রবিবার, ২৬ মে ২০২৪, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

মুলা খেলেই গ্যাস হয়? যেভাবে খেলে হবে না সমস্যা ।

উপকারী ও পুষ্টিকর খাবারের মধ্যে বরাবরই বিভিন্ন প্রকার শাক-সবজির নাম উঠে আসে। তবে অনেকেরই সবজিতে অনীহা দেখা যায়। বিশেষত, শীতকালীন সবজি মুলা রীতিমতো যেন কিছু কিছু মানুষের ‘চোখের বিষ’। তবে পুষ্টিগুণে ভরপুর এ সবজি কিন্তু ক্যানসারের মতো রোগের সঙ্গে লড়াই করতে সাহায্য করে। বিশেষ করে- কোলন, পেট, অন্ত্র, মুখ ও কিডনির ক্যানসারের ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখে চিরচেনা এই সবজিটি।

শীতকালীন সবজি মুলায় প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ‘সি’ পাওয়া যায়। যা আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে অসামান্য ভূমিকা রাখে। আবার মৌসুমী সবজি মুলাতে নেই কোনো কোলেস্টেরল। এ জন্য চিকিৎসকেরাও উপকারী এ সবজিটি খেতে পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

তবে মুলা যে শুধু রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাই বৃদ্ধি করে তা কিন্তু নয়। এই শীতের সময়ে প্রতিদিন উপকারী এ সবজিটি খেলে সর্দি-কাশির সমস্যা থেকে রেহাই পাওয়া যায়। চিরচেনা এ সবজি আবার হজম ক্ষমতার উন্নতির পাশাপাশি পাচনতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে সক্ষম। এছাড়া মুলা রক্তে শর্করার পরিমাণও অনেকাংশে কমিয়ে দেয়। সেই সঙ্গে শরীরে লোহিত রক্তকণিকা সংশ্লেষণে সাহায্য করে- এমনটাই জানিয়েছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজের (ঢামেক) মেডিসিন ট্রেইনি (এফসিপিএস পার্ট-২) ডা. মুনা তালুকদার।

কিন্তু বেশিরভাগ মানুষই উপকারী এ সবজিটি গ্যাসের সমস্যার কারণে খেতে চান না। প্রায়ই এটি বিব্রত হওয়ার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। কেউ কেউ তো মুলার উটকো গন্ধই সহ্য করতে পারেন না। তবে কি উপকারী এই সবজির পুষ্টিগুণ থেকে বঞ্চিত হতে হবে? এমনটা যেন না হয় সে জন্য কিছু বিষয় মেনে মুলার তরকারি খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন পুষ্টিবিদেরা। যেমন: ঝোল করে অথবা ভাজি করে খাওয়া যেতে পারে মুলা। তবে এর সঙ্গে অবশ্যই অন্য সবজিও মিশয়ে নিতে হবে। আবার মাছ কিংবা মাংস দিয়েও মুলা রান্না করতে পারেন।

শুধু মুলার তরকারি খেলে গ্যাসের সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা বাড়ে। তাই কাঁচা মুলাও খাওয়া মোটেই উচিত নয়। এছাড়া মুলার গন্ধ এড়াতে রান্নার সময় খানিকটা বেশি পরিমাণে তেল ব্যবহার করতে পারেন। তবে ক্যালরি নিয়ে সচেতন হলে ঝোল করেই মুলা খাওয়া উত্তম। কিন্তু সকালের নাশতায় উপকারী এ সবজি এড়িয়ে চলাই ভালো।

একইভাবে রাতে ঘুমাতে যাওয়ার সময় মুলা খেলে খানিকটা সময় হাঁটাহাঁটি করতে হবে। কারণ, মুলা হজম হতে অনেক সময় নেয়। ফলে রাতে সবজিটি খেয়েই ঘুমাতে যাবেন না। এ জন্য দিনের বেলাতেই চিরচেনা এ সবজির তরকারি খাওয়া উত্তম।

কালের চিঠি / ফাহিম

Tag :

