মঙ্গলবার, ২১ মে ২০২৪, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

ভালো কথা বললেও আপনারা অন্যভাবে নেন, সাংবাদিকদের আইনমন্ত্রী

‘সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্ত শেষ করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যদি ৫০ বছর সময় নেয় তাহলে ততদিন অপেক্ষা করতে হবে’ কথাটি আপেক্ষিক অর্থে বলেছিলেন বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।

তিনি বলেন, ‘এটা বিতর্কের প্রশ্ন না। আমার কষ্ট হয়। আপনাদের (সাংবাদিক) জন্য ভালো কথা বললেও আপনারা অন্যভাবে নেন। আমি বলেছি, যারা সত্যিকারের এই অপরাধটা করেছে তাদের ধৃত করার জন্য সবরকম চেষ্টা করেও যদি সময় লাগে এবং আপেক্ষিকভাবে আমি বলেছি ৫০ বছরও যদি লাগে। কিন্তু যারা এই অপরাধ করেছে তাদের ধরার জন্য যত সময় লাগুক, আমরা ধরব। এই কথাকে আপনারা (সাংবাদিক) মনে করেছেন যে, ৫০ বছর লাগবে।’

 

শুক্রবার সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া রেলস্টেশনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আমার কথা হচ্ছে সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া উচিত। আসল অপরাধীকে ধরা উচিত। আমাদের আইনি কাঠামোতে বলা হয়, যে অপরাধী নয়, তাকে হয়রানি করা যাবে না। প্রকৃত অপরাধীকে ধরতে হবে। সেই কারণে আমি এই কথা বলেছি। আপনারা (সাংবাদিক) গেলেন ক্ষেপে। আমি বুঝলাম না ভালো কথা বললেও আপনারা এ রকম ক্ষেপে যান কেন?’

এই মামলাটির তদন্ত ধীর গতি হচ্ছে কিনা ও এ রকম বিলম্বে তদন্তের আর নজির আছে কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে আনিসুল হক বলেন, ‘আমি যেই কারণে সময়ের কথাটা বলেছি। পৃথিবীতে এ রকম অনেক মামলা আছে। ৪২ বছর পরে ইউনাইটেড কিংডমে (যুক্তরাজ্য) একটি খুনের মামলার আসামিদের ধরতে পেরেছে। আমেরিকায় কিছু দিন আগে ২৪ বছর পরে একটি খুনের মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে।’

তিনি বলেন, ‘আমার কথা হচ্ছে- পুলিশ চেষ্টা করছে। তাদের তদন্ত চলছে। প্রকৃত আসামীকে এখন পর্যন্ত তদন্তে ধরতে পারছে না, এই জন্য তদন্তে সময় লাগছে।’

এ সময় সাংবাদিকদের প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা কি চান তদন্ত বন্ধ হয়ে যাক। আমি এই কারণেই বলেছি, যতক্ষণ পর্যন্ত অপরাধীকে না ধরা হবে ততদিন পর্যন্ত তদন্ত চলবে।’

এর আগে ঢাকা থেকে আন্তঃনগর মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেনে চড়ে সোয়া সকাল সোয়া ১০টায় আখাউড়া জংশন স্টেশনে পৌঁছান আইনমন্ত্রী। এ সময় তাকে স্বাগত জানান দলীয় নেতাকর্মীরা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন- আখাউড়া উপাজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহাম্মদ আলী চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র তাকজিল খলিফা কাজল, যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. আতাউর রহমান নাজিম, আব্দুল মমিন বাবুল, ছাত্রলীগের সভাপতি শাহাব উদ্দিন বেগ শাপলু, সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন নয়ন, উপজেলা মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক পিয়ারা আক্তার পিওনা প্রমুখ।

বিকালে কসবা উপজেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত গণসংবর্ধনায় অংশ নেবেন আনিসুল হক। পরদিন শনিবার আখাউড়া উপজেলার ধরখার ইউনিয়নে একটি সেতু উদ্বোধন ও দলীয় জনসভায় যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে

কালের চিঠি / আশিকুর

Tag :

