রবিবার, ২৬ মে ২০২৪, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

ঈদ আনন্দে মেতে ওঠার অপেক্ষায়

সবাই যাচ্ছে বাড়ি, আমি যাচ্ছি না।

বাড়ি নেই?
বাড়ি আছে,
আমি নেই সে বাড়িতে…
— এমন আক্ষেপ যেনো আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে উৎসবে। যখন সকলে ছুটছে বাড়ি, নাড়িপোঁতা গ্রামে, মফস্বলে কিংবা প্রিয়জনের সান্নিধ্যে; কেবলই আনন্দে, ঈদ উদযাপনে। এই ঈদ মানেই ঘরে-বাইরে আনন্দ। আবার ঈদ মানে ফেরা, বছর ঘুরে আনন্দের ফিরে ফিরে আসা। ধর্মীয় এমন অর্থ সামাজিক দৃষ্টিকোন থেকেও সমার্থক হয়ে ওঠে। যারা দায়িত্ব-কর্তব্যের বেড়াজালে প্রিয়জনের কাছে পৌঁছাতে পারেন না, তারা স্বান্তনা দেন অবুঝ মনকে।

রাজধানীতে এক বাস চালক যেমন বলছিলেন, তিনি ঈদে বাড়ি যাচ্ছেন না। কারণ হিসেবে জানালেন, তিনি বাড়ি গেলে তো সাধারণ মানুষরা ঈদে ঘরে ফিরতে পারবেন না।

আনসার বাহিনীর এক সদস্যও যেমনটা বলছিলেন, ঈদে সবাই ছুটিতে গেলে তাদের দায়িত্বটা পালন করার জন্য কেউ থাকবে না। তাই ধাপে ধাপে ছুটিতে যেতে হয়। ঢাকার এক পোশাক বিক্রেতা বলেন, আমরা ঈদের আনন্দটা তেমন উপভোগ করতে পারি না। নামাজ পড়ে ঘুমাতে হয়।

রাত পেরোলেই যে ঈদ, তাতে যাপিত জীবনের সব দুঃখ-কষ্ট ভুলে যেতে চান ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা। ঈদের আনন্দে চেনা-পরিজনে সকলে একসুরে গলা মেলাতে চান। তাই তো ছুটে চলার কষ্টটাও কষ্ট মনে হয় না কারো। যেতে যেতে মনে পড়ে ছেলেবেলার ঈদ। থাকে উদযাপনের পরিকল্পনা।

এই সময়ের ঈদ আর সেই সময়, মানে ফেলে আসা দিনের ঈদগুলোর ফারাক আছে কোনো? সবই তো উৎসব আয়োজন! যৌথপরিবার ভেঙে যাওয়ার কাল আর ছুটে চলা সময় ঈদের অভিজ্ঞতা বদলে দেয়।

যেমন ঢাকার এক মধ্যবয়স্ক বাসিন্দা বলেন, আগে বাবা-মা, ভাই-বোনরা মিলে ঈদ করতাম। এখন যে যার যার মতো একা একা ঈদ করে। এক ছোট্ট শিশু যেমন আক্ষেপ করছিলেন, তার বাবা কর্মের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে থাকেন, তাই কাছে পান না। এজন্য খারাপ লাগে তার।

সবকিছু ছাপিয়ে পারিবারিক আর সামাজিক সম্মিলনের কারণেই হয়তো নাগরিক জীবনে ঈদের গুরুত্ব কেবল ধর্মীয় গাম্ভীর্যে সীমাবদ্ধ নেই।

ঢাকা বিশ্বাবিদ্যালয়ের আরবী বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম বলেন, জাহেলিয়াত যুগে যাদের অর্থ ছিল তারা আনন্দ-ফুর্তি করতো। ঈদ এসে ধনীদের সাথে গরীবদেরও আনন্দ উদযাপনের সুযোগটা দিয়েছে।

এই শিক্ষকের মতে, রহমত, মাগফেরাত আর নাজাতের রমজান শেষে যে ঈদ এর শিক্ষা ধারন ও চর্চা করলে বদলে যাবে সমাজ।

ড. মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম বললেন, ঈদগাহতে আমরা সবাই একসাথে সুন্দরভাবে মিশছি। এই শিক্ষাটি আমাদের ধরে রাখতে হবে। তাহলে আমরা চমৎকার একটা সুন্দর সমাজ পাবো।

এ উপদযাপনে অনেকের চাঁদরাতেও ঘরে ফেরার তাড়া কিংবা ঈদ অনুসঙ্গ সংগ্রহের ব্যস্ততায় কমতি থাকে না। যার যতটুকু সাধ্য, ঠিক সেভাবেই তার ঘরে উঁকি দেয় ঈদের চাঁদ। রাত পেরোলে যে নতুন দিনের আলো, তা ঈদের দিন হয়ে আনন্দ আর হর্ষে ভরাবে সকলকে, জগতকে— এমন প্রত্যাশা ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের।

কালের চিঠি / আলিফ

Tag :

