মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০২৪, ১ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

চিনির দাম বছর ঘুরে দ্বিগুণ হওয়ার কারণ কী?

মাস দেড়েক আগে থেকে টের পাওয়া যাচ্ছিল চিনির দামের ঊর্ধ্বগতি। গত বছর প্রতিকেজি যেখানে বিক্রি হয়েছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা, সেই পণ্যের মূল্য বছর ঘুরে হয়ে গেল দ্বিগুণ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে খোলা চিনিতে ১৪০ আর প্যাকেটজাত চিনিতে ১৪৫ টাকা কেজি দাম বেঁধে দেয় সরকার।

দেশের সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ। এখানে প্রতি বস্তা চিনি বিক্রি হচ্ছে ৬৭৬০ টাকা পর্যন্ত। খুচরা বাজারে কেজিতে ১৪০ টাকা। গত রমজানে যা ছিল এর অর্ধেক।

একজন ব্যবসায়ী বলেন, ১৪০ টাকা সরকারের খুচরা রেট। আমরা এখনও একপ্রকার চিনি বস্তা প্রতি বিক্রি করছি ৬৭২০ টাকা। আর আরেক প্রকারের চিনি বস্তা প্রতি ৬৭৫০ টাকা। আরেক ব্যবসায়ী বলেন, সোজা হিসেব– চাহিদা ও যোগানের ওপর ভিত্তি করে মাল বাড়ে। এখানে ব্যবসায়ীদের দোষ কী?

মধ্যাঞ্চলের অন্যতম বড় পাইকারি বাজার নারায়ণগঞ্জের নিতাইগঞ্জ। বাজার ঘুরে দেখা যায়, পাইকারিতে খোলা চিনি বিক্রি হচ্ছে ১৩৪ টাকা দরে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, হাতে গোনা কয়েকটি কোম্পানি চিনি উৎপাদন ও বিতরণ করে থাকে। এসব কর্পোরেট কোম্পানি থেকে চিনি নিতে অপেক্ষায় রাখতে থাকতে হয় দীর্ঘ সময়। ফলে বেড়ে যায় দাম।

একজন পাইকারি বিক্রেতা বলেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির পেছনে কারণ কী? কারণ হলো, আমি যেদিন পণ্য কিনব, সেদিন পণ্য পাওয়া যাচ্ছে না। না পাওয়ার কারণ, মিলে সিরিয়াল বা লম্বা লাইন আছে। এমনও দিন গেছে, ওই পণ্য পেতে আমাকে অপেক্ষা করতে হয়েছে সাত দিন। ফলে ডেমারেজ দিতে গিয়ে দাম বেড়ে যাচ্ছে।

ভোক্তা পর্যায়ে খোলা চিনি বিক্রি হচ্ছে ১৪৬ টাকা থেকে ১৫০ টাকা দরে। পর্যাপ্ত যোগান থাকার পরও দাম বেড়ে যাওয়ায় ক্ষুব্ধ ক্রেতারা।

একজন শ্রমিক বলেন, বড় বড় ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করছে। সিন্ডিকেটের কারণে দাম বেড়ে যাচ্ছে। আরেকজন ক্রেতার বক্তব্য, তারা (ব্যবসায়ীরা) রমজানের অপেক্ষায় থাকে। রোজার মাসে জনগণের কথা ভাবে না তারা। বরং জনগণ থেকে কীভাবে টাকা হাতিয়ে নেয়া যায়, সেটাই তাদের ভাবনা।

রমজানে এই দাম বৃদ্ধির কারসাজির জন্য খুচরা, পাইকারি ও মিল মালিকরা পরস্পরকে দোষারোপ করছেন।

কালের চিঠি / আলিফ

Tag :
Popular Post

বেরোবিতে কোঠা ইস্যুতে আন্দোলনকারীদের ওপর ছাত্রলীগের হামলা

চিনির দাম বছর ঘুরে দ্বিগুণ হওয়ার কারণ কী?

Update Time : ০৪:৫৪:২৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মার্চ ২০২৪

মাস দেড়েক আগে থেকে টের পাওয়া যাচ্ছিল চিনির দামের ঊর্ধ্বগতি। গত বছর প্রতিকেজি যেখানে বিক্রি হয়েছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা, সেই পণ্যের মূল্য বছর ঘুরে হয়ে গেল দ্বিগুণ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে খোলা চিনিতে ১৪০ আর প্যাকেটজাত চিনিতে ১৪৫ টাকা কেজি দাম বেঁধে দেয় সরকার।

দেশের সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ। এখানে প্রতি বস্তা চিনি বিক্রি হচ্ছে ৬৭৬০ টাকা পর্যন্ত। খুচরা বাজারে কেজিতে ১৪০ টাকা। গত রমজানে যা ছিল এর অর্ধেক।

একজন ব্যবসায়ী বলেন, ১৪০ টাকা সরকারের খুচরা রেট। আমরা এখনও একপ্রকার চিনি বস্তা প্রতি বিক্রি করছি ৬৭২০ টাকা। আর আরেক প্রকারের চিনি বস্তা প্রতি ৬৭৫০ টাকা। আরেক ব্যবসায়ী বলেন, সোজা হিসেব– চাহিদা ও যোগানের ওপর ভিত্তি করে মাল বাড়ে। এখানে ব্যবসায়ীদের দোষ কী?

মধ্যাঞ্চলের অন্যতম বড় পাইকারি বাজার নারায়ণগঞ্জের নিতাইগঞ্জ। বাজার ঘুরে দেখা যায়, পাইকারিতে খোলা চিনি বিক্রি হচ্ছে ১৩৪ টাকা দরে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, হাতে গোনা কয়েকটি কোম্পানি চিনি উৎপাদন ও বিতরণ করে থাকে। এসব কর্পোরেট কোম্পানি থেকে চিনি নিতে অপেক্ষায় রাখতে থাকতে হয় দীর্ঘ সময়। ফলে বেড়ে যায় দাম।

একজন পাইকারি বিক্রেতা বলেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির পেছনে কারণ কী? কারণ হলো, আমি যেদিন পণ্য কিনব, সেদিন পণ্য পাওয়া যাচ্ছে না। না পাওয়ার কারণ, মিলে সিরিয়াল বা লম্বা লাইন আছে। এমনও দিন গেছে, ওই পণ্য পেতে আমাকে অপেক্ষা করতে হয়েছে সাত দিন। ফলে ডেমারেজ দিতে গিয়ে দাম বেড়ে যাচ্ছে।

ভোক্তা পর্যায়ে খোলা চিনি বিক্রি হচ্ছে ১৪৬ টাকা থেকে ১৫০ টাকা দরে। পর্যাপ্ত যোগান থাকার পরও দাম বেড়ে যাওয়ায় ক্ষুব্ধ ক্রেতারা।

একজন শ্রমিক বলেন, বড় বড় ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করছে। সিন্ডিকেটের কারণে দাম বেড়ে যাচ্ছে। আরেকজন ক্রেতার বক্তব্য, তারা (ব্যবসায়ীরা) রমজানের অপেক্ষায় থাকে। রোজার মাসে জনগণের কথা ভাবে না তারা। বরং জনগণ থেকে কীভাবে টাকা হাতিয়ে নেয়া যায়, সেটাই তাদের ভাবনা।

রমজানে এই দাম বৃদ্ধির কারসাজির জন্য খুচরা, পাইকারি ও মিল মালিকরা পরস্পরকে দোষারোপ করছেন।

কালের চিঠি / আলিফ