সোমবার, ১৭ জুন ২০২৪, ৩ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

গাইবান্ধায় জুয়ার টাকা জোগাড় করতে সন্তান বিক্রি করে দিলেন বাবা

 

গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে জুয়ার টাকা জোগাড় করতে না পেরে সদ্য ভূমিষ্ঠ হওয়া এক দিনের সন্তান বিক্রির অভিযোগ উঠেছে হেরেন-ঝুম্পা দম্পতির বিরুদ্ধে। বুধবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে উপজেলার বরিশাল ইউপির ভবানীপুর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।

 

জানা যায়, ভবানীপুর গ্রামের মৃত নয়ন চন্দ্র বিশ্বাসের ছেলে হেরেন চন্দ্র বিশ্বাস পেশায় একজন কামার। কাজের পাশাপাশি জুয়া খেলা তার নেশা। প্রায় ২৩ বছর আগে ঝুম্পাকে বিয়ে করেন তিনি। অভাবের সংসারে রনি, নিরঞ্জন, রাবিন্দ্র ও জয়দেব নামে ৪টি ছেলে সন্তানের জন্ম হয়।সর্বশেষ মঙ্গলবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে তার স্ত্রী ঝুম্পা একটি পুত্র সন্তান প্রসব করেন।

 

একদিকে জুয়ার নেশা ও অন্যদিকে সংসারের অভাব। এসব কারণে তাদের সন্তানকে গোবিন্দগঞ্জ পান্থাপাড়া এলাকার গোবিন্দ বাবুর স্ত্রী ভক্তি রাণীর কাছে বিক্রি করেন। পরে ভক্তিরাণী গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক প্রাপ্তকে সঙ্গে নিয়ে ওই সন্তানকে নাটোরের বনপাড়া অজ্ঞাত ব্যক্তির কাছে দত্তক দেয়ার নাম করে অন্য এক ব্যক্তির কাছে ২ লাখ টাকা বিক্রি করেন।

 

সন্তানের মা ঝুম্পা রাণী জানান, ‘জুয়া ও সংসারে অভাবের কারণে সন্তান বিক্রি করেছি। তবে সন্তান কার ঘরে আছে জানি না! যিনি সন্তান নিয়ে গেছেন তিনি আমাদের কাগজে সই নিয়েছেন।’

 

সন্তানের বাবা হেরেন চন্দ্র বলেন, ‘আমি আগে জুয়া খেলতাম এখন আর খেলি না। সংসারে অভাবের কারণে সন্তান দত্তক দিয়েছি। শুনেছি যে সন্তান নিয়ে গেছে তার বাড়ি নাটোর জেলায়। তাদের নাম ঠিকানা কিছুই আমাদের দেয়া হয়নি। মাইক্রোবাসে করে সন্তানটিকে ওরা নিয়ে গেছে। এ ব্যাপারে গোবিন্দগঞ্জ স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক প্রান্ত ভালো জানে।’

 

 

গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক প্রান্তের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘সন্তান কোথায় আছে বলা যাবে না।’

 

ভক্তি রাণীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘কিছু টাকা নিয়ে যান। সন্তান রাজশাহীতে আছে। এরচেয়ে বেশি কিছু বলতে পারবো না।’

 

এ দিকে সন্তান বিক্রির ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সচেতন মহল সন্তানটি উদ্ধার করে মায়ের কাছে হস্তান্তরের জন্য জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ মানবাধিকার সংগঠনগুলোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

 

কালের চিঠি/ আলিফ

Tag :

গাইবান্ধায় জুয়ার টাকা জোগাড় করতে সন্তান বিক্রি করে দিলেন বাবা

Update Time : ০৪:৩৯:২৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

 

গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে জুয়ার টাকা জোগাড় করতে না পেরে সদ্য ভূমিষ্ঠ হওয়া এক দিনের সন্তান বিক্রির অভিযোগ উঠেছে হেরেন-ঝুম্পা দম্পতির বিরুদ্ধে। বুধবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে উপজেলার বরিশাল ইউপির ভবানীপুর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।

 

জানা যায়, ভবানীপুর গ্রামের মৃত নয়ন চন্দ্র বিশ্বাসের ছেলে হেরেন চন্দ্র বিশ্বাস পেশায় একজন কামার। কাজের পাশাপাশি জুয়া খেলা তার নেশা। প্রায় ২৩ বছর আগে ঝুম্পাকে বিয়ে করেন তিনি। অভাবের সংসারে রনি, নিরঞ্জন, রাবিন্দ্র ও জয়দেব নামে ৪টি ছেলে সন্তানের জন্ম হয়।সর্বশেষ মঙ্গলবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে তার স্ত্রী ঝুম্পা একটি পুত্র সন্তান প্রসব করেন।

 

একদিকে জুয়ার নেশা ও অন্যদিকে সংসারের অভাব। এসব কারণে তাদের সন্তানকে গোবিন্দগঞ্জ পান্থাপাড়া এলাকার গোবিন্দ বাবুর স্ত্রী ভক্তি রাণীর কাছে বিক্রি করেন। পরে ভক্তিরাণী গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক প্রাপ্তকে সঙ্গে নিয়ে ওই সন্তানকে নাটোরের বনপাড়া অজ্ঞাত ব্যক্তির কাছে দত্তক দেয়ার নাম করে অন্য এক ব্যক্তির কাছে ২ লাখ টাকা বিক্রি করেন।

 

সন্তানের মা ঝুম্পা রাণী জানান, ‘জুয়া ও সংসারে অভাবের কারণে সন্তান বিক্রি করেছি। তবে সন্তান কার ঘরে আছে জানি না! যিনি সন্তান নিয়ে গেছেন তিনি আমাদের কাগজে সই নিয়েছেন।’

 

সন্তানের বাবা হেরেন চন্দ্র বলেন, ‘আমি আগে জুয়া খেলতাম এখন আর খেলি না। সংসারে অভাবের কারণে সন্তান দত্তক দিয়েছি। শুনেছি যে সন্তান নিয়ে গেছে তার বাড়ি নাটোর জেলায়। তাদের নাম ঠিকানা কিছুই আমাদের দেয়া হয়নি। মাইক্রোবাসে করে সন্তানটিকে ওরা নিয়ে গেছে। এ ব্যাপারে গোবিন্দগঞ্জ স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক প্রান্ত ভালো জানে।’

 

 

গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক প্রান্তের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘সন্তান কোথায় আছে বলা যাবে না।’

 

ভক্তি রাণীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘কিছু টাকা নিয়ে যান। সন্তান রাজশাহীতে আছে। এরচেয়ে বেশি কিছু বলতে পারবো না।’

 

এ দিকে সন্তান বিক্রির ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সচেতন মহল সন্তানটি উদ্ধার করে মায়ের কাছে হস্তান্তরের জন্য জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ মানবাধিকার সংগঠনগুলোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

 

কালের চিঠি/ আলিফ