সোমবার, ২৭ মে ২০২৪, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

চট্টগ্রাম টেস্টে জয়ের সুবাস পাচ্ছে শ্রীলঙ্কা

 

চট্টগ্রাম টেস্টে শ্রীলঙ্কার দেয়া ৫১১ রানের বিশাল লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে সুবিধা করতে পারেনি বাংলাদেশের ব্যাটাররা। নয় ব্যাটারই দুই অঙ্কের ঘরে রান করলেও বড় ইনিংস খেলতে ব্যর্থ হয়েছেন তারা। একমাত্র ব্যাটার হিসেবে মুমিনুল হকই অর্ধশতক পূর্ণ করেন। চতুর্থ দিন শেষে ৭ উইকেট হারিয়ে স্বাগতিকদের সংগ্রহ ২৬৮ রান। মিরাজ (৪৪*) ও তাইজুল (১০*) অপরাজিত আছেন।

 

মঙ্গলবার (২ এপ্রিল) চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরি স্টেডিয়ামে ৬ উইকেটে ১০২ রান নিয়ে দিনের খেলা শুরু করে শ্রীলঙ্কা। অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউজ ৩৯ ও প্রভাত জয়াসুরিয়া ৩ রান নিয়ে খেলা শুরু করেন। ৫৬ রান করা ম্যাথিউজকে বোল্ড করেন সাকিব। ২৮ রান করে অপরাজিত থাকেন প্রভাত জয়সুরিয়া।

 

রান তাড়ায় শুরুটা ভালো করেছিলেন বাংলাদেশের দুই ওপেনার জাকির হাসান ও মাহমুদুল হাসান জয়। লাঞ্চের আগে পর্যন্ত বেশ সাবলীল ব্যাটিং করছিলেন তারা। তবে এরপরই ঘটে ছন্দপতন, প্রবাত জয়াসুরিয়ার বলে বোল্ড হয়ে প্যাভিলিয়নে ফেরেন জয়। তার আগে ৩২ বলে ৩ বাউন্ডারিতে করেছেন ২৪ রান।

 

বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি জাকিরও। বিশ্ব ফার্নান্দোর অফ স্ট্যাম্পের বাইরের বলে খোঁচা মেরে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে ফিরেছেন তিনি। তার আগে টাইগার ওপেনারের ব্যাট থেকে এসেছে ৩৯ বলে ১৯ রান। এরপর শুরুর ধাক্কা সামাল দেয়ার চেষ্টা করছেন নাজমুল হোসেন শান্ত ও মুমিনুল হক। দুজনেই করছিলেন সাবলীল ব্যাটিং। লঙ্কানদের বিপক্ষে গত দিন ইনিংসে এক অঙ্কের ঘরে আউট হওয়া শান্ত এদিন বড় ইনিংস খেলার ইঙ্গিত দিলেও সমর্থকদের হতাশ করেন। লাহিরু কুমারার বলে বোল্ড হওয়ার আগে ৫৫ বলে ২ বাউন্ডারিতে করেছেন ২০ রান।

 

উইকেটে আসার পর থেকেই দারুণ ব্যাটিং করা মুমিনুল ৫৫ বলে পান ফিফটির দেখা। সেশনের একদম শেষ ওভারে মুমিনুল হক আউট হয়ে দলের বিপদ আরও বাড়িয়ে দিয়ে যান। বড্ড হতাশার লাঞ্চ বিরতি থেকে ফিরে এসে দাপট দেখান সাকিব আল হাসান আর লিটন কুমার দাস। এই দুজনের জুটিতে রীতিমতো স্বস্তি ফিরে আসে টাইগার শিবিরে। প্রথম ইনিংসে ব্যর্থ হওয়া সাকিব এই ইনিংসে বেশ দেখে-শুনেই খেলতে থাকেন লঙ্কান বোলারদের। কিন্তু হঠাৎই সাকিবকে বিপাকে ফেলেন আনকোরা কামিন্দু মেন্ডিস। সাকিবকে ফিরিয়েই কামিন্দু দখলে নেন নিজের প্রথম টেস্ট উইকেট।

