রবিবার, ২৬ মে ২০২৪, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

যুগে যুগে নজরুলের গানে ঈদ

কবি কাজী নজরুল ইসলামের নাম আসলেই প্রথম যে শব্দ মাথায় আসে তা হলো ‘বিদ্রোহী’। তবে এই পরিচয় ছাড়াও কবির রয়েছে অনেক পরিচিতি। প্রেমের কবি, সাম্যের কবি ও মুসলিম রেনেসাঁর কবি। তার লিখা ‘ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ’ গানটি ছাড়া বাঙালি মুসলিমদের ঈদ যেন অসম্পন্ন থেকে যায়। রমজান মাস শেষে পশ্চিম আকাশে শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখার সাথে সাথে এই গান প্রচারের মধ্য দিয়ে শুরু হয় বাঙালি মুসলমানদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব ঈদ-উল-ফিতর।

সময়টা ছিল ১৯৩১ সাল! তখনো রমজানের রোজা শুরু হয়নি। তবে মাসিক মোহাম্মদী’র ঈদ সংখ্যা প্রকাশের প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে। একদিন বিকেল চারটার দিকে কবি কাজী নজরুল ইসলাম এলেন মোহাম্মদী’র সম্পাদক মওলানা আকরম খাঁর কাছে কোলকাতার অফিসে।

এসেই কবি বললেন, চার আনা পয়সা দেন চাচা দুপুরে খাইনি। পকেটে হাত দিয়ে একটা সিকি বের করে দিয়ে মওলানা আকরম খাঁ বললেন, এই নাও চার আনা পয়সা, বাইরে থেকে খেয়ে এসো। তারপর একটা কবিতা দিয়ে যাবে মাসিক মোহাম্মদী’র ঈদ সংখ্যার জন্য। খেতে গেলেন না নজরুল। কলম হাতে নিয়ে লিখতে বসে গেলেন। আধ ঘণ্টার মধ্যে লেখা শেষ করে মওলানা আকরম খাঁর হাতে খাতাটি ধরিয়ে দিয়ে বললেন ‘কবিতাটি পড়েন চাচা, আমি খেয়ে আসি’। এটাই সেই বিখ্যাত কবিতা, ‘ও মন রমজানের ওই রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ।’

লেখার চারদিন পর কবির শিষ্য শিল্পী আব্বাস উদ্দীনের গলায় গানটি রেকর্ড করা হয়। রেকর্ড করার দুই মাস পরে ঈদের আগে এই রেকর্ড প্রকাশ হয়। গ্রামফোন কোম্পানি এই রেকর্ড প্রকাশ করে। বাংলা ইসলামি গানের প্রথম রেকর্ড হিসেবে ‘সুপার-ডুপার হিট’।

কাজী নজরুল ইসলামের ঈদের কালজয়ী এই গানটিতে আনন্দ-উচ্ছ্বাস, সাম্য ও ভ্রাতৃত্ব, ইসলামের মমার্থ, ঈদের তাৎপর্য নিখুঁতভাবে ফুটে উঠেছে। এই গান ছাড়া যেমন ঈদের আনন্দ পূর্ণতা পায় না, তেমনি ইসলামে মানব প্রেমের গুরুত্ব যে অপরিসীম, সে বিষয়টিও দ্যার্থহীনভাবে উচ্চারিত হয়েছে এই গানে। গানের একটি জায়গায় নজরুল পরিষ্কার করে বলেছেন, ‘আজ ভুলে যা তোর দোস্ত-দুশমন, হাত মেলাও হাতে, তোর প্রেম দিয়ে কর বিশ্ব নিখিল ইসলামে মুরিদ, ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ।’ অর্থাৎ ঈদের এই আনন্দক্ষণে শত্রুতা ভুলে প্রেম বিতরণের মধ্য দিয়ে গোটা বিশ্বকে ইসলামের মুরিদ বানানোর পরামর্শ দিয়েছেন কবি।

কবি আজ নেই, তবে রয়ে গেছে তার সৃষ্টকর্ম। এই গানের মধ্য দিয়ে অমর হয়ে থাকবেন কবি নজরুল

কালের চিঠি / আলিফ

Tag :

