বৃহস্পতিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৪, ১২ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

ফেসবুকের এমপি বলেছেন যাকে

 

‘ফেসবুকের এমপি’ বলেছেন যাকে ।

স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য সৈয়দ সায়েদুল হক বলেছেন, তিনি ‘ফেসবুকের এমপি’ ঠিকই, কিন্তু তাঁকে ফসল হিসেবে তুলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আরেক স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য হুছামুদ্দীন চৌধুরী বলেছেন, তাঁকে সংসদ নির্বাচনে আসার প্রেরণা ও স্নেহছায়া দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

আজ মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে এই দুই স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য এসব কথা বলেন।
সায়েদুল হক বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যখন আমার দেখা হয় উনি আমাকে হেসে হেসে বলেছিলেন তুমি তো ফেসবুকের মধ্য দিয়ে এমপি হয়ে গিয়েছ।’

ফেসবুক ব্যবহার করে সংসদ সদস্য হয়েছেন উল্লেখ করে সায়েদুল হক বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশে রূপান্তর করার ‘প্রোডাক্ট’ হচ্ছে ফেসবুক। ডিজিটাল বাংলাদেশ না হলে তিনি ফেসবুকে সাত মিলিয়ন ফলোয়ার (অনুসারী) তৈরি করতে পারতেন না।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে জনপ্রিয় স্বতন্ত্র এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘আপনি বলতেই পারেন যে আমি ফেসবুকের এমপি ঠিকই, কিন্তু আমাকে যিনি ফসল হিসেবে তুলেছেন…এটা জননেত্রী শেখ হাসিনা, আমাকে ফসল হিসেবে তুলেছেন।’

এই বক্তব্যকে টেবিল চাপড়ে স্বাগত জানান অন্য সংসদ সদস্যরা। অধিবেশন কক্ষে থাকা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকেও এ সময় হাস্যোজ্জ্বল দেখা যায়।

অনেকটা হাস্যরস করে সায়েদুল হক বলেন, সৌভাগ্য কি দুর্ভাগ্য তিনি জানেন না। তাঁর আসন পড়েছে প্রধানমন্ত্রীর সামনে (প্রধানমন্ত্রীর আসনের উল্টো দিকে পেছনের সারিতে)। তিনি সব দেখতে পান। বিরোধী দল ও স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যদের আসন পড়েছে প্রধানমন্ত্রীর চোখের সামনে। নড়াচড়ার কোনো সুযোগ নাই।

সায়েদুল হক বলেন, ‘আমরা সংসদের বাইরেও নড়তে পারব না, ভেতরেও পারতেছি না। তবে আমি ভয় পাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পেছনে যাঁরা (সরকারি দলের সদস্য) বসছেন, তাঁরা তো সকল ক্ষমতার উৎস, তাঁদের হয়তো মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সব সময় চোখে দেখতে পারেন না। তবে আমার বিশ্বাস, প্রধানমন্ত্রী আমাদের যেভাবে দেখবেন, পেছনে যাঁরা আছেন, এদেরকেও যদি একটু চেক করেন…।’ এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকেও হাসতে দেখা যায়।

সংসদে নিজের অবস্থান কী হবে, তা তুলে ধরে সায়েদুল হক বলেন, তিনি সরকারের বিরোধিতা করবেন। তবে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ ও বঙ্গবন্ধুর বিষয়ে সবাই এক ও অভিন্ন।
সরকারের উন্নয়নের প্রশংসা করে সায়েদুল হক বলেন, হৃদয়ে দেশপ্রেম থাকলে টাকা কোনো সমস্যা না, এটা প্রমাণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। এত সফলতার মধ্যেও কিছু সমস্যা আছে। দ্রব্যমূল্যের অবস্থা খুবই খারাপ। ব্যাংকগুলোর অবস্থা খুব খারাপ। টাকা পাচার কোনোভাবে রোধ করা যাচ্ছে না। পরবর্তী সময়ে তিনি এসব বিষয় নিয়ে কথা বলবেন।

নির্বাচনে আসার প্রেরণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী
স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য হুছামুদ্দীন চৌধুরী বলেছেন, তাঁকে সংসদ নির্বাচনে আসার প্রেরণা ও স্নেহছায়া দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, সব ধর্মের সহাবস্থান নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী ইসলামি শিক্ষার জন্য যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, তা দেশের ইতিহাসে কেউ করতে পারেননি। একই সঙ্গে তিনি শিক্ষাব্যবস্থার দিকে নজর দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, কারিকুলাম (শিক্ষাক্রম) নিয়ে কিছুটা বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। একটি পাঠ্যবইয়ের মানচিত্রে ফিলিস্তিন প্রসঙ্গে কিছু ভুল হয়েছে, যা দুঃখজনক।

কালের চিঠি/ফাহিম

Tag :

