শনিবার, ২৫ মে ২০২৪, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

এক যুগে অগ্নিকাণ্ডে দায়ের করা মামলার নিষ্পত্তি হয়নি কোনোটিই

চোখের সামনে স্বজন পুড়ে ছাই হওয়ার ক্ষত নিয়ে বাকি জীবন কাটে আপনজনের। কয়দিনের দৌড়ঝাঁপ, অভিযান, তদন্ত কমিটি, অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের বয়ান শেষে মর্মান্তিক মৃত্যুগুলো সবার কাছে পরিণত হয় কেবলই একটি সংখ্যায়।

এক যুগ আগের ভয়াবহ নিমতলী ট্র্যাজেডি থেকে চুড়িহাট্টা কিংবা এফ আর টাওয়ার দুর্ঘটনা। সব ঘটনার পরের চিত্রগুলো ঘুরে-ফিরে একই। পুরনো চেহারায় ফেরে সব; প্রতিকারের উদ্যোগ, মামলাগুলো চলে যায় হিমাগারে। কিছু পরিসংখ্যান দেখা যাক।

এর আগে, ২০১৯ সালে পুরান ঢাকার চুড়িহাট্টার আগুনে ৭১ জনের প্রাণ গেলেও সেই ঘটনায় দায়ের মামলার তদন্ত কাজই এখনো শেষ হয়নি। তারও প্রায় বছর দশেক আগে নিমতলীর ঘটনা তো আরো ভয়াবহ। ১২৪টি পোড়া লাশের জন্য কোন দায়ী ব্যক্তিই পাওয়া যায়নি। এজন্য কোন মামলা হয়নি ওই ঘটনায়। এরই ফল হিসেবে চুড়িহাট্টা ট্র্যাজেডি- এমনটা মনে করেন কেউ কেউ।

চুড়িহাট্টার পোড়া গন্ধ না মিলিয়ে যাওয়ার আগেই ঘটে বনানীর এফআর টাওয়ার ট্র্যাজেডি। সে মামলা এখনও চলমান। এছাড়া তাজরীন, মগবাজারসহ গেলো এক যুগের অন্তত দশটি বড় আগুনের মামলার কোনটিই নিষ্পত্তি হয়নি।

ডিএমপি’র অতিরিক্ত কমিশনার খন্দকার মহিদ উদ্দিন বলেছেন, মামলার জন্য ডিএনএ প্রোফাইল, পোস্টমর্টেম ও ফরেন্সিক করাতে হয়। সেই সাথে, আগুনের উৎস খুঁজে সেগুলোর সত্যতা যাচাই করতে হয়। তারপর সাক্ষীদের সাক্ষ্য নিতে হয়। এসবগুলো বিষয় গুছিয়ে নিতে হয়তো সময় লেগে যায়।

দু’বছর আগের ঘটনা এটি। সীতাকুণ্ডে একটি ডিপোতে আগুনের ঘটনায় ঝরে যায় ৫১টি প্রাণ। ঐ আগুনে কারো দায়ই খুঁজে পায়নি পুলিশের তদন্ত দল। যদিও, ডিপো কর্তৃপক্ষের দায় রয়েছে বলে প্রতিবেদন দিয়েছিলো প্রশাসনিক তদন্ত কমিটি।

অভিযোগ আছে, তদন্তের শুরু থেকেই প্রভাবশালীদের বাদ দেয়ার যে প্রবণতা সেটি বজায় থাকে মামলার শেষ পর্যন্ত। আইন কর্মকর্তারা জানান, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর উদাসীনতা, সাক্ষী না পাওয়াসহ নানা জটিলতায় বিলম্বিত হয় বিচার।

অ্যাটর্নি জেনারেল এএম আমিন উদ্দিন বলেন, যারা বাদী হন এবং সেই সাথে যারা আইনজীবী থাকেন, তারা এক সময় আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন। এইসব কারণে হয়তো, ভুক্তভোগীরা হয়তো মামলা করেন না। কিনবা করতে দেরি করেন। প্রথমদিকে তাদের মধ্যে যে ধরনের স্পৃহা থাকে, এটা হয়তো পরবর্তীতে থাকে না। তবে, এসব কারণ থাকা সত্ত্বেও মনে করি, মামলাগুলোর শুনিনি হওয়া উচিত।

উল্লেখ্য, চাঞ্চল্যকর এসব মামলা দ্রুত শেষ করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের কথা জানান রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন কর্মকর্তা।

কালের চিঠি / আলিফ

Tag :

