রবিবার, ২৬ মে ২০২৪, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

সমঝোতার কথা ঘৃণাভরে প্রত্যাখান করেছি : এ্যানি

 

নানা চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। একই দিন দুপুরে জেলের চার দেয়ালের বাইরে আসেন দলটির প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি-ও।

বিএনপি নেতাদের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, জেল জীবন কেমন ছিল? শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেন, জেল তো জেলই। এখানে ভালো থাকার সুযোগ নেই। আমরা সবাই তো নির্যাতিত। মিথ্যা-গায়েবি মামলা দিয়ে হাজার-হাজার নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এই অত্যাচার-নির্যাতন সহ্য করে আমাদের জেল কাটতে হয়েছে।

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বন্দি জীবন তো বন্দিই। ওখানে ভালো থাকার সুযোগ থাকবে না। মানুষের স্বাধীন জীবনযাপন করা আর বন্দি জীবনের মধ্যে বিশাল পার্থক্য। সেই পার্থক্য তো মেনে নিতে হবে। মেনেই নিয়েই কারাগারে থাকতে হবে।

অভিজ্ঞতা শুনতে শুনতে উঠে আসে ‘ভোটে অংশ নিলে একরাতে বিএনপি নেতাদের মুক্তি দেয়া হবে’ সাবেক কৃষিমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের প্রসঙ্গ। নেতারা বলেন, কোনো প্রস্তাব-প্রলোভনে বিশ্বাস করে না বিএনপি।

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বললেন, এখানে সমঝোতার প্রস্তাবের তো কিছু নেই। নিরপেক্ষ, অংশগ্রহণ ও গ্রহণযোগ্য ভোট হবে এবং যাদের নির্বাচিত করা হবে তারা নির্বাচিত হবে। এখানে সমঝোতার প্রস্তাবের সুযোগ নেই। যারা সমঝোতার প্রস্তাবের কথা বলে অর্থাৎ বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক, সাংবিধানিক পরিবেশ নেই। জনগণের ভোটাধিকার নেই।

এ প্রসঙ্গে শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, এরা (আ. লীগ সরকার) তো যা করেছে সব ওপেন করেছে। লুকায়িত করেনি। আর প্রস্তাব দেয়া-নেয়ার মধ্যে আমাদের রাজনীতি সীমাবদ্ধ ছিল না। আমরা রাজনীতি করছি আদর্শের ভিত্তিতে। দেশের গণতন্ত্র ও ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা করার জন্যই আমাদের সংগ্রাম ছিল। এ ধরনের কথা আমরা সবসময় ঘৃণাভরে প্রত্যাখান করেছি।

কথা হয় সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্য সচিব আমিনুল হকের সঙ্গে। তিন মাসেরও বেশি সময় কারাগারে ছিলেন তিনি। দুই দফায় রিমান্ডে ছিলেন ১১ দিন।

বাংলাদেশ ফুটবল দলের সাবেক এ অধিনায়ক বলেন, মানসিকভাবে তারা আমাদেরকে নির্যাতন করেছে। কিন্তু রিমান্ডে আমাদের মানসিকতা ভাঙেনি বিন্দুমাত্র। কথা হচ্ছে, একতরফা নির্বাচনে ভোট দিতে না যেতে জনগণকে বিএনপি আহ্বান করেছিল। তারা যায়নি। এখানে আমাদের জয় হয়েছে।

সরকারবিরোধী কর্মসূচি নিয়ে দলটির নেতারা জানালেন, সবাইকে সম্পৃক্ত করে আবারও নতুন পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নামবে বিএনপি।

কালের চিঠি / আলিফ

Tag :

সমঝোতার কথা ঘৃণাভরে প্রত্যাখান করেছি : এ্যানি

Update Time : ০৩:৩৮:১৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

 

নানা চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। একই দিন দুপুরে জেলের চার দেয়ালের বাইরে আসেন দলটির প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি-ও।

বিএনপি নেতাদের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, জেল জীবন কেমন ছিল? শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেন, জেল তো জেলই। এখানে ভালো থাকার সুযোগ নেই। আমরা সবাই তো নির্যাতিত। মিথ্যা-গায়েবি মামলা দিয়ে হাজার-হাজার নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এই অত্যাচার-নির্যাতন সহ্য করে আমাদের জেল কাটতে হয়েছে।

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বন্দি জীবন তো বন্দিই। ওখানে ভালো থাকার সুযোগ থাকবে না। মানুষের স্বাধীন জীবনযাপন করা আর বন্দি জীবনের মধ্যে বিশাল পার্থক্য। সেই পার্থক্য তো মেনে নিতে হবে। মেনেই নিয়েই কারাগারে থাকতে হবে।

অভিজ্ঞতা শুনতে শুনতে উঠে আসে ‘ভোটে অংশ নিলে একরাতে বিএনপি নেতাদের মুক্তি দেয়া হবে’ সাবেক কৃষিমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের প্রসঙ্গ। নেতারা বলেন, কোনো প্রস্তাব-প্রলোভনে বিশ্বাস করে না বিএনপি।

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বললেন, এখানে সমঝোতার প্রস্তাবের তো কিছু নেই। নিরপেক্ষ, অংশগ্রহণ ও গ্রহণযোগ্য ভোট হবে এবং যাদের নির্বাচিত করা হবে তারা নির্বাচিত হবে। এখানে সমঝোতার প্রস্তাবের সুযোগ নেই। যারা সমঝোতার প্রস্তাবের কথা বলে অর্থাৎ বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক, সাংবিধানিক পরিবেশ নেই। জনগণের ভোটাধিকার নেই।

এ প্রসঙ্গে শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, এরা (আ. লীগ সরকার) তো যা করেছে সব ওপেন করেছে। লুকায়িত করেনি। আর প্রস্তাব দেয়া-নেয়ার মধ্যে আমাদের রাজনীতি সীমাবদ্ধ ছিল না। আমরা রাজনীতি করছি আদর্শের ভিত্তিতে। দেশের গণতন্ত্র ও ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা করার জন্যই আমাদের সংগ্রাম ছিল। এ ধরনের কথা আমরা সবসময় ঘৃণাভরে প্রত্যাখান করেছি।

কথা হয় সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্য সচিব আমিনুল হকের সঙ্গে। তিন মাসেরও বেশি সময় কারাগারে ছিলেন তিনি। দুই দফায় রিমান্ডে ছিলেন ১১ দিন।

বাংলাদেশ ফুটবল দলের সাবেক এ অধিনায়ক বলেন, মানসিকভাবে তারা আমাদেরকে নির্যাতন করেছে। কিন্তু রিমান্ডে আমাদের মানসিকতা ভাঙেনি বিন্দুমাত্র। কথা হচ্ছে, একতরফা নির্বাচনে ভোট দিতে না যেতে জনগণকে বিএনপি আহ্বান করেছিল। তারা যায়নি। এখানে আমাদের জয় হয়েছে।

সরকারবিরোধী কর্মসূচি নিয়ে দলটির নেতারা জানালেন, সবাইকে সম্পৃক্ত করে আবারও নতুন পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নামবে বিএনপি।

কালের চিঠি / আলিফ