মঙ্গলবার, ২১ মে ২০২৪, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

হিগস বোসন তথা ‘ঈশ্বর কণা’র আবিষ্কারক নোবেলজয়ী পিটার হিগস আর নেই

 

স্কটল্যান্ডের রাজধানী এডিনবরায় নিজের বাড়িতেই শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেছেন এই ব্রিটিশ বিজ্ঞানী বলে খবর। তার বয়স হয়েছিল ৯৪ বছর।

 

প্রায় পাঁচ দশক ধরে এডিনবরা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেছেন হিগস। মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে জারি করা এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘সোমবার, ৮ এপ্রিল নিজের বাড়িতে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন পিটার হিগস। তিনি একজন মহান শিক্ষক ও দূরদর্শী বিজ্ঞানী ছিলেন। হিগস ছিলেন নতুন যুগের উঠতি বিজ্ঞানীদের অনুপ্রেরণার উৎস।’ বিবৃতিতে আরো বলা হয়, হিগসের মৃত্যুতে তার পরিবার শোকগ্রস্ত। তাই এই মুহূর্তে সংবাদমাধ্যম ও জনতার কাছে ব্যক্তিগত পরিসরকে সম্মান জানানোর অনুরোধ করেছেন তারা।

 

 

 

 

উল্লেখ্য, ১৯৬৪ সালে হিগস বোসন তথা ‘ঈশ্বর কণা’র অস্তিত্বের কথা বলে বৈজ্ঞানিক মহলে পুরোদস্তুর হইচই ফেলে দেন হিগস। তার প্রায় পাঁচ দশক পরে জেনেভার ‘ইউরোপিয়ান অর্গানাইজেশন ফর নিউক্লিয়ার রিসার্চে লার্জ হেড্রোন কলাইডার যন্ত্রের পরীক্ষা ‘ঈশ্বর কণা’র উপস্থিতি প্রমাণিত করে। যুগান্তকারী এই থিয়োরির জন্য ২০১৩ সালে পদার্থবিদ্যায় যৌথভাবে নোবেল পুরস্কার পান হিগস।

 

বিজ্ঞানের জটিল তত্ত্বকে সহজ করে বললে, হিগস বোসন কণা অন্য কণা বা পার্টিকেলকে ভর জোগায়। এই মহাবিশ্বে কত জিনিস- অণু-পরমাণু থেকে কত নক্ষত্র-গ্রহরা বিরাজমান। এত সব ঠিকঠাক আছে, বস্তুর ভর আছে বলে। তাই তারা আলোর কণা ফোটনের (যার ভর নেই) মতো দিগ্বিদিকে সেকেন্ডে তিন লাখ কিলোমিটার বেগে ছুটে বেড়াচ্ছে না। হিগস বোসন যদি অন্য কণাকে ভর না জোগাত, তা হলে এই মহাবিশ্ব হয়ে যেত লণ্ডভণ্ড। এ কারণে কণারাজ্যের সর্বশ্রেষ্ঠ তত্ত্ব স্ট্যান্ডার্ড মডেলের মাথা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে হিগস বোসনকে।

 

কালের চিঠি / আশিকুর।

Tag :

হিগস বোসন তথা ‘ঈশ্বর কণা’র আবিষ্কারক নোবেলজয়ী পিটার হিগস আর নেই

Update Time : ০৫:৫০:০৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১০ এপ্রিল ২০২৪

 

স্কটল্যান্ডের রাজধানী এডিনবরায় নিজের বাড়িতেই শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেছেন এই ব্রিটিশ বিজ্ঞানী বলে খবর। তার বয়স হয়েছিল ৯৪ বছর।

 

প্রায় পাঁচ দশক ধরে এডিনবরা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেছেন হিগস। মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে জারি করা এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘সোমবার, ৮ এপ্রিল নিজের বাড়িতে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন পিটার হিগস। তিনি একজন মহান শিক্ষক ও দূরদর্শী বিজ্ঞানী ছিলেন। হিগস ছিলেন নতুন যুগের উঠতি বিজ্ঞানীদের অনুপ্রেরণার উৎস।’ বিবৃতিতে আরো বলা হয়, হিগসের মৃত্যুতে তার পরিবার শোকগ্রস্ত। তাই এই মুহূর্তে সংবাদমাধ্যম ও জনতার কাছে ব্যক্তিগত পরিসরকে সম্মান জানানোর অনুরোধ করেছেন তারা।

 

 

 

 

উল্লেখ্য, ১৯৬৪ সালে হিগস বোসন তথা ‘ঈশ্বর কণা’র অস্তিত্বের কথা বলে বৈজ্ঞানিক মহলে পুরোদস্তুর হইচই ফেলে দেন হিগস। তার প্রায় পাঁচ দশক পরে জেনেভার ‘ইউরোপিয়ান অর্গানাইজেশন ফর নিউক্লিয়ার রিসার্চে লার্জ হেড্রোন কলাইডার যন্ত্রের পরীক্ষা ‘ঈশ্বর কণা’র উপস্থিতি প্রমাণিত করে। যুগান্তকারী এই থিয়োরির জন্য ২০১৩ সালে পদার্থবিদ্যায় যৌথভাবে নোবেল পুরস্কার পান হিগস।

 

বিজ্ঞানের জটিল তত্ত্বকে সহজ করে বললে, হিগস বোসন কণা অন্য কণা বা পার্টিকেলকে ভর জোগায়। এই মহাবিশ্বে কত জিনিস- অণু-পরমাণু থেকে কত নক্ষত্র-গ্রহরা বিরাজমান। এত সব ঠিকঠাক আছে, বস্তুর ভর আছে বলে। তাই তারা আলোর কণা ফোটনের (যার ভর নেই) মতো দিগ্বিদিকে সেকেন্ডে তিন লাখ কিলোমিটার বেগে ছুটে বেড়াচ্ছে না। হিগস বোসন যদি অন্য কণাকে ভর না জোগাত, তা হলে এই মহাবিশ্ব হয়ে যেত লণ্ডভণ্ড। এ কারণে কণারাজ্যের সর্বশ্রেষ্ঠ তত্ত্ব স্ট্যান্ডার্ড মডেলের মাথা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে হিগস বোসনকে।

 

কালের চিঠি / আশিকুর।