রবিবার, ২৬ মে ২০২৪, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

মেট্রোরেল- কোচ বাড়িয়ে চাপ সামাল দেওয়ার উদ্যোগ

 

কয়েক মাসের মধ্যে পিক আওয়ারে ট্রেন চলবে ৫ মিনিট অন্তর, চলবে রাত ১১ টা পর্যন্ত।

 

এখন ছয়টি কোচে একেকটি ট্রেনে একসঙ্গে সর্বোচ্চ ২ হাজার ৩০০ জন যাত্রী উঠতে পারে। কোচের সংখ্যা আটটি করে যাত্রী ধারণক্ষমতা ৩ হাজার করতে চায় ডিএমটিসিএল

 

উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত মেট্রোরেলে উপচে পড়া ভিড়ের কারণে কোচের সংখ্যা ছয়টি থেকে বাড়িয়ে আটটি করা হচ্ছে।

 

রাজধানীর মেট্রোরেল বাস্তবায়ন ও পরিচালনা কর্তৃপক্ষ ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড-ডিএমটিসিএল মনে করছে, এসব উদ্যোগে যাত্রীদের ট্রেনে ওঠা নামার সমস্যা কমবে। ভিড়ের কারণে এখনও যারা মেট্রো এড়িয়ে চলছেন, তারাও মেট্রোমুখী হবে। এতে সড়কে চাপ আরো কমবে।

 

মিরপুর থেকে সচিবালয়ের পথের একজন যাত্রী এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে এক ট্রেন থেকে আরেকটির মধ্যবর্তী সময় কমানোরও দাবিও জানিয়েছেন।

 

এখন পিক আওয়ারে প্রতি ১০ মিনিটে এবং অফ পিক আওয়ারে ১২ মিনিটে একটি করে ট্রেন আসে। ডিএমটিসিএল বলছে, এই সময় কমিয়ে আনার চেষ্টাও আছে তাদের। সেই সঙ্গে রাত পৌনে ৯টার বদলে ১১টা পর্যন্ত চালানোর প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে।

 

ভয়াবহ যানজটের নগরে মেট্রোরেল দেখিয়েছে আশার আলো। মিরপুর-১০ থেকে ফার্মগেটের দূরত্ব নেমেছে ১০ মিনিটে, মতিঝিলের দূরত্ব নেমেছে ২০ মিনিটে।

 

এর ফলে বাস, প্রাইভেট কার, অটোরিকশা ছেড়ে এই পথের যাত্রীরা এখন মেট্রোর দিকে ঝুঁকছেন। কিন্তু দিনের একটি বড় সময়েই স্টেশনে ভিড়ের কারণে ট্রেনে উঠতে হিমশিম খেতে হচ্ছে যাত্রীদের। পিক আওয়ারে কখনো তিনটি, কখনো তার চেয়ে বেশি ট্রেন চলে যাচ্ছে, এরপর উঠার সুযোগ পাচ্ছেন তারা।

 

এখন যে ছয়টি কোচ থাকে, তার একটি নারীদের জন্য সংরক্ষিত। প্রতিটি কোচে উঠতে পারে সর্বোচ্চ ৩৯০ জন। তবে দুই দিকে ইঞ্জিন থাকায় দুটিতে যাত্রী ধারণক্ষমতা সর্বোচ্চ ৩৭৪ জন।

এই হিসাবে একটি ট্রেনে একসঙ্গে উঠতে পারে সর্বোচ্চ ২ হাজার ৩০০ জনের মতো। দুটি কোচ বাড়ানো হলো সেটি ছাড়িয়ে যাবে তিন হাজার।

ডিএমটিসিএল এর মহাব্যবস্থাপক (অপারেশন) ইফতিখার হোসেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমরা লক্ষ্য করছি যে দিন দিন যাত্রীর সংখ্যা বাড়ছে। এসব বিষয় চিন্তা করে সিদ্ধান্ত হয়েছে যে, বর্তমানে ছয় কোচের যে সেট পরিচালনা করা হচ্ছে তাতে দুটি কোচ যুক্ত করে আট কোচের সেটে পরিচালনা করা হবে। এরই মধ্যে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।“

 

মিরপুর থেকে সচিবালয় স্টেশনের নিয়মিত যাত্রী বাঁধন সরকার এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “বিশেষ করে পিক টাইমে অনেক বেশি ভিড় হচ্ছে। একদিন তো ভিড়ের কারণে প্রথমবার আমি উঠতে না পারায় পরের ট্রেনে উঠতে হয়েছে। কোচ আটটি করা সুখবর। আরো বাড়াতে পারলে আরো ভালো।”

 

বাড়বে সময়, ট্রেনের সংখ্যা

 

নিয়মিত যাত্রী বাঁধন সরকার কোচ বাড়ানোর পাশাপাশি জোর দিয়েছেন ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানোর ওপর।

 

একেকটি ট্রেনের জন্য ১০ মিনিটের অপেক্ষা অনেক বেশি মন্তব্য করে তিনি বলেন, “পিক আওয়ারে একটি ট্রেন থেকে আরেকটি ছাড়ার সময় আরও কমিয়ে আনা উচিত।”

 

বর্তমানে সকাল ৭টা ১০ থেকে সাড়ে ১১টা এবং বিকাল ৪টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত পিক আওয়ারে ট্রেন চলছে ১০ মিনিট পর পর। মাঝে বেলা সাড়ে ১১টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত অফ পিক আওয়ারে ট্রেন আসছে ১২ মিনিট পরপর।

 