 

৬১ রানের পার্টনারশিপ ভাঙে সাকিবের বিদায়ে। ৩৬ রানে থাকা সাকিবকে বেশ হতাশা নিয়েই ফিরে যেতে হয় প্যাভিলিয়নে। সাকিবের বিদায়ের পরও দারুণ খেলতে থাকেন লিটন দাস। কিন্তু মুহূর্তেই যেন ছন্দপতন, সেই পুরানো রোগ। অফ স্টাম্পের অনেক বাইরে দিয়ে যাওয়া বল পুল করতে গিয়ে ব্যর্থ লিটন, উইকেটকিপারের গ্লাভসে হয়েছেন ক্যাচ। ৭২ বল খেলে ৩৮ করে ফিরলেন লিটন, বাংলাদেশের ষষ্ঠ উইকেটের পতন।

 

শাহাদাত হোসেন দীপুও পারেননি তেমন কিছুই করতে। কামিন্দু মেন্ডিসের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ফেরার আগে ৩৪ বলে করতে পেরেছেন ১৫ রান। তাইজুল ইসলামকে সাথে নিয়ে দিনের বাকিটা সময় কাটিয়ে দেন মেহেদী হাসান মিরাজ। ডানহাতি এ ব্যাটার অপরাজিত আছেন ৪৪ রানে, তাইজুলের সংগ্রহ অপরাজিত ১০ রান।

 

শ্রীলঙ্কার হয়ে দুটি করে উইকেট নিয়েছেন লাহিরু কুমারা, প্রবাত জয়াসুরিয়া ও কামিন্দু মেন্ডিস। একটি উইকেট শিকার করেছেন বিশ্ব ফার্নান্দো।

 

 

কালের চিঠি / আলিফ

Tag :

শ্রেণিকক্ষে যৌন হয়রানির অভিযোগ, ২ শিক্ষককে বরখাস্তের দাবিতে বিদ্যালয়ে তালা

চট্টগ্রাম টেস্টে জয়ের সুবাস পাচ্ছে শ্রীলঙ্কা

Update Time : ০৫:২৮:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ এপ্রিল ২০২৪

 

চট্টগ্রাম টেস্টে শ্রীলঙ্কার দেয়া ৫১১ রানের বিশাল লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে সুবিধা করতে পারেনি বাংলাদেশের ব্যাটাররা। নয় ব্যাটারই দুই অঙ্কের ঘরে রান করলেও বড় ইনিংস খেলতে ব্যর্থ হয়েছেন তারা। একমাত্র ব্যাটার হিসেবে মুমিনুল হকই অর্ধশতক পূর্ণ করেন। চতুর্থ দিন শেষে ৭ উইকেট হারিয়ে স্বাগতিকদের সংগ্রহ ২৬৮ রান। মিরাজ (৪৪*) ও তাইজুল (১০*) অপরাজিত আছেন।

 

মঙ্গলবার (২ এপ্রিল) চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরি স্টেডিয়ামে ৬ উইকেটে ১০২ রান নিয়ে দিনের খেলা শুরু করে শ্রীলঙ্কা। অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউজ ৩৯ ও প্রভাত জয়াসুরিয়া ৩ রান নিয়ে খেলা শুরু করেন। ৫৬ রান করা ম্যাথিউজকে বোল্ড করেন সাকিব। ২৮ রান করে অপরাজিত থাকেন প্রভাত জয়সুরিয়া।

 

রান তাড়ায় শুরুটা ভালো করেছিলেন বাংলাদেশের দুই ওপেনার জাকির হাসান ও মাহমুদুল হাসান জয়। লাঞ্চের আগে পর্যন্ত বেশ সাবলীল ব্যাটিং করছিলেন তারা। তবে এরপরই ঘটে ছন্দপতন, প্রবাত জয়াসুরিয়ার বলে বোল্ড হয়ে প্যাভিলিয়নে ফেরেন জয়। তার আগে ৩২ বলে ৩ বাউন্ডারিতে করেছেন ২৪ রান।