মুলা খেলেই গ্যাস হয়? যেভাবে খেলে হবে না সমস্যা ।

Update Time : ০৬:০৬:৩৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

উপকারী ও পুষ্টিকর খাবারের মধ্যে বরাবরই বিভিন্ন প্রকার শাক-সবজির নাম উঠে আসে। তবে অনেকেরই সবজিতে অনীহা দেখা যায়। বিশেষত, শীতকালীন সবজি মুলা রীতিমতো যেন কিছু কিছু মানুষের ‘চোখের বিষ’। তবে পুষ্টিগুণে ভরপুর এ সবজি কিন্তু ক্যানসারের মতো রোগের সঙ্গে লড়াই করতে সাহায্য করে। বিশেষ করে- কোলন, পেট, অন্ত্র, মুখ ও কিডনির ক্যানসারের ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখে চিরচেনা এই সবজিটি।

শীতকালীন সবজি মুলায় প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ‘সি’ পাওয়া যায়। যা আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে অসামান্য ভূমিকা রাখে। আবার মৌসুমী সবজি মুলাতে নেই কোনো কোলেস্টেরল। এ জন্য চিকিৎসকেরাও উপকারী এ সবজিটি খেতে পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

তবে মুলা যে শুধু রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাই বৃদ্ধি করে তা কিন্তু নয়। এই শীতের সময়ে প্রতিদিন উপকারী এ সবজিটি খেলে সর্দি-কাশির সমস্যা থেকে রেহাই পাওয়া যায়। চিরচেনা এ সবজি আবার হজম ক্ষমতার উন্নতির পাশাপাশি পাচনতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে সক্ষম। এছাড়া মুলা রক্তে শর্করার পরিমাণও অনেকাংশে কমিয়ে দেয়। সেই সঙ্গে শরীরে লোহিত রক্তকণিকা সংশ্লেষণে সাহায্য করে- এমনটাই জানিয়েছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজের (ঢামেক) মেডিসিন ট্রেইনি (এফসিপিএস পার্ট-২) ডা. মুনা তালুকদার।

কিন্তু বেশিরভাগ মানুষই উপকারী এ সবজিটি গ্যাসের সমস্যার কারণে খেতে চান না। প্রায়ই এটি বিব্রত হওয়ার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। কেউ কেউ তো মুলার উটকো গন্ধই সহ্য করতে পারেন না। তবে কি উপকারী এই সবজির পুষ্টিগুণ থেকে বঞ্চিত হতে হবে? এমনটা যেন না হয় সে জন্য কিছু বিষয় মেনে মুলার তরকারি খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন পুষ্টিবিদেরা। যেমন: ঝোল করে অথবা ভাজি করে খাওয়া যেতে পারে মুলা। তবে এর সঙ্গে অবশ্যই অন্য সবজিও মিশয়ে নিতে হবে। আবার মাছ কিংবা মাংস দিয়েও মুলা রান্না করতে পারেন।

শুধু মুলার তরকারি খেলে গ্যাসের সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা বাড়ে। তাই কাঁচা মুলাও খাওয়া মোটেই উচিত নয়। এছাড়া মুলার গন্ধ এড়াতে রান্নার সময় খানিকটা বেশি পরিমাণে তেল ব্যবহার করতে পারেন। তবে ক্যালরি নিয়ে সচেতন হলে ঝোল করেই মুলা খাওয়া উত্তম। কিন্তু সকালের নাশতায় উপকারী এ সবজি এড়িয়ে চলাই ভালো।

একইভাবে রাতে ঘুমাতে যাওয়ার সময় মুলা খেলে খানিকটা সময় হাঁটাহাঁটি করতে হবে। কারণ, মুলা হজম হতে অনেক সময় নেয়। ফলে রাতে সবজিটি খেয়েই ঘুমাতে যাবেন না। এ জন্য দিনের বেলাতেই চিরচেনা এ সবজির তরকারি খাওয়া উত্তম।

কালের চিঠি / ফাহিম