শনিবার, ২৫ মে ২০২৪, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

দেশের বিভিন্ন জায়গায় কালবৈশাখীর তাণ্ডব, ছয় জেলায় নিহত ৯

দেশের বিভিন্ন জায়গায় কালবৈশাখী ঝড় তাণ্ডব চালিয়েছে। এতে ঝালকাঠিতে বজ্রপাতে নারী ও শিশুসহ তিনজন, পটুয়াখালীর বাউফলে দু’জন, ভোলা, পিরোজপুর, নেত্রকোণা ও বাগেরহাটে একজন করে নিহত হয়েছেন। এছাড়া অন্তত ২৫ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

রোববার (৭ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে ঝালকাঠিতে প্রবল ঝড় ও বর্ষণের সাথে ব্যাপক বজ্রপাত হয়। এ সময় জেলার কাঠালিয়া উপজেলার আওড়াবুনিয়া ইউনিয়নের মুন্সিরাবাদ গ্রামে হেলেনা বেগম (৪৪) নামে একজন বজ্রপাতে মারা যান।

জেলাটির সদর উপজেলার পোনাবালিয়া ইউনিয়নের ইসালিয়া গ্রামে নিহত হয়েছে মাহিয়া আক্তার (১২) নামের এক শিশু। সে মাঠে গরু আনতে গিয়ে বজ্রপাতে প্রাণ হারায়। এছাড়া, সদর উপজেলার শেখের ইউনিয়নে বজ্রপাতে মিনারা বেগম নামে এক নারী গুরুতর আহত হন। পরে দুপুরের দিকে তিনিও মারা যান।

ঝালকাঠি সদর থানার ওসি শহিদুল ইসলাম বলেন, রোববার সকাল ১০টার পর প্রবল বর্ষণে জেলার অনেক জায়গায় গাছ উপড়ে গেছে। এতে বিভিন্ন জায়গায় শতাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। সকাল থেকেই গোটা জেলা বিদ্যুত বিচ্ছিন্ন ছিল।

এদিকে, কালবৈশাখী ঝড়ের প্রভাবে লণ্ডভণ্ড হয়েছে গেছে পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলা। ঝড়ের সময় গাছচাপা পড়ে একজন মারা গেছেন এবং এক শিশুকে ঝড়ের পর রাস্তায় মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে। এছাড়া অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। উপজেলায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে শঙ্কা চিকিৎসকদের।

বেলা ১১টার দিকে বাউফলে কালবৈশাখী ঝড় আঘাত হানে। এ সময় দাশপাড়া ইউনিয়নের চরালকী গ্রামে গাছের নিচে পড়ে সাফিয়া রহমান (৯০) এবং নাজিরপুর ইউনিয়নের রায় তাতেরকাঠি গ্রামে রাতুল (১৩) নামে এক শিশু মারা যান। এছাড়া ঝড়ে গাছ ও গাছের ডাল ভেঙে পড়ে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে সাত জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশালে পাঠানো হয়। সেখান থেকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তিন জনকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। কালবৈশাখী ঝড়ে উপজেলায় অর্ধশত ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।

ভোলা জেলার লালমোহন ও মনপুরা উপজেলায় কালবৈশাখী ঝড়ে প্রায় শতাধিক কাঁচা বসতঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। এছাড়াও লালমোহন উপজেলার বদরপুর ইউনিয়নে কাঁচা ঘরের চাপা পড়ে মো. হারিচ আহমেদ নামে একজনের মৃত্যু হয়েছে। হারিচ ভিক্ষাবৃত্তি করতেন। ভিক্ষা করতে বের হয়ে তিনি ঝড়ের সময় মনির হোসেন নামে এক ব্যক্তির বসতঘরের সামনে আশ্রয় নিয়েছিলেন। নিহত ওই ব্যক্তি ভোলার লালমোহন উপজেলার ফরাজগঞ্জ ইউনিয়নের বাসিন্দা। এছাড়া জেলায় কমপক্ষে দুজন আহতের খবর পাওয়া গেছে।

