রবিবার, ১৬ জুন ২০২৪, ১ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

গাইবান্ধায় সবজিতে ভরপুর বাজার,নাগালের বাইরে দাম

 

গাইবান্ধায় শীতের সবজি ভরপুর থাকলেও দাম ক্রেতাসাধারণের নাগালের বাইরে। বাড়তি দাম থাকায় স্বস্তি মিলছে না কোনো পণ্যেই। এতে অস্বস্তিতে নিম্ন-মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষেরা।

প্রয়োজনের তুলনায় কম বাজার নিয়ে ঘরে ফিরতে হচ্ছে। নিত্যপণ্যের এই ঊর্ধ্বমূল্যের বাজারে সংসার চালাতেই হিমশিম খাচ্ছে সীমিত আয়ের মানুষের। গাইবান্ধায় জেলার বাজারগুলোতে শীতের শুরু থেকেই আসতে শুরু করে সবজি। প্রতিটি আড়তে শীতের সবজির সরবরাহ বাড়লেও দাম রয়েছে আগের মতই।

শীতের প্রায় শেষ মুহূর্তেও সর্বনিম্ন ৫০ টাকা ও সর্বোচ্চ ৮০ টাকা কেজি দরে প্রতিটি সবজি বিক্রি করা হচ্ছে। এ সময়ে যে সবজি ১০ থেকে ১২ টাকায় পাওয়া যেত সেটা এখন ৫০টাকার উপরে বিক্রি হচ্ছে। আর ক্রেতাদের অভিযোগ, বাজারের অন্যান্য পণ্যের সঙ্গে তাল মিলিয়ে মৌসুমি সবজি বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে। তবে বাজারে শীতের সবজির সরবরাহ বাড়লেও দামে অসন্তুষ্ট ক্রেতাসাধারণ।

কাঁচা বাজারে সবজি আড়তে গিয়ে দেখা যায়, পাইকার ও খুচরা বাজারে প্রচুর শীতের সবজি উঠেছে। মুলা, টমেটো, আলু, বেগুন, ফুলকপি, মানকচু, পটল, ঝিঙে, পেঁপে, বরবটি, শিম, লাউ, মিষ্টি কুমড়ো, টমেটো, বাঁধাকপিসহ আরও অনেক শীতের সবজি আড়ত ও দোকানগুলোতে সাজিয়ে রাখা হয়েছে। তবে তুলনামূলক দাম আগের মতোই।

প্রতি কেজি পেঁপে ৩০-৪০ টাকা, বেগুন ৭০-৮০ টাকা, ঢেঁড়শ ৬০ টাকা, বরবটি ৬০-৮০ টাকা, করলা ৬০-৭০ টাকা, কাঁচা মরিচ ১০০ টাকা, চিচিঙ্গা ৭০-৮০ টাকা, মুলা ৪০ টাকা, শিম ৮০ থেকে ৯০ টাকা, ফুলকপি ৫০ থেকে ৬০ টাকা, বাঁধা কপি ৫০ থেকে ৬০ টাকা, পাকা টমেটো প্রকারভেদে ৮০ থেকে ১০০ টাকা, কাঁচা টমেটো ৫০ টাকা, কচুরমুখী ৭০ টাকা এবং গাজর ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

পুরাতন বাজারে সবজি কিনতে আসা রাজ্জাক আলী বলেন, অন্যান্য বছরে এই সময়ে বাজারে শীতের সবজির দাম অনেক কম থাকে। মৌসুমি সবজি কোনটিই ৫০ থেকে ৬০ টাকার নিচে নেই। শীতের সবজি বাজারে উঠলেও তা কমছে না। সবজি কিনতে গেলে আর কোনো বাজার করা যাচ্ছে না।

সবজি বিক্রেতা আব্দুল খালেক বলেন, এ বছর তুলনামূলক সরবরাহ কম। বৈরী আবহাওয়ার কারণে সবজির উৎপাদন কম হয়েছে। কিছু দিনের মধ্যে বাজার স্বাভাবিক পর্যায়ে আসবে। সবজি চাষের মূল সময়ে এ বছর বৃষ্টির পানি হয়নি। এ কারণে সবজির উৎপাদন কম। তাই কয়েক মাস আগে থেকেই সবজির দাম চড়া।

গাইবান্ধা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক খোরমেদ আলম বলেন, গাইবান্ধা জেলায় ১১হাজার হেক্টর জমিতে সবজি চাষ হয়েছে এ বছর। কৃষকরা তাদের উৎপাদিত সবজির দাম ভালো পাচ্ছেন। কৃষি বিভাগ সবজি চাষের জন্য নানা ভাবে কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছে।

কালের চিঠি / আলিফ

Tag :

