় না।

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম বলেন, থানা ও ওয়ার্ড কাউন্সিল করেও আমরা কমিটি দেয়নি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেখিয়ে নেবো বলে। প্রক্রিয়াটি সঠিক ছিল না। এরপর বিভিন্ন জনকে বিভিন্ন সময়ে দায়িত্ব দেয়া হলেও তারা ঠিকমতো দায়িত্ব পালন করেনি।

এসব অভিযোগের বিষয়ে দক্ষিণের সভাপতি আবু আহামেদ মান্নাফি সময়ে দিয়েও কথা বলেননি। যোগাযোগ করা হলেও অন্যরা কথা বলতেই রাজি হননি।

সংগঠনের পরিস্থিতি যখন এতটাই নাজুক, তখন শিগগিরই উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সম্মেলনের কথা ভাবছে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।

মির্জা আজম বলেন, ঈদের পর আমরা কমিটি করার কাজে হাত দেবো। যেভাবেই পারি থানা-ওয়ার্ডের কমিটি করে মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলন করার চেষ্টা করবো। তা কুরবানের ঈদের আগেই করার চেষ্টা করবো।

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ৩০ নভেম্বর ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সম্মেলন হয়। নতুন নেতৃত্বে এই কমিটি পূর্ণাঙ্গ করতে সময় লাগে প্রায় এক বছর। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী এই কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ২০২২ সালে।

আর চার বছর পেরিয়ে গেলেও উত্তরের ২৬টি থানা ও ৬৪ টি ওয়ার্ড এবং দক্ষিণের ২৪টি থানা ও ৭৫ টি ওয়ার্ডের কোনো কমিটিই চূড়ান্ত করতে পারেননি নগর নেতারা। দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, থানা ও ওয়ার্ড সম্মেলনের ৪৫ দিনের মধ্যে ঘোষণা করতে হয় নতুন কমিটি।

কালের চিঠি / আলিফ