ভালো কথা বললেও আপনারা অন্যভাবে নেন, সাংবাদিকদের আইনমন্ত্রী

Update Time : ০৯:৫২:১৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

‘সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্ত শেষ করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যদি ৫০ বছর সময় নেয় তাহলে ততদিন অপেক্ষা করতে হবে’ কথাটি আপেক্ষিক অর্থে বলেছিলেন বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।

তিনি বলেন, ‘এটা বিতর্কের প্রশ্ন না। আমার কষ্ট হয়। আপনাদের (সাংবাদিক) জন্য ভালো কথা বললেও আপনারা অন্যভাবে নেন। আমি বলেছি, যারা সত্যিকারের এই অপরাধটা করেছে তাদের ধৃত করার জন্য সবরকম চেষ্টা করেও যদি সময় লাগে এবং আপেক্ষিকভাবে আমি বলেছি ৫০ বছরও যদি লাগে। কিন্তু যারা এই অপরাধ করেছে তাদের ধরার জন্য যত সময় লাগুক, আমরা ধরব। এই কথাকে আপনারা (সাংবাদিক) মনে করেছেন যে, ৫০ বছর লাগবে।’

 

শুক্রবার সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া রেলস্টেশনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আমার কথা হচ্ছে সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া উচিত। আসল অপরাধীকে ধরা উচিত। আমাদের আইনি কাঠামোতে বলা হয়, যে অপরাধী নয়, তাকে হয়রানি করা যাবে না। প্রকৃত অপরাধীকে ধরতে হবে। সেই কারণে আমি এই কথা বলেছি। আপনারা (সাংবাদিক) গেলেন ক্ষেপে। আমি বুঝলাম না ভালো কথা বললেও আপনারা এ রকম ক্ষেপে যান কেন?’

এই মামলাটির তদন্ত ধীর গতি হচ্ছে কিনা ও এ রকম বিলম্বে তদন্তের আর নজির আছে কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে আনিসুল হক বলেন, ‘আমি যেই কারণে সময়ের কথাটা বলেছি। পৃথিবীতে এ রকম অনেক মামলা আছে। ৪২ বছর পরে ইউনাইটেড কিংডমে (যুক্তরাজ্য) একটি খুনের মামলার আসামিদের ধরতে পেরেছে। আমেরিকায় কিছু দিন আগে ২৪ বছর পরে একটি খুনের মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে।’

তিনি বলেন, ‘আমার কথা হচ্ছে- পুলিশ চেষ্টা করছে। তাদের তদন্ত চলছে। প্রকৃত আসামীকে এখন পর্যন্ত তদন্তে ধরতে পারছে না, এই জন্য তদন্তে সময় লাগছে।’

এ সময় সাংবাদিকদের প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা কি চান তদন্ত বন্ধ হয়ে যাক। আমি এই কারণেই বলেছি, যতক্ষণ পর্যন্ত অপরাধীকে না ধরা হবে ততদিন পর্যন্ত তদন্ত চলবে।’

এর আগে ঢাকা থেকে আন্তঃনগর মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেনে চড়ে সোয়া সকাল সোয়া ১০টায় আখাউড়া জংশন স্টেশনে পৌঁছান আইনমন্ত্রী। এ সময় তাকে স্বাগত জানান দলীয় নেতাকর্মীরা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন- আখাউড়া উপাজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহাম্মদ আলী চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র তাকজিল খলিফা কাজল, যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. আতাউর রহমান নাজিম, আব্দুল মমিন বাবুল, ছাত্রলীগের সভাপতি শাহাব উদ্দিন বেগ শাপলু, সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন নয়ন, উপজেলা মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক পিয়ারা আক্তার পিওনা প্রমুখ।

বিকালে কসবা উপজেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত গণসংবর্ধনায় অংশ নেবেন আনিসুল হক। পরদিন শনিবার আখাউড়া উপজেলার ধরখার ইউনিয়নে একটি সেতু উদ্বোধন ও দলীয় জনসভায় যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে

কালের চিঠি / আশিকুর