গাইবান্ধায় সবজিতে ভরপুর বাজার,নাগালের বাইরে দাম

Update Time : ০৭:১২:৪৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

 

গাইবান্ধায় শীতের সবজি ভরপুর থাকলেও দাম ক্রেতাসাধারণের নাগালের বাইরে। বাড়তি দাম থাকায় স্বস্তি মিলছে না কোনো পণ্যেই। এতে অস্বস্তিতে নিম্ন-মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষেরা।

প্রয়োজনের তুলনায় কম বাজার নিয়ে ঘরে ফিরতে হচ্ছে। নিত্যপণ্যের এই ঊর্ধ্বমূল্যের বাজারে সংসার চালাতেই হিমশিম খাচ্ছে সীমিত আয়ের মানুষের। গাইবান্ধায় জেলার বাজারগুলোতে শীতের শুরু থেকেই আসতে শুরু করে সবজি। প্রতিটি আড়তে শীতের সবজির সরবরাহ বাড়লেও দাম রয়েছে আগের মতই।

শীতের প্রায় শেষ মুহূর্তেও সর্বনিম্ন ৫০ টাকা ও সর্বোচ্চ ৮০ টাকা কেজি দরে প্রতিটি সবজি বিক্রি করা হচ্ছে। এ সময়ে যে সবজি ১০ থেকে ১২ টাকায় পাওয়া যেত সেটা এখন ৫০টাকার উপরে বিক্রি হচ্ছে। আর ক্রেতাদের অভিযোগ, বাজারের অন্যান্য পণ্যের সঙ্গে তাল মিলিয়ে মৌসুমি সবজি বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে। তবে বাজারে শীতের সবজির সরবরাহ বাড়লেও দামে অসন্তুষ্ট ক্রেতাসাধারণ।

কাঁচা বাজারে সবজি আড়তে গিয়ে দেখা যায়, পাইকার ও খুচরা বাজারে প্রচুর শীতের সবজি উঠেছে। মুলা, টমেটো, আলু, বেগুন, ফুলকপি, মানকচু, পটল, ঝিঙে, পেঁপে, বরবটি, শিম, লাউ, মিষ্টি কুমড়ো, টমেটো, বাঁধাকপিসহ আরও অনেক শীতের সবজি আড়ত ও দোকানগুলোতে সাজিয়ে রাখা হয়েছে। তবে তুলনামূলক দাম আগের মতোই।

প্রতি কেজি পেঁপে ৩০-৪০ টাকা, বেগুন ৭০-৮০ টাকা, ঢেঁড়শ ৬০ টাকা, বরবটি ৬০-৮০ টাকা, করলা ৬০-৭০ টাকা, কাঁচা মরিচ ১০০ টাকা, চিচিঙ্গা ৭০-৮০ টাকা, মুলা ৪০ টাকা, শিম ৮০ থেকে ৯০ টাকা, ফুলকপি ৫০ থেকে ৬০ টাকা, বাঁধা কপি ৫০ থেকে ৬০ টাকা, পাকা টমেটো প্রকারভেদে ৮০ থেকে ১০০ টাকা, কাঁচা টমেটো ৫০ টাকা, কচুরমুখী ৭০ টাকা এবং গাজর ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

পুরাতন বাজারে সবজি কিনতে আসা রাজ্জাক আলী বলেন, অন্যান্য বছরে এই সময়ে বাজারে শীতের সবজির দাম অনেক কম থাকে। মৌসুমি সবজি কোনটিই ৫০ থেকে ৬০ টাকার নিচে নেই। শীতের সবজি বাজারে উঠলেও তা কমছে না। সবজি কিনতে গেলে আর কোনো বাজার করা যাচ্ছে না।

সবজি বিক্রেতা আব্দুল খালেক বলেন, এ বছর তুলনামূলক সরবরাহ কম। বৈরী আবহাওয়ার কারণে সবজির উৎপাদন কম হয়েছে। কিছু দিনের মধ্যে বাজার স্বাভাবিক পর্যায়ে আসবে। সবজি চাষের মূল সময়ে এ বছর বৃষ্টির পানি হয়নি। এ কারণে সবজির উৎপাদন কম। তাই কয়েক মাস আগে থেকেই সবজির দাম চড়া।

গাইবান্ধা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক খোরমেদ আলম বলেন, গাইবান্ধা জেলায় ১১হাজার হেক্টর জমিতে সবজি চাষ হয়েছে এ বছর। কৃষকরা তাদের উৎপাদিত সবজির দাম ভালো পাচ্ছেন। কৃষি বিভাগ সবজি চাষের জন্য নানা ভাবে কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছে।

কালের চিঠি / আলিফ