রবিবার, ২১ জুলাই ২০২৪, ৬ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

মেট্রোরেলের সক্ষমতা বাড়ায় মিরপুর-মতিঝিল রুটে কমেছে বাস চলাচল ।

উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত মেট্রোরেল পরিষেবা চালু হওয়ার পর সড়কে এই রুটে গণপরিবহণ ব্যবস্থাকে উল্লেখযোগ্যভাবে প্রভাবিত করেছে। বিশেষ করে মিরপুর-আগারগাঁও-ফার্মগেট-পল্টন-গুলিস্তান-মতিঝিল রুটে বাসের সংখ্যা অনেক কমেছে।

এই আধুনিক যোগাযোগের মাধ্যম শুরুর পর বাসে এই রুটে যাত্রী সংখ্যাও বেশ কমেছে। পরিবহণ সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এই রুটে ৩০-৪০ শতাংশ বাসের সংখ্যা কমে গেছে।

গরমের দিনগুলোতে আরও বাস সংখ্যা কমে যাবে বলে তারা জানিয়েছেন। কারণ মেট্রোরেল শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত হওয়ায় যাত্রীরা স্বাচ্ছন্দ্যে যাতায়াত করতে পারবেন।

সকাল ৭টা ১০ মিনিট থেকে শুরু করে রাত ৮টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত মেট্রোরেল চলাচল করায় আর্থিক বিষয় পরিবহণ সংশ্লিষ্টদের ভাবিয়ে তুলেছে। তারা আশঙ্কা করছেন, তাদের হয় রুট পরিবর্তন করতে হবে অথবা বাহন বিক্রি করতে হবে।

শিকড় পরিবহনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শাহজাহান বলেন, ‘মিরপুর-আগারগাঁও-ফার্মগেট-পল্টন রুটে মতিঝিল, যাত্রাবাড়ী, সদরঘাটসহ বিভিন্ন গন্তব্যে প্রতিদিন প্রায় ৩০০-৪০০ বাস চলাচল করছে। তবে অতীতে এই রুটে ৫০০-৬০০ বাস চলাচল করত।’

প্রতিদিন শিকড় পরিবহণের ৮৫-৯০টি বাস চলাচল করলেও এখন সেই সংখ্যা ৬০-৬৫ এ নেমে এসেছে জানিয়ে তিনি বলেন, বিহঙ্গ পরিবহন, বিকল্প অটো সার্ভিসসহ অন্যান্য বাস কোম্পানিগুলোরও একই পরিণতি হচ্ছে।

বিকল্প অটো সার্ভিসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহবুবুর রহমান জানান, মতিঝিল পর্যন্ত মেট্রোরেল চলাচল শুরুর আগে তারা মিরপুর-১২-আগারগাঁও-ফার্মগেট-মতিঝিল রুটে প্রতিদিন গড়ে ৪০-৫০টি বাস চলাচল করত। তবে বর্তমানে এই সংখ্যা নেমে ২০-২৫-এ এসেছে। কিছু বাস অন্য জেলায় চালায় এমন লোকদের কাছে বিক্রি করা হয়েছে। কিছু মালিক তাদের পরিবহণ শহরের অভ্যন্তরে অন্য রুটে স্থানান্তরিত করার চেষ্টা করছেন।’

শিকড় পরিবহণের বাসের হেলপার আমিনুল ইসলাম বলেন, বাসে যাত্রী কমে যাওয়ায় চাকরি হারানোর ভয়ে নতুন চাকরি খুঁজছি।

তবে মেট্রোরেল সেবার কারণে সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালকদের আয় কিছুটা কমলেও বড় আকারে এই প্রভাব পড়েনি।

সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালক বাহাদুর হোসেন বলেন, ‘মেট্রোরেল চলাচলের সময় সিএনজিতে কিছু নির্দিষ্ট রুটে খুব কমই যাত্রীই পাওয়া যায়। এতে যাত্রীদের কম ভাড়ায় নিতে হয়। তাদের দৈনিক আয় ১২০০-১৪০০ টাকা ছিল, যা বর্তমানে ১০০০-১২০০ টাকায় নেমেছে।

এছাড়া মেট্রোরেল সেবার কারণে বাইক রাইড শেয়ারিং সেবা খাতে আয় কিছুটা কমেছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম কমিশনার (ট্রাফিক উত্তর) আবু রায়হান মো. সালেহ বলেন, মেট্রোরেলের সার্ভিসের কারণে মিরপুর-মতিঝিল রুটে যানজট কমে গেছে এবং ট্রাফিক শৃঙ্খলার উন্নতি হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০২২ সালের ২৮ ডিসেম্বর উত্তরা-আগারগাঁও সেকশনে মেট্রোরেল সার্ভিস উদ্বোধন করেন এবং এরপর ৪ নভেম্বর ২০২৩ তারিখে আগারগাঁও-মতিঝিল রুটের উদ্বোধন করেন।