ফেসবুকের এমপি বলেছেন যাকে

Update Time : ১০:১৩:৪৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

 

‘ফেসবুকের এমপি’ বলেছেন যাকে ।

স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য সৈয়দ সায়েদুল হক বলেছেন, তিনি ‘ফেসবুকের এমপি’ ঠিকই, কিন্তু তাঁকে ফসল হিসেবে তুলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আরেক স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য হুছামুদ্দীন চৌধুরী বলেছেন, তাঁকে সংসদ নির্বাচনে আসার প্রেরণা ও স্নেহছায়া দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

আজ মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে এই দুই স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য এসব কথা বলেন।
সায়েদুল হক বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যখন আমার দেখা হয় উনি আমাকে হেসে হেসে বলেছিলেন তুমি তো ফেসবুকের মধ্য দিয়ে এমপি হয়ে গিয়েছ।’

ফেসবুক ব্যবহার করে সংসদ সদস্য হয়েছেন উল্লেখ করে সায়েদুল হক বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশে রূপান্তর করার ‘প্রোডাক্ট’ হচ্ছে ফেসবুক। ডিজিটাল বাংলাদেশ না হলে তিনি ফেসবুকে সাত মিলিয়ন ফলোয়ার (অনুসারী) তৈরি করতে পারতেন না।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে জনপ্রিয় স্বতন্ত্র এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘আপনি বলতেই পারেন যে আমি ফেসবুকের এমপি ঠিকই, কিন্তু আমাকে যিনি ফসল হিসেবে তুলেছেন…এটা জননেত্রী শেখ হাসিনা, আমাকে ফসল হিসেবে তুলেছেন।’

এই বক্তব্যকে টেবিল চাপড়ে স্বাগত জানান অন্য সংসদ সদস্যরা। অধিবেশন কক্ষে থাকা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকেও এ সময় হাস্যোজ্জ্বল দেখা যায়।

অনেকটা হাস্যরস করে সায়েদুল হক বলেন, সৌভাগ্য কি দুর্ভাগ্য তিনি জানেন না। তাঁর আসন পড়েছে প্রধানমন্ত্রীর সামনে (প্রধানমন্ত্রীর আসনের উল্টো দিকে পেছনের সারিতে)। তিনি সব দেখতে পান। বিরোধী দল ও স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যদের আসন পড়েছে প্রধানমন্ত্রীর চোখের সামনে। নড়াচড়ার কোনো সুযোগ নাই।

সায়েদুল হক বলেন, ‘আমরা সংসদের বাইরেও নড়তে পারব না, ভেতরেও পারতেছি না। তবে আমি ভয় পাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পেছনে যাঁরা (সরকারি দলের সদস্য) বসছেন, তাঁরা তো সকল ক্ষমতার উৎস, তাঁদের হয়তো মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সব সময় চোখে দেখতে পারেন না। তবে আমার বিশ্বাস, প্রধানমন্ত্রী আমাদের যেভাবে দেখবেন, পেছনে যাঁরা আছেন, এদেরকেও যদি একটু চেক করেন…।’ এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকেও হাসতে দেখা যায়।

সংসদে নিজের অবস্থান কী হবে, তা তুলে ধরে সায়েদুল হক বলেন, তিনি সরকারের বিরোধিতা করবেন। তবে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ ও বঙ্গবন্ধুর বিষয়ে সবাই এক ও অভিন্ন।
সরকারের উন্নয়নের প্রশংসা করে সায়েদুল হক বলেন, হৃদয়ে দেশপ্রেম থাকলে টাকা কোনো সমস্যা না, এটা প্রমাণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। এত সফলতার মধ্যেও কিছু সমস্যা আছে। দ্রব্যমূল্যের অবস্থা খুবই খারাপ। ব্যাংকগুলোর অবস্থা খুব খারাপ। টাকা পাচার কোনোভাবে রোধ করা যাচ্ছে না। পরবর্তী সময়ে তিনি এসব বিষয় নিয়ে কথা বলবেন।

নির্বাচনে আসার প্রেরণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী
স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য হুছামুদ্দীন চৌধুরী বলেছেন, তাঁকে সংসদ নির্বাচনে আসার প্রেরণা ও স্নেহছায়া দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, সব ধর্মের সহাবস্থান নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী ইসলামি শিক্ষার জন্য যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, তা দেশের ইতিহাসে কেউ করতে পারেননি। একই সঙ্গে তিনি শিক্ষাব্যবস্থার দিকে নজর দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, কারিকুলাম (শিক্ষাক্রম) নিয়ে কিছুটা বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। একটি পাঠ্যবইয়ের মানচিত্রে ফিলিস্তিন প্রসঙ্গে কিছু ভুল হয়েছে, যা দুঃখজনক।

কালের চিঠি/ফাহিম