যুগে যুগে নজরুলের গানে ঈদ

Update Time : ০৭:৪৭:৩৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ এপ্রিল ২০২৪

কবি কাজী নজরুল ইসলামের নাম আসলেই প্রথম যে শব্দ মাথায় আসে তা হলো ‘বিদ্রোহী’। তবে এই পরিচয় ছাড়াও কবির রয়েছে অনেক পরিচিতি। প্রেমের কবি, সাম্যের কবি ও মুসলিম রেনেসাঁর কবি। তার লিখা ‘ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ’ গানটি ছাড়া বাঙালি মুসলিমদের ঈদ যেন অসম্পন্ন থেকে যায়। রমজান মাস শেষে পশ্চিম আকাশে শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখার সাথে সাথে এই গান প্রচারের মধ্য দিয়ে শুরু হয় বাঙালি মুসলমানদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব ঈদ-উল-ফিতর।

সময়টা ছিল ১৯৩১ সাল! তখনো রমজানের রোজা শুরু হয়নি। তবে মাসিক মোহাম্মদী’র ঈদ সংখ্যা প্রকাশের প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে। একদিন বিকেল চারটার দিকে কবি কাজী নজরুল ইসলাম এলেন মোহাম্মদী’র সম্পাদক মওলানা আকরম খাঁর কাছে কোলকাতার অফিসে।

এসেই কবি বললেন, চার আনা পয়সা দেন চাচা দুপুরে খাইনি। পকেটে হাত দিয়ে একটা সিকি বের করে দিয়ে মওলানা আকরম খাঁ বললেন, এই নাও চার আনা পয়সা, বাইরে থেকে খেয়ে এসো। তারপর একটা কবিতা দিয়ে যাবে মাসিক মোহাম্মদী’র ঈদ সংখ্যার জন্য। খেতে গেলেন না নজরুল। কলম হাতে নিয়ে লিখতে বসে গেলেন। আধ ঘণ্টার মধ্যে লেখা শেষ করে মওলানা আকরম খাঁর হাতে খাতাটি ধরিয়ে দিয়ে বললেন ‘কবিতাটি পড়েন চাচা, আমি খেয়ে আসি’। এটাই সেই বিখ্যাত কবিতা, ‘ও মন রমজানের ওই রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ।’

লেখার চারদিন পর কবির শিষ্য শিল্পী আব্বাস উদ্দীনের গলায় গানটি রেকর্ড করা হয়। রেকর্ড করার দুই মাস পরে ঈদের আগে এই রেকর্ড প্রকাশ হয়। গ্রামফোন কোম্পানি এই রেকর্ড প্রকাশ করে। বাংলা ইসলামি গানের প্রথম রেকর্ড হিসেবে ‘সুপার-ডুপার হিট’।

কাজী নজরুল ইসলামের ঈদের কালজয়ী এই গানটিতে আনন্দ-উচ্ছ্বাস, সাম্য ও ভ্রাতৃত্ব, ইসলামের মমার্থ, ঈদের তাৎপর্য নিখুঁতভাবে ফুটে উঠেছে। এই গান ছাড়া যেমন ঈদের আনন্দ পূর্ণতা পায় না, তেমনি ইসলামে মানব প্রেমের গুরুত্ব যে অপরিসীম, সে বিষয়টিও দ্যার্থহীনভাবে উচ্চারিত হয়েছে এই গানে। গানের একটি জায়গায় নজরুল পরিষ্কার করে বলেছেন, ‘আজ ভুলে যা তোর দোস্ত-দুশমন, হাত মেলাও হাতে, তোর প্রেম দিয়ে কর বিশ্ব নিখিল ইসলামে মুরিদ, ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ।’ অর্থাৎ ঈদের এই আনন্দক্ষণে শত্রুতা ভুলে প্রেম বিতরণের মধ্য দিয়ে গোটা বিশ্বকে ইসলামের মুরিদ বানানোর পরামর্শ দিয়েছেন কবি।

কবি আজ নেই, তবে রয়ে গেছে তার সৃষ্টকর্ম। এই গানের মধ্য দিয়ে অমর হয়ে থাকবেন কবি নজরুল

কালের চিঠি / আলিফ