 

বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি জাকিরও। বিশ্ব ফার্নান্দোর অফ স্ট্যাম্পের বাইরের বলে খোঁচা মেরে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে ফিরেছেন তিনি। তার আগে টাইগার ওপেনারের ব্যাট থেকে এসেছে ৩৯ বলে ১৯ রান। এরপর শুরুর ধাক্কা সামাল দেয়ার চেষ্টা করছেন নাজমুল হোসেন শান্ত ও মুমিনুল হক। দুজনেই করছিলেন সাবলীল ব্যাটিং। লঙ্কানদের বিপক্ষে গত দিন ইনিংসে এক অঙ্কের ঘরে আউট হওয়া শান্ত এদিন বড় ইনিংস খেলার ইঙ্গিত দিলেও সমর্থকদের হতাশ করেন। লাহিরু কুমারার বলে বোল্ড হওয়ার আগে ৫৫ বলে ২ বাউন্ডারিতে করেছেন ২০ রান।

 

উইকেটে আসার পর থেকেই দারুণ ব্যাটিং করা মুমিনুল ৫৫ বলে পান ফিফটির দেখা। সেশনের একদম শেষ ওভারে মুমিনুল হক আউট হয়ে দলের বিপদ আরও বাড়িয়ে দিয়ে যান। বড্ড হতাশার লাঞ্চ বিরতি থেকে ফিরে এসে দাপট দেখান সাকিব আল হাসান আর লিটন কুমার দাস। এই দুজনের জুটিতে রীতিমতো স্বস্তি ফিরে আসে টাইগার শিবিরে। প্রথম ইনিংসে ব্যর্থ হওয়া সাকিব এই ইনিংসে বেশ দেখে-শুনেই খেলতে থাকেন লঙ্কান বোলারদের। কিন্তু হঠাৎই সাকিবকে বিপাকে ফেলেন আনকোরা কামিন্দু মেন্ডিস। সাকিবকে ফিরিয়েই কামিন্দু দখলে নেন নিজের প্রথম টেস্ট উইকেট।

 

৬১ রানের পার্টনারশিপ ভাঙে সাকিবের বিদায়ে। ৩৬ রানে থাকা সাকিবকে বেশ হতাশা নিয়েই ফিরে যেতে হয় প্যাভিলিয়নে। সাকিবের বিদায়ের পরও দারুণ খেলতে থাকেন লিটন দাস। কিন্তু মুহূর্তেই যেন ছন্দপতন, সেই পুরানো রোগ। অফ স্টাম্পের অনেক বাইরে দিয়ে যাওয়া বল পুল করতে গিয়ে ব্যর্থ লিটন, উইকেটকিপারের গ্লাভসে হয়েছেন ক্যাচ। ৭২ বল খেলে ৩৮ করে ফিরলেন লিটন, বাংলাদেশের ষষ্ঠ উইকেটের পতন।

 

শাহাদাত হোসেন দীপুও পারেননি তেমন কিছুই করতে। কামিন্দু মেন্ডিসের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ফেরার আগে ৩৪ বলে করতে পেরেছেন ১৫ রান। তাইজুল ইসলামকে সাথে নিয়ে দিনের বাকিটা সময় কাটিয়ে দেন মেহেদী হাসান মিরাজ। ডানহাতি এ ব্যাটার অপরাজিত আছেন ৪৪ রানে, তাইজুলের সংগ্রহ অপরাজিত ১০ রান।

 

শ্রীলঙ্কার হয়ে দুটি করে উইকেট নিয়েছেন লাহিরু কুমারা, প্রবাত জয়াসুরিয়া ও কামিন্দু মেন্ডিস। একটি উইকেট শিকার করেছেন বিশ্ব ফার্নান্দো।

 

 

কালের চিঠি / আলিফ