ঈদ আনন্দে মেতে ওঠার অপেক্ষায়

Update Time : ১০:২৩:৫৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১০ এপ্রিল ২০২৪

সবাই যাচ্ছে বাড়ি, আমি যাচ্ছি না।

বাড়ি নেই?
বাড়ি আছে,
আমি নেই সে বাড়িতে…
— এমন আক্ষেপ যেনো আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে উৎসবে। যখন সকলে ছুটছে বাড়ি, নাড়িপোঁতা গ্রামে, মফস্বলে কিংবা প্রিয়জনের সান্নিধ্যে; কেবলই আনন্দে, ঈদ উদযাপনে। এই ঈদ মানেই ঘরে-বাইরে আনন্দ। আবার ঈদ মানে ফেরা, বছর ঘুরে আনন্দের ফিরে ফিরে আসা। ধর্মীয় এমন অর্থ সামাজিক দৃষ্টিকোন থেকেও সমার্থক হয়ে ওঠে। যারা দায়িত্ব-কর্তব্যের বেড়াজালে প্রিয়জনের কাছে পৌঁছাতে পারেন না, তারা স্বান্তনা দেন অবুঝ মনকে।

রাজধানীতে এক বাস চালক যেমন বলছিলেন, তিনি ঈদে বাড়ি যাচ্ছেন না। কারণ হিসেবে জানালেন, তিনি বাড়ি গেলে তো সাধারণ মানুষরা ঈদে ঘরে ফিরতে পারবেন না।

আনসার বাহিনীর এক সদস্যও যেমনটা বলছিলেন, ঈদে সবাই ছুটিতে গেলে তাদের দায়িত্বটা পালন করার জন্য কেউ থাকবে না। তাই ধাপে ধাপে ছুটিতে যেতে হয়। ঢাকার এক পোশাক বিক্রেতা বলেন, আমরা ঈদের আনন্দটা তেমন উপভোগ করতে পারি না। নামাজ পড়ে ঘুমাতে হয়।

রাত পেরোলেই যে ঈদ, তাতে যাপিত জীবনের সব দুঃখ-কষ্ট ভুলে যেতে চান ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা। ঈদের আনন্দে চেনা-পরিজনে সকলে একসুরে গলা মেলাতে চান। তাই তো ছুটে চলার কষ্টটাও কষ্ট মনে হয় না কারো। যেতে যেতে মনে পড়ে ছেলেবেলার ঈদ। থাকে উদযাপনের পরিকল্পনা।

এই সময়ের ঈদ আর সেই সময়, মানে ফেলে আসা দিনের ঈদগুলোর ফারাক আছে কোনো? সবই তো উৎসব আয়োজন! যৌথপরিবার ভেঙে যাওয়ার কাল আর ছুটে চলা সময় ঈদের অভিজ্ঞতা বদলে দেয়।

যেমন ঢাকার এক মধ্যবয়স্ক বাসিন্দা বলেন, আগে বাবা-মা, ভাই-বোনরা মিলে ঈদ করতাম। এখন যে যার যার মতো একা একা ঈদ করে। এক ছোট্ট শিশু যেমন আক্ষেপ করছিলেন, তার বাবা কর্মের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে থাকেন, তাই কাছে পান না। এজন্য খারাপ লাগে তার।

সবকিছু ছাপিয়ে পারিবারিক আর সামাজিক সম্মিলনের কারণেই হয়তো নাগরিক জীবনে ঈদের গুরুত্ব কেবল ধর্মীয় গাম্ভীর্যে সীমাবদ্ধ নেই।

ঢাকা বিশ্বাবিদ্যালয়ের আরবী বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম বলেন, জাহেলিয়াত যুগে যাদের অর্থ ছিল তারা আনন্দ-ফুর্তি করতো। ঈদ এসে ধনীদের সাথে গরীবদেরও আনন্দ উদযাপনের সুযোগটা দিয়েছে।

এই শিক্ষকের মতে, রহমত, মাগফেরাত আর নাজাতের রমজান শেষে যে ঈদ এর শিক্ষা ধারন ও চর্চা করলে বদলে যাবে সমাজ।

ড. মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম বললেন, ঈদগাহতে আমরা সবাই একসাথে সুন্দরভাবে মিশছি। এই শিক্ষাটি আমাদের ধরে রাখতে হবে। তাহলে আমরা চমৎকার একটা সুন্দর সমাজ পাবো।

এ উপদযাপনে অনেকের চাঁদরাতেও ঘরে ফেরার তাড়া কিংবা ঈদ অনুসঙ্গ সংগ্রহের ব্যস্ততায় কমতি থাকে না। যার যতটুকু সাধ্য, ঠিক সেভাবেই তার ঘরে উঁকি দেয় ঈদের চাঁদ। রাত পেরোলে যে নতুন দিনের আলো, তা ঈদের দিন হয়ে আনন্দ আর হর্ষে ভরাবে সকলকে, জগতকে— এমন প্রত্যাশা ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের।

কালের চিঠি / আলিফ