রবিবার, ১৬ জুন ২০২৪, ১ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

ব্যয়ের চাপে নিম্নবিত্ত

 

 

কোনোভাবেই সহনীয় হচ্ছে না মূল্যস্ফীতি। পণ্য ও সেবা ব্যয় এখনও নাগালের বাইরে। লাফিয়ে ব্যয় বাড়লেও বাড়ছে না মজুরি। অর্থাৎ মানুষ যা আয় করছে, এর চেয়ে ব্যয় হচ্ছে বেশি। দিন দিন কঠিন হচ্ছে স্বল্প আয়ের মানুষের জীবনধারণ। ডলার সঙ্কট, ব্যাংক সুদ হার বৃদ্ধি এবং উৎপাদনে স্থবিরতায় চাপে অর্থনীতি।

 

মূলত, দুই বছরের বেশি সময় ধরে মূল্যস্ফীতির তুলনায় মজুরির হার কম। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য বলছে, গত ফেব্রুয়ারিতে সার্বিক মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৯ দশমিক ৬৭ ভাগ। কিন্তু মজুরির হার ৭ দশমিক ৭৮ ভাগ। এ অবস্থায় দিন-রাত কঠোর পরিশ্রম করা দেশের বিপুল সংখ্যাক মানুষ ভালো নেই। আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি হওয়ায় কমছে না সংসারের টানাপড়েন। সঞ্চয় ভেঙে খাচ্ছে মানুষ। দম বন্ধ এই অবস্থাকে কী বলা যায়?

 

অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, ব্যয় বাড়ছে, সে তুলনায় প্রকৃত আয় কমছে। এক্ষেত্রে সঞ্চয় থাকলে তা ভেঙে চলতে হবে, না হয় ধার করতে হবে। অন্যথায় বাজেট কাটছাঁট করতে হবে। মানে তিন বেলার জায়গায় দুই বেলা খাবেন। খাবারের মানে পরিবর্তন আনতে হবে। ওই অবস্থায় তো এখন আছি। এটাকে দুর্ভিক্ষ বলা যায় না, তবে অনেকের জন্য এটা কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছে।

 

এদিকে, ব্যাংক সুদহার বৃদ্ধির কারণে কমেছে শিল্প উৎপাদন। আবার ডলার সঙ্কটের কারণে ঋণপত্র খোলা যাচ্ছে না। তৈরি হয়েছে উভয় সঙ্কট।

 

ড. জাহিদ হোসেন বলেন, সুদের হার বাড়লে ঋণ নেয়ার প্রবণতা কমে যায়। সেক্ষেত্রে বিনিয়োগ, উৎপাদনে কিছুটা টান পড়তে পারে। কিন্তু ডলার সঙ্কটের কারণে এলসি খোলা যাচ্ছে না, কাঁচামাল-যন্ত্রপাতি আমদানি করা যাচ্ছে না। তাতে প্রবৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। পাশাপাশি মূল্যস্ফীতিকেও উসকে দিচ্ছে। এটা তো গ্রহণযোগ্য না।

 

এছাড়া, জ্বালানির দেনা পরিশোধে ইস্যু করা হচ্ছে বন্ড। এটিকে টাকা ছাপানোর মতোই সিদ্ধান্ত বললেন এই অর্থনীতিবিদ। ড. জাহিদ হোসেন বলেন, দেনা পরিশোধের জন্য বন্ড (বিশেষ বন্ড) ইস্যু করা হলো। ব্যাংকারদের বলা হলো, ১ শতাংশ সুদ দিয়ে এটা কিনতে হবে। ওই বন্ডের বিপরীতে আবার বাংলাদেশ ব্যাংক অর্থায়ন করলো। এটি তো টাকা ছাপানোর মতো হয়ে গেলো।

 

আগের চেয়ে ধীরে ধীরে পরিস্থিতি উত্তরণে হচ্ছে বলে মনে করে সরকার। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির সভাপতি এম এ মান্নান বলেন, মাটি কাটার কাজ হোক বা অন্য কাজ হোক, বাজারে যদি কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয় তাহলে কিন্তু ভয়ের কিছু নেই।

 

 

কালের চিঠি / আলিফ

Tag :