এক যুগে অগ্নিকাণ্ডে দায়ের করা মামলার নিষ্পত্তি হয়নি কোনোটিই

Update Time : ০৪:৫৮:০০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৬ মার্চ ২০২৪

চোখের সামনে স্বজন পুড়ে ছাই হওয়ার ক্ষত নিয়ে বাকি জীবন কাটে আপনজনের। কয়দিনের দৌড়ঝাঁপ, অভিযান, তদন্ত কমিটি, অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের বয়ান শেষে মর্মান্তিক মৃত্যুগুলো সবার কাছে পরিণত হয় কেবলই একটি সংখ্যায়।

এক যুগ আগের ভয়াবহ নিমতলী ট্র্যাজেডি থেকে চুড়িহাট্টা কিংবা এফ আর টাওয়ার দুর্ঘটনা। সব ঘটনার পরের চিত্রগুলো ঘুরে-ফিরে একই। পুরনো চেহারায় ফেরে সব; প্রতিকারের উদ্যোগ, মামলাগুলো চলে যায় হিমাগারে। কিছু পরিসংখ্যান দেখা যাক।

এর আগে, ২০১৯ সালে পুরান ঢাকার চুড়িহাট্টার আগুনে ৭১ জনের প্রাণ গেলেও সেই ঘটনায় দায়ের মামলার তদন্ত কাজই এখনো শেষ হয়নি। তারও প্রায় বছর দশেক আগে নিমতলীর ঘটনা তো আরো ভয়াবহ। ১২৪টি পোড়া লাশের জন্য কোন দায়ী ব্যক্তিই পাওয়া যায়নি। এজন্য কোন মামলা হয়নি ওই ঘটনায়। এরই ফল হিসেবে চুড়িহাট্টা ট্র্যাজেডি- এমনটা মনে করেন কেউ কেউ।

চুড়িহাট্টার পোড়া গন্ধ না মিলিয়ে যাওয়ার আগেই ঘটে বনানীর এফআর টাওয়ার ট্র্যাজেডি। সে মামলা এখনও চলমান। এছাড়া তাজরীন, মগবাজারসহ গেলো এক যুগের অন্তত দশটি বড় আগুনের মামলার কোনটিই নিষ্পত্তি হয়নি।

ডিএমপি’র অতিরিক্ত কমিশনার খন্দকার মহিদ উদ্দিন বলেছেন, মামলার জন্য ডিএনএ প্রোফাইল, পোস্টমর্টেম ও ফরেন্সিক করাতে হয়। সেই সাথে, আগুনের উৎস খুঁজে সেগুলোর সত্যতা যাচাই করতে হয়। তারপর সাক্ষীদের সাক্ষ্য নিতে হয়। এসবগুলো বিষয় গুছিয়ে নিতে হয়তো সময় লেগে যায়।

দু’বছর আগের ঘটনা এটি। সীতাকুণ্ডে একটি ডিপোতে আগুনের ঘটনায় ঝরে যায় ৫১টি প্রাণ। ঐ আগুনে কারো দায়ই খুঁজে পায়নি পুলিশের তদন্ত দল। যদিও, ডিপো কর্তৃপক্ষের দায় রয়েছে বলে প্রতিবেদন দিয়েছিলো প্রশাসনিক তদন্ত কমিটি।

অভিযোগ আছে, তদন্তের শুরু থেকেই প্রভাবশালীদের বাদ দেয়ার যে প্রবণতা সেটি বজায় থাকে মামলার শেষ পর্যন্ত। আইন কর্মকর্তারা জানান, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর উদাসীনতা, সাক্ষী না পাওয়াসহ নানা জটিলতায় বিলম্বিত হয় বিচার।

অ্যাটর্নি জেনারেল এএম আমিন উদ্দিন বলেন, যারা বাদী হন এবং সেই সাথে যারা আইনজীবী থাকেন, তারা এক সময় আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন। এইসব কারণে হয়তো, ভুক্তভোগীরা হয়তো মামলা করেন না। কিনবা করতে দেরি করেন। প্রথমদিকে তাদের মধ্যে যে ধরনের স্পৃহা থাকে, এটা হয়তো পরবর্তীতে থাকে না। তবে, এসব কারণ থাকা সত্ত্বেও মনে করি, মামলাগুলোর শুনিনি হওয়া উচিত।

উল্লেখ্য, চাঞ্চল্যকর এসব মামলা দ্রুত শেষ করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের কথা জানান রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন কর্মকর্তা।

কালের চিঠি / আলিফ