বৃহস্পতিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৪, ১২ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

পানি শূন্যতায় ভুগছে গাইবান্ধার সব কয়টি নদ -নদী 

 

 

 

গাইবান্ধা জেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে ব্রহ্মপুত্র , তিস্তা , ঘাঘট , করতোয়া, বাঙালি সহ ছোট বড় বেশ কয়েকটি নদ নদী ।জেলায় প্রবাহিত মোট নদী পথের আয়তন প্রায় ১০৭ কি.মি.। শুষ্ক মৌসুম শুরু হওয়ায় জেলার সব কয়টি নদ-নদী বর্তমানে পানি শূন্য হয়ে পড়েছে।

 

গাইবান্ধার নদ নদীগুলো সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায় বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে বয়ে যাওয়া অধিকাংশ নদ-নদী প্রায় পানিশূন্য হয়ে পড়েছে। অনেক জায়গায় মানুষজন হেঁটে চলাচল করছে। যে দিকে তাকানো যায় শুধু বালু আর বালু। গেল বছর বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় এবারের শুষ্ক মৌসুমে আগাম নদ-নদীর পানির স্তর নিচে নেমে গেছে। ফলে কৃষিসহ জীববৈচিত্র্যে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। নদীর পানি কমে যাওয়ায় কমে গেছে মাছের আমদানি। ফলে জেলেরা বাঁচার জন্য অন্য পেশা খুঁজছে। পানি কমায় আবাদ করতে কৃষককে গুণতে হচ্ছে বাড়তি খরচ।

 

বছরের আষাঢ়, শ্রাবণ,ভাদ্র,আশ্বিন এই ৪ মাস নদীতে কানায়-কানায় পানি থাকে। বছরের বাকি ৮ মাসের মধ্যে কার্তিক, অগ্রহায়ণ ২ মাস পানি মাঝামাঝি এসে দাঁড়ায়। পৌষ, মাঘ, ফাল্গুন, চৈত্র, বৈশাখ, জ্যৈষ্ঠ এই ছয় মাস পানি হাঁটু জলে নেমে এলেও এবার অনেক নদীর পানি আগাম শুকিয়ে চরে পরিণত হয়েছে।

 

 

জানা যায়, ভারতের উজান থেকে নদ-নদী দিয়ে প্রায় ২ বিলিয়ন মেট্রিক টন পলি মাটি বাংলাদেশে প্রবেশ করে। তার মধ্যে শতকরা ৮০ ভাগ পলিমাটি জেলার বিভিন্ন নদী দিয়ে আসে। ফলে নদীগুলো দ্রুত ভরাট হয়ে যাচ্ছে। জালের মতো বিছিয়ে থাকা নদ-নদী একে একে বিলীনের পথে। পানির অভাবে স্থায়ী মরুকরণের পথে যাচ্ছে দেশের উত্তরের নদী বেষ্টিত জেলাটি।

 

ফুলছড়ি উপজেলার বালাসী ঘাটের মাঝি মালেক, হাসমত আলীসহ অনেকেই জানান, ব্রহ্মপুত্র ভরাট হবার কারণে নৌ চলাচলে বিঘ্নিত হচ্ছে। পানি কম থাকায় নৌকা ঘুরে যেতে তেল ও সময় দুটোই বেশি লাগে। এতে করে মাঝিরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

 

উপজেলার কাবিলের চরের বাসিন্দা আকবর আলী, মজিদ মিয়া জানান, এখন আর তেমন নদ-নদীতে মাছ পাওয়া যায় না। ফলে জেলেরা অন্য পেশায় চলে যাচ্ছে। আর নদ-নদী খনন না থাকায় সারাবছরই ভাঙ্গনের শিকার হতে হয় এখানকার মানুষদের।

 

কামাল জানি ইউনিয়নের ভুট্টা চাষি মাসুদ মোল্লা বলেন , নদীর পানি কমে যাওয়ায় পানির স্তর অনেক নিচে নেমে গেছে। সেচ দিয়ে পানি তুলে আবাদ করতে গুণতে হচ্ছে । দিন দিন তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় চরের ফলনও কমছে। ফলে ধারদেনা করে আবাদ করলেও লোকসানের মুখে পড়েছে চরাঞ্চলের কৃষক।

 

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ড. তুহিন ওয়াদুদ জানান, দেশের বৃহত্তম নদ-নদীময় জেলা গুলোর মধ্যে গাইবান্ধা অন্যতম ।উজানে ভারতের একতরফা পানি প্রত্যাহারের কারণে পানি প্রবাহ কমে আসায় বর্তমানে অধিকাংশ নদীগুলো মৃত প্রায়। শুস্ক মৌসুমে নদী তীরবর্তী অঞ্চলে বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয়, সবচেয়ে বড় সমস্যা যাতায়াত ও সুপেয় পানির সংকট ‌ ।জলবায়ুর প্রভাব এবং নদ-নদীর তলদেশ ভরাট হবার কারণে পানির ধারণ ক্ষমতা কমে যাওয়ায় প্রভাব পড়তে শুরু করেছে কৃষিসহ জীববৈচিত্র্যে।

দ্রুত বৈজ্ঞানিক উপায়ে নদ-নদীগুলোর পানি ধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে পদক্ষেপ নেবার দাবি এই নদী গবেষকের।

Tag :

