মঙ্গলবার, ২১ মে ২০২৪, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

৭শ শিক্ষার্থী’র বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা নিশ্চিত করলো অসীম কুমার!

বাংলাদেশ রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলের জেনারেল ম্যানেজার অসীম কুমার তালুকদারকে নিয়ে একটি চমৎকার ওয়েবফিল্ম তৈরি হতে পারে। তৈরি হতে পারে ৫মার্চের অসংখ্য ছাত্র-ছাত্রীর নিশ্চিত মিস হয়ে পড়া ভর্তি পরীক্ষাটিতে অংশগ্রহণ করে ফেলার কাহিনী নিয়ে!

মার্চের ৫ তারিখ থেকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা শুরু হয়েছে। সেই পরীক্ষায় অংশ নিতে ৭০০ এর মতো শিক্ষার্থী ঢাকা থেকে রাজশাহীগামী ধূমকেতু এক্সপ্রেসে চেপে বসেন। বিকেল ৩.৩০ মিনিটের ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবেন বলে।

কিন্তু সমস্যা শুরু হয় গোড়া থেকেই! রেল ব্রোকেনের ফলে ধূমকেতু এক্সপ্রেস ঢাকা থেকেই বেশ বিলম্বেই রওনা হয়। সকাল ১১টার দিকে হিসেব করে দেখা গেলো, ট্রেনটি রাজশাহী স্টেশনে পৌঁছাতে বিকেল ৩টার মতো বাজবে। তখন থেকেই কাজ শুরু করেন অসীম কুমার তালুকদার।
পরীক্ষার্থীদের সময়ের ব্যাপারে চিন্তা করে ধূমকেতু এক্সপ্রেসকে এগিয়ে নিয়ে আসেন অন্য কয়েকটি ট্রেনকে বসিয়ে রেখে।

তারপরেও ভাগ্য সহায় হয়নি। লাহেড়ী মোহনপুর স্টেশনে এসে ধূমকেতুর ইঞ্জিন ফেইল করে। ফলে ট্রেনটির চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। তখনও এগিয়ে আসেন অসীম কুমার তালুকদার।আবারো পরীক্ষার্থীদের জন্য শরৎনগরে থাকা চিলাহাটি এক্সপ্রেস ট্রেনটির ইঞ্জিন কেটে এনে ধূমকেতু এক্সপ্রেসে সেট করে আবার ধূমকেতু এক্সপ্রেসটি সচল করান। কিন্তু ততোক্ষণে আরো ঘণ্টাদেড়েক সময় নষ্ট হয়ে গিয়েছে। হিসেব করে দেখা যায় ট্রেনটি বিকেল ৪টায় রাজশাহী স্টেশনে পৌঁছুবে।

এইসময়ে আর কোনো উপায় না পেয়ে অসীম স্যার রাজশাহী ইউনিভার্সিটির ভিসিকে পরীক্ষার সময় পিছিয়ে দেয়ার জন্য অনুরোধ জানান। পাশাপাশি ট্রেনের লোকো পাইলটকে সর্বোচ্চ গতিতে ট্রেন চালানোর নির্দেশ দেন। সাথে যোগাযোগ রাখেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি স্যারের সাথে। তারপরও সময় বাঁচাতে আড়ানি স্টেশনের স্টপেজে ট্রেন না থামানোর নিদের্শ দেন। অবশেষে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশনে ট্রেন গিয়ে পৌঁছে বিকেল ৩.৩৮ মিনিটে। কিন্তু ৪টার মধ্যে হলে ঢুকতে হবে!

তখন আবারো তিনি ভিসিকে অনুরোধ জানালেন শিক্ষার্থীদের হলে ঢোকার সুযোগ দেওয়ার জন্য। ভিসি স্যার অসীম স্যারের অনুরোধেই শিক্ষার্থীদের হলে ঢুকতে দিলেন। এভাবেই প্রায় ৭০০ শিক্ষার্থী রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের নিশ্চিত মিস হতে যাওয়া পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারলো। কোনো দৈব বলে নয়, একজন অসীম তালুকদারের একান্ত প্রচেষ্ঠায়। যার সাথে যোগ দিয়েছিলেন রেলের অংসখ্য কর্মী।

ইন্ডিয়ান ওয়েব সিরিজ “দ্যা রেলওয়ে ম্যান” আমরা অনেকেই তো দেখেছি। জেনেছি রেল কর্মকর্তা এবং কর্মচারীদের অসামান্য অবদানের কথা।

আমাদের রেলওয়ে ম্যানদের এই অনন্য কাজটিও দেখতে চাই পর্দায়। রেলের অসংখ্য দূর্নীতি অনিয়মের মধ্যেও যে এমন চমৎকার কাজ হয় তাতো সকলেরই জানা উচিৎ!