ব্যয়ের চাপে নিম্নবিত্ত

Update Time : ০৩:২৭:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মার্চ ২০২৪

 

 

কোনোভাবেই সহনীয় হচ্ছে না মূল্যস্ফীতি। পণ্য ও সেবা ব্যয় এখনও নাগালের বাইরে। লাফিয়ে ব্যয় বাড়লেও বাড়ছে না মজুরি। অর্থাৎ মানুষ যা আয় করছে, এর চেয়ে ব্যয় হচ্ছে বেশি। দিন দিন কঠিন হচ্ছে স্বল্প আয়ের মানুষের জীবনধারণ। ডলার সঙ্কট, ব্যাংক সুদ হার বৃদ্ধি এবং উৎপাদনে স্থবিরতায় চাপে অর্থনীতি।

 

মূলত, দুই বছরের বেশি সময় ধরে মূল্যস্ফীতির তুলনায় মজুরির হার কম। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য বলছে, গত ফেব্রুয়ারিতে সার্বিক মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৯ দশমিক ৬৭ ভাগ। কিন্তু মজুরির হার ৭ দশমিক ৭৮ ভাগ। এ অবস্থায় দিন-রাত কঠোর পরিশ্রম করা দেশের বিপুল সংখ্যাক মানুষ ভালো নেই। আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি হওয়ায় কমছে না সংসারের টানাপড়েন। সঞ্চয় ভেঙে খাচ্ছে মানুষ। দম বন্ধ এই অবস্থাকে কী বলা যায়?

 

অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, ব্যয় বাড়ছে, সে তুলনায় প্রকৃত আয় কমছে। এক্ষেত্রে সঞ্চয় থাকলে তা ভেঙে চলতে হবে, না হয় ধার করতে হবে। অন্যথায় বাজেট কাটছাঁট করতে হবে। মানে তিন বেলার জায়গায় দুই বেলা খাবেন। খাবারের মানে পরিবর্তন আনতে হবে। ওই অবস্থায় তো এখন আছি। এটাকে দুর্ভিক্ষ বলা যায় না, তবে অনেকের জন্য এটা কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছে।

 

এদিকে, ব্যাংক সুদহার বৃদ্ধির কারণে কমেছে শিল্প উৎপাদন। আবার ডলার সঙ্কটের কারণে ঋণপত্র খোলা যাচ্ছে না। তৈরি হয়েছে উভয় সঙ্কট।

 

ড. জাহিদ হোসেন বলেন, সুদের হার বাড়লে ঋণ নেয়ার প্রবণতা কমে যায়। সেক্ষেত্রে বিনিয়োগ, উৎপাদনে কিছুটা টান পড়তে পারে। কিন্তু ডলার সঙ্কটের কারণে এলসি খোলা যাচ্ছে না, কাঁচামাল-যন্ত্রপাতি আমদানি করা যাচ্ছে না। তাতে প্রবৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। পাশাপাশি মূল্যস্ফীতিকেও উসকে দিচ্ছে। এটা তো গ্রহণযোগ্য না।

 

এছাড়া, জ্বালানির দেনা পরিশোধে ইস্যু করা হচ্ছে বন্ড। এটিকে টাকা ছাপানোর মতোই সিদ্ধান্ত বললেন এই অর্থনীতিবিদ। ড. জাহিদ হোসেন বলেন, দেনা পরিশোধের জন্য বন্ড (বিশেষ বন্ড) ইস্যু করা হলো। ব্যাংকারদের বলা হলো, ১ শতাংশ সুদ দিয়ে এটা কিনতে হবে। ওই বন্ডের বিপরীতে আবার বাংলাদেশ ব্যাংক অর্থায়ন করলো। এটি তো টাকা ছাপানোর মতো হয়ে গেলো।

 

আগের চেয়ে ধীরে ধীরে পরিস্থিতি উত্তরণে হচ্ছে বলে মনে করে সরকার। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির সভাপতি এম এ মান্নান বলেন, মাটি কাটার কাজ হোক বা অন্য কাজ হোক, বাজারে যদি কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয় তাহলে কিন্তু ভয়ের কিছু নেই।

 

 

কালের চিঠি / আলিফ