রবিবার, ২৬ মে ২০২৪, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

ঈদের দিন স্ত্রী-সন্তানকে মাংস কিনে খাওয়াতে না পারায় চিরকুট লিখে আত্মহত্যা

জামালপুরের বকশীগঞ্জে স্ত্রী-সন্তানকে মাংস কিনে খাওয়াতে না পারায় চিরকুট লিখে আত্মহত্যা করেছেন এক যুবক। শুক্রবার (১২ এপ্রিল) সকালে উপজেলার বগারচর ইউনিয়নের বান্দের পাড় গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর তার চিরকুটটি উদ্ধার করা হয়েছে।

আত্মহত্যা করা ওই যুবকের নাম হাসান আলী (২৬)। তিনি বান্দের পাড় গ্রামের রহমত আলীর ছেলে। হাসান রাজমিস্ত্রী হিসেবে কাজ করতেন। ঘরের আড়ার সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে তিনি আত্মহত্যা করেছেন বলে জানা গেছে।

উদ্ধার হওয়া চিরকুটে হাসান লিখেছেন, ‘মা-বাবা তোমরা ক্ষমা করে দিও। আমি মরার পরে আমার বউ-বাচ্চাকে দেখে রেখো। আমি জানি আমার বউ আমার সাথে রাগ করছে। ঈদের জন্য সবাই গুছ (গোস্ত) খাইছে, কিন্তু আমি গুছ খাওয়াইতে পারি নাই। আমি আমার বউয়ের মুখ ঈদের দিন বেজার দেখছি। যদি পারো আমাকে ক্ষমা করে দিও।’

তিনি তার বাবা-মার প্রতি অনুরোধ জানিয়ে লেখেন, ‘বাবা-মা তোমরা আফরোজাকে (স্ত্রী) কিছু বলবা না, কারণ ওরে আমি খুব ভালোবাসি। আমার মেয়েকে দেখ রেখো।’ স্ত্রীর উদ্দেশে তিনি লেখেন, ‘আফরোজা তোমার জীবন স্বাধীন করে দিলাম। তোমার জীবনে কেউ নাই।’

বকশীগঞ্জ থানার ওসি মোহাম্মদ আবদুল আহাদ খান বলেন, অভাব-অনটনের কারণে ওই ব্যক্তি এই কাজ করে থাকতে পারে। পরিবারের আপত্তি না থাকায় ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ দাফনের অনুমতি দেয়া হয়েছে।

কালের চিঠি / আলিফ

Tag :

শ্রেণিকক্ষে যৌন হয়রানির অভিযোগ, ২ শিক্ষককে বরখাস্তের দাবিতে বিদ্যালয়ে তালা

ঈদের দিন স্ত্রী-সন্তানকে মাংস কিনে খাওয়াতে না পারায় চিরকুট লিখে আত্মহত্যা

Update Time : ০৩:৪৯:২৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ এপ্রিল ২০২৪

জামালপুরের বকশীগঞ্জে স্ত্রী-সন্তানকে মাংস কিনে খাওয়াতে না পারায় চিরকুট লিখে আত্মহত্যা করেছেন এক যুবক। শুক্রবার (১২ এপ্রিল) সকালে উপজেলার বগারচর ইউনিয়নের বান্দের পাড় গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর তার চিরকুটটি উদ্ধার করা হয়েছে।

আত্মহত্যা করা ওই যুবকের নাম হাসান আলী (২৬)। তিনি বান্দের পাড় গ্রামের রহমত আলীর ছেলে। হাসান রাজমিস্ত্রী হিসেবে কাজ করতেন। ঘরের আড়ার সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে তিনি আত্মহত্যা করেছেন বলে জানা গেছে।

উদ্ধার হওয়া চিরকুটে হাসান লিখেছেন, ‘মা-বাবা তোমরা ক্ষমা করে দিও। আমি মরার পরে আমার বউ-বাচ্চাকে দেখে রেখো। আমি জানি আমার বউ আমার সাথে রাগ করছে। ঈদের জন্য সবাই গুছ (গোস্ত) খাইছে, কিন্তু আমি গুছ খাওয়াইতে পারি নাই। আমি আমার বউয়ের মুখ ঈদের দিন বেজার দেখছি। যদি পারো আমাকে ক্ষমা করে দিও।’

তিনি তার বাবা-মার প্রতি অনুরোধ জানিয়ে লেখেন, ‘বাবা-মা তোমরা আফরোজাকে (স্ত্রী) কিছু বলবা না, কারণ ওরে আমি খুব ভালোবাসি। আমার মেয়েকে দেখ রেখো।’ স্ত্রীর উদ্দেশে তিনি লেখেন, ‘আফরোজা তোমার জীবন স্বাধীন করে দিলাম। তোমার জীবনে কেউ নাই।’

বকশীগঞ্জ থানার ওসি মোহাম্মদ আবদুল আহাদ খান বলেন, অভাব-অনটনের কারণে ওই ব্যক্তি এই কাজ করে থাকতে পারে। পরিবারের আপত্তি না থাকায় ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ দাফনের অনুমতি দেয়া হয়েছে।

কালের চিঠি / আলিফ