কালের চিঠি/ ফাহিম

Tag :
Popular Post

কোটা বিরোধী আন্দোলনে ঢাকায় ২ শিক্ষার্থী নিহত

মেট্রোরেলের সক্ষমতা বাড়ায় মিরপুর-মতিঝিল রুটে কমেছে বাস চলাচল ।

Update Time : ০২:২৯:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত মেট্রোরেল পরিষেবা চালু হওয়ার পর সড়কে এই রুটে গণপরিবহণ ব্যবস্থাকে উল্লেখযোগ্যভাবে প্রভাবিত করেছে। বিশেষ করে মিরপুর-আগারগাঁও-ফার্মগেট-পল্টন-গুলিস্তান-মতিঝিল রুটে বাসের সংখ্যা অনেক কমেছে।

এই আধুনিক যোগাযোগের মাধ্যম শুরুর পর বাসে এই রুটে যাত্রী সংখ্যাও বেশ কমেছে। পরিবহণ সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এই রুটে ৩০-৪০ শতাংশ বাসের সংখ্যা কমে গেছে।

গরমের দিনগুলোতে আরও বাস সংখ্যা কমে যাবে বলে তারা জানিয়েছেন। কারণ মেট্রোরেল শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত হওয়ায় যাত্রীরা স্বাচ্ছন্দ্যে যাতায়াত করতে পারবেন।

সকাল ৭টা ১০ মিনিট থেকে শুরু করে রাত ৮টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত মেট্রোরেল চলাচল করায় আর্থিক বিষয় পরিবহণ সংশ্লিষ্টদের ভাবিয়ে তুলেছে। তারা আশঙ্কা করছেন, তাদের হয় রুট পরিবর্তন করতে হবে অথবা বাহন বিক্রি করতে হবে।

শিকড় পরিবহনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শাহজাহান বলেন, ‘মিরপুর-আগারগাঁও-ফার্মগেট-পল্টন রুটে মতিঝিল, যাত্রাবাড়ী, সদরঘাটসহ বিভিন্ন গন্তব্যে প্রতিদিন প্রায় ৩০০-৪০০ বাস চলাচল করছে। তবে অতীতে এই রুটে ৫০০-৬০০ বাস চলাচল করত।’

প্রতিদিন শিকড় পরিবহণের ৮৫-৯০টি বাস চলাচল করলেও এখন সেই সংখ্যা ৬০-৬৫ এ নেমে এসেছে জানিয়ে তিনি বলেন, বিহঙ্গ পরিবহন, বিকল্প অটো সার্ভিসসহ অন্যান্য বাস কোম্পানিগুলোরও একই পরিণতি হচ্ছে।

বিকল্প অটো সার্ভিসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহবুবুর রহমান জানান, মতিঝিল পর্যন্ত মেট্রোরেল চলাচল শুরুর আগে তারা মিরপুর-১২-আগারগাঁও-ফার্মগেট-মতিঝিল রুটে প্রতিদিন গড়ে ৪০-৫০টি বাস চলাচল করত। তবে বর্তমানে এই সংখ্যা নেমে ২০-২৫-এ এসেছে। কিছু বাস অন্য জেলায় চালায় এমন লোকদের কাছে বিক্রি করা হয়েছে। কিছু মালিক তাদের পরিবহণ শহরের অভ্যন্তরে অন্য রুটে স্থানান্তরিত করার চেষ্টা করছেন।’

শিকড় পরিবহণের বাসের হেলপার আমিনুল ইসলাম বলেন, বাসে যাত্রী কমে যাওয়ায় চাকরি হারানোর ভয়ে নতুন চাকরি খুঁজছি।

তবে মেট্রোরেল সেবার কারণে সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালকদের আয় কিছুটা কমলেও বড় আকারে এই প্রভাব পড়েনি।

সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালক বাহাদুর হোসেন বলেন, ‘মেট্রোরেল চলাচলের সময় সিএনজিতে কিছু নির্দিষ্ট রুটে খুব কমই যাত্রীই পাওয়া যায়। এতে যাত্রীদের কম ভাড়ায় নিতে হয়। তাদের দৈনিক আয় ১২০০-১৪০০ টাকা ছিল, যা বর্তমানে ১০০০-১২০০ টাকায় নেমেছে।

এছাড়া মেট্রোরেল সেবার কারণে বাইক রাইড শেয়ারিং সেবা খাতে আয় কিছুটা কমেছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম কমিশনার (ট্রাফিক উত্তর) আবু রায়হান মো. সালেহ বলেন, মেট্রোরেলের সার্ভিসের কারণে মিরপুর-মতিঝিল রুটে যানজট কমে গেছে এবং ট্রাফিক শৃঙ্খলার উন্নতি হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০২২ সালের ২৮ ডিসেম্বর উত্তরা-আগারগাঁও সেকশনে মেট্রোরেল সার্ভিস উদ্বোধন করেন এবং এরপর ৪ নভেম্বর ২০২৩ তারিখে আগারগাঁও-মতিঝিল রুটের উদ্বোধন করেন।

কালের চিঠি/ ফাহিম