পিরোজপুরবাসীও দেখেছে কালবৈশাখীর তাণ্ডব। সকাল পৌনে ১০টার দিকে শুরু হয় ঝড়। প্রায় ১৫ মিনিটের এ ঝড়ে পিরোজপুর পৌরসভা ও সদর উপজেলার বেশ কয়েকটি এলাকায় শতশত গাছ উপড়ে পড়ে। এসময় পৌর এলাকার শারিকতলা ইউনিয়নের মরিচাল গ্রামে ঘরে গাছচাপা পড়ে রুবী বেগম (২২) নামে এক নারী নিহত হন। এ ঘটনায় ২ জন আহত হয়েছেন।

পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহেদুর রহমান জানান, ঝড়ে গাছপালা উপড়ে পড়ে পিরোজপুরের সদর উপজেলা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনও নির্ণয় করা সম্ভব হয়নি।

এদিকে, নেত্রকোণার খালিয়াজুরীতে বজ্রপাতে শহীদ মিয়া (৫২) নামে একজন প্রাণ হারিয়েছেন। অন্যদিকে, বাগেরহাট জেলার কচুয়া উপজেলার চর সোনাকুর এলাকায় বজ্রপাতে লিকসান সরদার নামে নিহত হয়েছেন আরেকজন।

এছাড়া, সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জে কালবৈশাখী ঝড়ের কবলে পড়ে আহত একজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। তিনি গত ৩১ মার্চ রাতে ঝড়ের কবলে পড়ে আহত হন। শনিবার (৬ এপ্রিল) রাতে সিলেটের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন তিনি।

নিহত ওই যুবকের নাম মো. আক্তার হোসেন (৩৫)। তিনি সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার লক্ষণশ্রী ইউনিয়নের কলাইয়া গ্রামের আফিছ আলীর ছেলে। আক্তার কলাইয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দপ্তরি কাম অফিস সহায়ক পদে কর্মরত ছিলেন।

কালের চিঠি / আলিফ

Tag :

দেশের বিভিন্ন জায়গায় কালবৈশাখীর তাণ্ডব, ছয় জেলায় নিহত ৯

Update Time : ০১:০২:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ এপ্রিল ২০২৪

দেশের বিভিন্ন জায়গায় কালবৈশাখী ঝড় তাণ্ডব চালিয়েছে। এতে ঝালকাঠিতে বজ্রপাতে নারী ও শিশুসহ তিনজন, পটুয়াখালীর বাউফলে দু’জন, ভোলা, পিরোজপুর, নেত্রকোণা ও বাগেরহাটে একজন করে নিহত হয়েছেন। এছাড়া অন্তত ২৫ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

রোববার (৭ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে ঝালকাঠিতে প্রবল ঝড় ও বর্ষণের সাথে ব্যাপক বজ্রপাত হয়। এ সময় জেলার কাঠালিয়া উপজেলার আওড়াবুনিয়া ইউনিয়নের মুন্সিরাবাদ গ্রামে হেলেনা বেগম (৪৪) নামে একজন বজ্রপাতে মারা যান।

জেলাটির সদর উপজেলার পোনাবালিয়া ইউনিয়নের ইসালিয়া গ্রামে নিহত হয়েছে মাহিয়া আক্তার (১২) নামের এক শিশু। সে মাঠে গরু আনতে গিয়ে বজ্রপাতে প্রাণ হারায়। এছাড়া, সদর উপজেলার শেখের ইউনিয়নে বজ্রপাতে মিনারা বেগম নামে এক নারী গুরুতর আহত হন। পরে দুপুরের দিকে তিনিও মারা যান।

ঝালকাঠি সদর থানার ওসি শহিদুল ইসলাম বলেন, রোববার সকাল ১০টার পর প্রবল বর্ষণে জেলার অনেক জায়গায় গাছ উপড়ে গেছে। এতে বিভিন্ন জায়গায় শতাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। সকাল থেকেই গোটা জেলা বিদ্যুত বিচ্ছিন্ন ছিল।