পানি শূন্যতায় ভুগছে গাইবান্ধার সব কয়টি নদ -নদী 

Update Time : ১০:১৯:১৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২২ মার্চ ২০২৪

 

 

 

গাইবান্ধা জেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে ব্রহ্মপুত্র , তিস্তা , ঘাঘট , করতোয়া, বাঙালি সহ ছোট বড় বেশ কয়েকটি নদ নদী ।জেলায় প্রবাহিত মোট নদী পথের আয়তন প্রায় ১০৭ কি.মি.। শুষ্ক মৌসুম শুরু হওয়ায় জেলার সব কয়টি নদ-নদী বর্তমানে পানি শূন্য হয়ে পড়েছে।

 

গাইবান্ধার নদ নদীগুলো সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায় বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে বয়ে যাওয়া অধিকাংশ নদ-নদী প্রায় পানিশূন্য হয়ে পড়েছে। অনেক জায়গায় মানুষজন হেঁটে চলাচল করছে। যে দিকে তাকানো যায় শুধু বালু আর বালু। গেল বছর বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় এবারের শুষ্ক মৌসুমে আগাম নদ-নদীর পানির স্তর নিচে নেমে গেছে। ফলে কৃষিসহ জীববৈচিত্র্যে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। নদীর পানি কমে যাওয়ায় কমে গেছে মাছের আমদানি। ফলে জেলেরা বাঁচার জন্য অন্য পেশা খুঁজছে। পানি কমায় আবাদ করতে কৃষককে গুণতে হচ্ছে বাড়তি খরচ।

 

বছরের আষাঢ়, শ্রাবণ,ভাদ্র,আশ্বিন এই ৪ মাস নদীতে কানায়-কানায় পানি থাকে। বছরের বাকি ৮ মাসের মধ্যে কার্তিক, অগ্রহায়ণ ২ মাস পানি মাঝামাঝি এসে দাঁড়ায়। পৌষ, মাঘ, ফাল্গুন, চৈত্র, বৈশাখ, জ্যৈষ্ঠ এই ছয় মাস পানি হাঁটু জলে নেমে এলেও এবার অনেক নদীর পানি আগাম শুকিয়ে চরে পরিণত হয়েছে।

 

 

জানা যায়, ভারতের উজান থেকে নদ-নদী দিয়ে প্রায় ২ বিলিয়ন মেট্রিক টন পলি মাটি বাংলাদেশে প্রবেশ করে। তার মধ্যে শতকরা ৮০ ভাগ পলিমাটি জেলার বিভিন্ন নদী দিয়ে আসে। ফলে নদীগুলো দ্রুত ভরাট হয়ে যাচ্ছে। জালের মতো বিছিয়ে থাকা নদ-নদী একে একে বিলীনের পথে। পানির অভাবে স্থায়ী মরুকরণের পথে যাচ্ছে দেশের উত্তরের নদী বেষ্টিত জেলাটি।

 

ফুলছড়ি উপজেলার বালাসী ঘাটের মাঝি মালেক, হাসমত আলীসহ অনেকেই জানান, ব্রহ্মপুত্র ভরাট হবার কারণে নৌ চলাচলে বিঘ্নিত হচ্ছে। পানি কম থাকায় নৌকা ঘুরে যেতে তেল ও সময় দুটোই বেশি লাগে। এতে করে মাঝিরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

 

উপজেলার কাবিলের চরের বাসিন্দা আকবর আলী, মজিদ মিয়া জানান, এখন আর তেমন নদ-নদীতে মাছ পাওয়া যায় না। ফলে জেলেরা অন্য পেশায় চলে যাচ্ছে। আর নদ-নদী খনন না থাকায় সারাবছরই ভাঙ্গনের শিকার হতে হয় এখানকার মানুষদের।

 

কামাল জানি ইউনিয়নের ভুট্টা চাষি মাসুদ মোল্লা বলেন , নদীর পানি কমে যাওয়ায় পানির স্তর অনেক নিচে নেমে গেছে। সেচ দিয়ে পানি তুলে আবাদ করতে গুণতে হচ্ছে । দিন দিন তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় চরের ফলনও কমছে। ফলে ধারদেনা করে আবাদ করলেও লোকসানের মুখে পড়েছে চরাঞ্চলের কৃষক।

 

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ড. তুহিন ওয়াদুদ জানান, দেশের বৃহত্তম নদ-নদীময় জেলা গুলোর মধ্যে গাইবান্ধা অন্যতম ।উজানে ভারতের একতরফা পানি প্রত্যাহারের কারণে পানি প্রবাহ কমে আসায় বর্তমানে অধিকাংশ নদীগুলো মৃত প্রায়। শুস্ক মৌসুমে নদী তীরবর্তী অঞ্চলে বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয়, সবচেয়ে বড় সমস্যা যাতায়াত ও সুপেয় পানির সংকট ‌ ।জলবায়ুর প্রভাব এবং নদ-নদীর তলদেশ ভরাট হবার কারণে পানির ধারণ ক্ষমতা কমে যাওয়ায় প্রভাব পড়তে শুরু করেছে কৃষিসহ জীববৈচিত্র্যে।

দ্রুত বৈজ্ঞানিক উপায়ে নদ-নদীগুলোর পানি ধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে পদক্ষেপ নেবার দাবি এই নদী গবেষকের।