সোমবার, ১৭ জুন ২০২৪, ৩ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

চিকিৎসকরা কেন রাজধানীমুখি?

গ্রাম কিংবা মফস্বলে চিকিৎসকের সঙ্কট বাংলাদেশে নিয়মিত চর্চার বিষয়। কিন্তু চিকিৎসকদের পেশাদারিত্ব ও ক্যারিয়ারের ধাপগুলো পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে অন্য গল্প। প্রতিবন্ধকতা রয়েছে তাদের দিক থেকেও। সাধারণত পোস্ট গ্রাজুয়েশন না করলে প্রমোশন পান না চিকিৎসকরা। সাধারণ রোগীরাও যেকোনো সমস্যায় স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে।

কিন্তু সেই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হতে গেলেও পোস্টগ্রাজুয়েশন করার সুযোগ নেই জেলা, এমনকি বিভাগীয় শহরে। বাধ্য হয়ে রাজধানীমুখি হতে হয় তাদের। আবার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পদ বেশি না থাকায়, অনেকে চাইলেও ফিরে যেতে পারেন না গ্রামাঞ্চলে। বিষয়টা এমন যে, বড় হাসপাতালের ভালো ডাক্তার দেখাতে যেমন ঢাকায় যেতে হয়, তেমনি সেই ভালো ডাক্তার হওয়ার নেপথ্যে যে বড় ডিগ্রি ও পরিবেশ সেটিও একজন চিকিৎসক পান না ঢাকার বাইরে।

বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারে উত্তীর্ণ ডাক্তার কানেতা নিয়োগ পান ঢাকার দোহার উপজেলায়। সেখানে বেশ সুনামের সাথেই পালন করেছেন দায়িত্ব। এমনকি গ্রামে থাকতেও কোনো সমস্যা নেই তার। কিন্তু কানেতার স্বপ্ন ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ হওয়া। এটি করতে গেলে ঢাকায় আসা ছাড়া বিকল্প নেই। এক্ষেত্রে মানুষকে সেবা দেয়ার যে মহানব্রত রয়েছে কানেতার সেটি যেমন ঠিক, আবার এটাও ঠিক কানেতাকে কোনো বিশেষ দিকে স্পেশাল চিকিৎসক হতে গেলে বের হতে হবে দোহার থেকে। এ যেনো মধুর যন্ত্রণা।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ডা. রেজাউল করিম কাজল জানান, বড় বড় হাসপাতালগুলোতে পদায়ণ হলে ডাক্তাররা কাজের ক্ষেত্রে আরও বেশি বিকশিত হয়ে ওঠেন। বইয়ের পাতায় যে পুঁথিগত বিদ্যা চিকিৎসকরা পড়ে আসেন সেগুলোর বাস্তবে প্রয়োগ করতে পারেন। এছাড়া কর্মক্ষেত্র ,বাসস্থান ও চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিয়েও কথা বলেন তিনি। এগুলো ঠিক থাকলে পেশাগত জায়গাতেও একজন চিকিৎসক সঠিকভাবে সেবা করার পূর্ণ মানসিকতা পান।

শেখ হাসিনা বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইন্সটিটিউডের অধ্যাপক ডা. আশরাফুল হক বলেন, অন্যান্য প্রশাসনের কর্মকর্তারা যে সুরক্ষা পান তা থেকে চিকিৎসকরা বঞ্চিত। সমসাময়িক বিসিএস বা অন্যান্য ক্যাডারের কর্মকর্তাদের সাথে সামাজিকভাবে সমান্তরাল একটা অবস্থানে আসার জন্যও চেষ্টা থাকে ডাক্তারদের।

মেডিকেল পেশায় পদোন্নতি বেশ ধীর প্রক্রিয়ার। এমবিবিএস পাস করার পর বিসিএস ক্যাডার হিসেবে নিয়োগ পেলেও অন্য ক্যাডারের মতো প্রমোশন হয় না চিকিৎসকদের। স্নাতকোত্তর না থাকায় মেডিকেল অফিসার হিসেবে অবসরে গেছেন এমন নজিরও কম নয়। দেশে মেডিকেল উচ্চ শিক্ষা এখনও বিএসএমএমইউ ও বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিসিয়ানস অ্যান্ড সার্জনস- এই দুই প্রতিষ্ঠান নির্ভর। কিছুদিন ধরে রাজশাহী ও চট্টগ্রামে উচ্চ শিক্ষা নেয়া গেলেও প্রশাসনিক কাজে আসতে হয় ঢাকায়। সবমিলিয়ে ঢাকায় পোস্টিংয়ের অপেক্ষায় থাকেন অধিকাংশ চিকিৎসক।

উল্লেখ্য, দেশের প্রতি বিভাগে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় চালুর ঘোষণা দিয়েছে সরকার। কাগজে কলমে ৫টি যাত্রা শুরু করলেও এখনও চালু হয়নি কার্যক্রম।

কালের চিঠি / আলিফ

Tag :

চিকিৎসকরা কেন রাজধানীমুখি?