Tag :

৭শ শিক্ষার্থী’র বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা নিশ্চিত করলো অসীম কুমার!

Update Time : ০৪:২৮:০১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মার্চ ২০২৪

বাংলাদেশ রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলের জেনারেল ম্যানেজার অসীম কুমার তালুকদারকে নিয়ে একটি চমৎকার ওয়েবফিল্ম তৈরি হতে পারে। তৈরি হতে পারে ৫মার্চের অসংখ্য ছাত্র-ছাত্রীর নিশ্চিত মিস হয়ে পড়া ভর্তি পরীক্ষাটিতে অংশগ্রহণ করে ফেলার কাহিনী নিয়ে!

মার্চের ৫ তারিখ থেকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা শুরু হয়েছে। সেই পরীক্ষায় অংশ নিতে ৭০০ এর মতো শিক্ষার্থী ঢাকা থেকে রাজশাহীগামী ধূমকেতু এক্সপ্রেসে চেপে বসেন। বিকেল ৩.৩০ মিনিটের ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবেন বলে।

কিন্তু সমস্যা শুরু হয় গোড়া থেকেই! রেল ব্রোকেনের ফলে ধূমকেতু এক্সপ্রেস ঢাকা থেকেই বেশ বিলম্বেই রওনা হয়। সকাল ১১টার দিকে হিসেব করে দেখা গেলো, ট্রেনটি রাজশাহী স্টেশনে পৌঁছাতে বিকেল ৩টার মতো বাজবে। তখন থেকেই কাজ শুরু করেন অসীম কুমার তালুকদার।
পরীক্ষার্থীদের সময়ের ব্যাপারে চিন্তা করে ধূমকেতু এক্সপ্রেসকে এগিয়ে নিয়ে আসেন অন্য কয়েকটি ট্রেনকে বসিয়ে রেখে।

তারপরেও ভাগ্য সহায় হয়নি। লাহেড়ী মোহনপুর স্টেশনে এসে ধূমকেতুর ইঞ্জিন ফেইল করে। ফলে ট্রেনটির চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। তখনও এগিয়ে আসেন অসীম কুমার তালুকদার।আবারো পরীক্ষার্থীদের জন্য শরৎনগরে থাকা চিলাহাটি এক্সপ্রেস ট্রেনটির ইঞ্জিন কেটে এনে ধূমকেতু এক্সপ্রেসে সেট করে আবার ধূমকেতু এক্সপ্রেসটি সচল করান। কিন্তু ততোক্ষণে আরো ঘণ্টাদেড়েক সময় নষ্ট হয়ে গিয়েছে। হিসেব করে দেখা যায় ট্রেনটি বিকেল ৪টায় রাজশাহী স্টেশনে পৌঁছুবে।

এইসময়ে আর কোনো উপায় না পেয়ে অসীম স্যার রাজশাহী ইউনিভার্সিটির ভিসিকে পরীক্ষার সময় পিছিয়ে দেয়ার জন্য অনুরোধ জানান। পাশাপাশি ট্রেনের লোকো পাইলটকে সর্বোচ্চ গতিতে ট্রেন চালানোর নির্দেশ দেন। সাথে যোগাযোগ রাখেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি স্যারের সাথে। তারপরও সময় বাঁচাতে আড়ানি স্টেশনের স্টপেজে ট্রেন না থামানোর নিদের্শ দেন। অবশেষে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশনে ট্রেন গিয়ে পৌঁছে বিকেল ৩.৩৮ মিনিটে। কিন্তু ৪টার মধ্যে হলে ঢুকতে হবে!

তখন আবারো তিনি ভিসিকে অনুরোধ জানালেন শিক্ষার্থীদের হলে ঢোকার সুযোগ দেওয়ার জন্য। ভিসি স্যার অসীম স্যারের অনুরোধেই শিক্ষার্থীদের হলে ঢুকতে দিলেন। এভাবেই প্রায় ৭০০ শিক্ষার্থী রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের নিশ্চিত মিস হতে যাওয়া পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারলো। কোনো দৈব বলে নয়, একজন অসীম তালুকদারের একান্ত প্রচেষ্ঠায়। যার সাথে যোগ দিয়েছিলেন রেলের অংসখ্য কর্মী।

ইন্ডিয়ান ওয়েব সিরিজ “দ্যা রেলওয়ে ম্যান” আমরা অনেকেই তো দেখেছি। জেনেছি রেল কর্মকর্তা এবং কর্মচারীদের অসামান্য অবদানের কথা।

আমাদের রেলওয়ে ম্যানদের এই অনন্য কাজটিও দেখতে চাই পর্দায়। রেলের অসংখ্য দূর্নীতি অনিয়মের মধ্যেও যে এমন চমৎকার কাজ হয় তাতো সকলেরই জানা উচিৎ!