এদিকে, কালবৈশাখী ঝড়ের প্রভাবে লণ্ডভণ্ড হয়েছে গেছে পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলা। ঝড়ের সময় গাছচাপা পড়ে একজন মারা গেছেন এবং এক শিশুকে ঝড়ের পর রাস্তায় মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে। এছাড়া অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। উপজেলায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে শঙ্কা চিকিৎসকদের।

বেলা ১১টার দিকে বাউফলে কালবৈশাখী ঝড় আঘাত হানে। এ সময় দাশপাড়া ইউনিয়নের চরালকী গ্রামে গাছের নিচে পড়ে সাফিয়া রহমান (৯০) এবং নাজিরপুর ইউনিয়নের রায় তাতেরকাঠি গ্রামে রাতুল (১৩) নামে এক শিশু মারা যান। এছাড়া ঝড়ে গাছ ও গাছের ডাল ভেঙে পড়ে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে সাত জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশালে পাঠানো হয়। সেখান থেকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তিন জনকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। কালবৈশাখী ঝড়ে উপজেলায় অর্ধশত ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।

ভোলা জেলার লালমোহন ও মনপুরা উপজেলায় কালবৈশাখী ঝড়ে প্রায় শতাধিক কাঁচা বসতঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। এছাড়াও লালমোহন উপজেলার বদরপুর ইউনিয়নে কাঁচা ঘরের চাপা পড়ে মো. হারিচ আহমেদ নামে একজনের মৃত্যু হয়েছে। হারিচ ভিক্ষাবৃত্তি করতেন। ভিক্ষা করতে বের হয়ে তিনি ঝড়ের সময় মনির হোসেন নামে এক ব্যক্তির বসতঘরের সামনে আশ্রয় নিয়েছিলেন। নিহত ওই ব্যক্তি ভোলার লালমোহন উপজেলার ফরাজগঞ্জ ইউনিয়নের বাসিন্দা। এছাড়া জেলায় কমপক্ষে দুজন আহতের খবর পাওয়া গেছে।

পিরোজপুরবাসীও দেখেছে কালবৈশাখীর তাণ্ডব। সকাল পৌনে ১০টার দিকে শুরু হয় ঝড়। প্রায় ১৫ মিনিটের এ ঝড়ে পিরোজপুর পৌরসভা ও সদর উপজেলার বেশ কয়েকটি এলাকায় শতশত গাছ উপড়ে পড়ে। এসময় পৌর এলাকার শারিকতলা ইউনিয়নের মরিচাল গ্রামে ঘরে গাছচাপা পড়ে রুবী বেগম (২২) নামে এক নারী নিহত হন। এ ঘটনায় ২ জন আহত হয়েছেন।

পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহেদুর রহমান জানান, ঝড়ে গাছপালা উপড়ে পড়ে পিরোজপুরের সদর উপজেলা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনও নির্ণয় করা সম্ভব হয়নি।

এদিকে, নেত্রকোণার খালিয়াজুরীতে বজ্রপাতে শহীদ মিয়া (৫২) নামে একজন প্রাণ হারিয়েছেন। অন্যদিকে, বাগেরহাট জেলার কচুয়া উপজেলার চর সোনাকুর এলাকায় বজ্রপাতে লিকসান সরদার নামে নিহত হয়েছেন আরেকজন।

এছাড়া, সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জে কালবৈশাখী ঝড়ের কবলে পড়ে আহত একজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। তিনি গত ৩১ মার্চ রাতে ঝড়ের কবলে পড়ে আহত হন। শনিবার (৬ এপ্রিল) রাতে সিলেটের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন তিনি।

নিহত ওই যুবকের নাম মো. আক্তার হোসেন (৩৫)। তিনি সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার লক্ষণশ্রী ইউনিয়নের কলাইয়া গ্রামের আফিছ আলীর ছেলে। আক্তার কলাইয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দপ্তরি কাম অফিস সহায়ক পদে কর্মরত ছিলেন।

কালের চিঠি / আলিফ