Update Time : ০৫:২০:১২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

গ্রাম কিংবা মফস্বলে চিকিৎসকের সঙ্কট বাংলাদেশে নিয়মিত চর্চার বিষয়। কিন্তু চিকিৎসকদের পেশাদারিত্ব ও ক্যারিয়ারের ধাপগুলো পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে অন্য গল্প। প্রতিবন্ধকতা রয়েছে তাদের দিক থেকেও। সাধারণত পোস্ট গ্রাজুয়েশন না করলে প্রমোশন পান না চিকিৎসকরা। সাধারণ রোগীরাও যেকোনো সমস্যায় স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে।

কিন্তু সেই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হতে গেলেও পোস্টগ্রাজুয়েশন করার সুযোগ নেই জেলা, এমনকি বিভাগীয় শহরে। বাধ্য হয়ে রাজধানীমুখি হতে হয় তাদের। আবার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পদ বেশি না থাকায়, অনেকে চাইলেও ফিরে যেতে পারেন না গ্রামাঞ্চলে। বিষয়টা এমন যে, বড় হাসপাতালের ভালো ডাক্তার দেখাতে যেমন ঢাকায় যেতে হয়, তেমনি সেই ভালো ডাক্তার হওয়ার নেপথ্যে যে বড় ডিগ্রি ও পরিবেশ সেটিও একজন চিকিৎসক পান না ঢাকার বাইরে।

বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারে উত্তীর্ণ ডাক্তার কানেতা নিয়োগ পান ঢাকার দোহার উপজেলায়। সেখানে বেশ সুনামের সাথেই পালন করেছেন দায়িত্ব। এমনকি গ্রামে থাকতেও কোনো সমস্যা নেই তার। কিন্তু কানেতার স্বপ্ন ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ হওয়া। এটি করতে গেলে ঢাকায় আসা ছাড়া বিকল্প নেই। এক্ষেত্রে মানুষকে সেবা দেয়ার যে মহানব্রত রয়েছে কানেতার সেটি যেমন ঠিক, আবার এটাও ঠিক কানেতাকে কোনো বিশেষ দিকে স্পেশাল চিকিৎসক হতে গেলে বের হতে হবে দোহার থেকে। এ যেনো মধুর যন্ত্রণা।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ডা. রেজাউল করিম কাজল জানান, বড় বড় হাসপাতালগুলোতে পদায়ণ হলে ডাক্তাররা কাজের ক্ষেত্রে আরও বেশি বিকশিত হয়ে ওঠেন। বইয়ের পাতায় যে পুঁথিগত বিদ্যা চিকিৎসকরা পড়ে আসেন সেগুলোর বাস্তবে প্রয়োগ করতে পারেন। এছাড়া কর্মক্ষেত্র ,বাসস্থান ও চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিয়েও কথা বলেন তিনি। এগুলো ঠিক থাকলে পেশাগত জায়গাতেও একজন চিকিৎসক সঠিকভাবে সেবা করার পূর্ণ মানসিকতা পান।

শেখ হাসিনা বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইন্সটিটিউডের অধ্যাপক ডা. আশরাফুল হক বলেন, অন্যান্য প্রশাসনের কর্মকর্তারা যে সুরক্ষা পান তা থেকে চিকিৎসকরা বঞ্চিত। সমসাময়িক বিসিএস বা অন্যান্য ক্যাডারের কর্মকর্তাদের সাথে সামাজিকভাবে সমান্তরাল একটা অবস্থানে আসার জন্যও চেষ্টা থাকে ডাক্তারদের।

মেডিকেল পেশায় পদোন্নতি বেশ ধীর প্রক্রিয়ার। এমবিবিএস পাস করার পর বিসিএস ক্যাডার হিসেবে নিয়োগ পেলেও অন্য ক্যাডারের মতো প্রমোশন হয় না চিকিৎসকদের। স্নাতকোত্তর না থাকায় মেডিকেল অফিসার হিসেবে অবসরে গেছেন এমন নজিরও কম নয়। দেশে মেডিকেল উচ্চ শিক্ষা এখনও বিএসএমএমইউ ও বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিসিয়ানস অ্যান্ড সার্জনস- এই দুই প্রতিষ্ঠান নির্ভর। কিছুদিন ধরে রাজশাহী ও চট্টগ্রামে উচ্চ শিক্ষা নেয়া গেলেও প্রশাসনিক কাজে আসতে হয় ঢাকায়। সবমিলিয়ে ঢাকায় পোস্টিংয়ের অপেক্ষায় থাকেন অধিকাংশ চিকিৎসক।

উল্লেখ্য, দেশের প্রতি বিভাগে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় চালুর ঘোষণা দিয়েছে সরকার। কাগজে কলমে ৫টি যাত্রা শুরু করলেও এখনও চালু হয়নি কার্যক্রম।

কালের চিঠি / আলিফ