বাঁধনের এই দাবিও দ্রুত পূরণ হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ডিএমটিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (অপারেশন)। তিনি মনে করছেন যাত্রীর চাপ যেভাবে বাড়ছে, তাতে কেবল কোচের সংখ্যা বাড়ালেই কাজ হবে না।

 

কালের চিঠি/ ফাহিম

Tag :

মেট্রোরেল- কোচ বাড়িয়ে চাপ সামাল দেওয়ার উদ্যোগ

Update Time : ০৭:৫৫:৫২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৪

 

কয়েক মাসের মধ্যে পিক আওয়ারে ট্রেন চলবে ৫ মিনিট অন্তর, চলবে রাত ১১ টা পর্যন্ত।

 

এখন ছয়টি কোচে একেকটি ট্রেনে একসঙ্গে সর্বোচ্চ ২ হাজার ৩০০ জন যাত্রী উঠতে পারে। কোচের সংখ্যা আটটি করে যাত্রী ধারণক্ষমতা ৩ হাজার করতে চায় ডিএমটিসিএল

 

উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত মেট্রোরেলে উপচে পড়া ভিড়ের কারণে কোচের সংখ্যা ছয়টি থেকে বাড়িয়ে আটটি করা হচ্ছে।

 

রাজধানীর মেট্রোরেল বাস্তবায়ন ও পরিচালনা কর্তৃপক্ষ ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড-ডিএমটিসিএল মনে করছে, এসব উদ্যোগে যাত্রীদের ট্রেনে ওঠা নামার সমস্যা কমবে। ভিড়ের কারণে এখনও যারা মেট্রো এড়িয়ে চলছেন, তারাও মেট্রোমুখী হবে। এতে সড়কে চাপ আরো কমবে।

 

মিরপুর থেকে সচিবালয়ের পথের একজন যাত্রী এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে এক ট্রেন থেকে আরেকটির মধ্যবর্তী সময় কমানোরও দাবিও জানিয়েছেন।

 

এখন পিক আওয়ারে প্রতি ১০ মিনিটে এবং অফ পিক আওয়ারে ১২ মিনিটে একটি করে ট্রেন আসে। ডিএমটিসিএল বলছে, এই সময় কমিয়ে আনার চেষ্টাও আছে তাদের। সেই সঙ্গে রাত পৌনে ৯টার বদলে ১১টা পর্যন্ত চালানোর প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে।

 

ভয়াবহ যানজটের নগরে মেট্রোরেল দেখিয়েছে আশার আলো। মিরপুর-১০ থেকে ফার্মগেটের দূরত্ব নেমেছে ১০ মিনিটে, মতিঝিলের দূরত্ব নেমেছে ২০ মিনিটে।

 

এর ফলে বাস, প্রাইভেট কার, অটোরিকশা ছেড়ে এই পথের যাত্রীরা এখন মেট্রোর দিকে ঝুঁকছেন। কিন্তু দিনের একটি বড় সময়েই স্টেশনে ভিড়ের কারণে ট্রেনে উঠতে হিমশিম খেতে হচ্ছে যাত্রীদের। পিক আওয়ারে কখনো তিনটি, কখনো তার চেয়ে বেশি ট্রেন চলে যাচ্ছে, এরপর উঠার সুযোগ পাচ্ছেন তারা।

 

এখন যে ছয়টি কোচ থাকে, তার একটি নারীদের জন্য সংরক্ষিত। প্রতিটি কোচে উঠতে পারে সর্বোচ্চ ৩৯০ জন। তবে দুই দিকে ইঞ্জিন থাকায় দুটিতে যাত্রী ধারণক্ষমতা সর্বোচ্চ ৩৭৪ জন।

এই হিসাবে একটি ট্রেনে একসঙ্গে উঠতে পারে সর্বোচ্চ ২ হাজার ৩০০ জনের মতো। দুটি কোচ বাড়ানো হলো সেটি ছাড়িয়ে যাবে তিন হাজার।

ডিএমটিসিএল এর মহাব্যবস্থাপক (অপারেশন) ইফতিখার হোসেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমরা লক্ষ্য করছি যে দিন দিন যাত্রীর সংখ্যা বাড়ছে। এসব বিষয় চিন্তা করে সিদ্ধান্ত হয়েছে যে, বর্তমানে ছয় কোচের যে সেট পরিচালনা করা হচ্ছে তাতে দুটি কোচ যুক্ত করে আট কোচের সেটে পরিচালনা করা হবে। এরই মধ্যে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।“

 

মিরপুর থেকে সচিবালয় স্টেশনের নিয়মিত যাত্রী বাঁধন সরকার এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “বিশেষ করে পিক টাইমে অনেক বেশি ভিড় হচ্ছে। একদিন তো ভিড়ের কারণে প্রথমবার আমি উঠতে না পারায় পরের ট্রেনে উঠতে হয়েছে। কোচ আটটি করা সুখবর। আরো বাড়াতে পারলে আরো ভালো।”

 

বাড়বে সময়, ট্রেনের সংখ্যা

 

নিয়মিত যাত্রী বাঁধন সরকার কোচ বাড়ানোর পাশাপাশি জোর দিয়েছেন ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানোর ওপর।

 

একেকটি ট্রেনের জন্য ১০ মিনিটের অপেক্ষা অনেক বেশি মন্তব্য করে তিনি বলেন, “পিক আওয়ারে একটি ট্রেন থেকে আরেকটি ছাড়ার সময় আরও কমিয়ে আনা উচিত।”

 

বর্তমানে সকাল ৭টা ১০ থেকে সাড়ে ১১টা এবং বিকাল ৪টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত পিক আওয়ারে ট্রেন চলছে ১০ মিনিট পর পর। মাঝে বেলা সাড়ে ১১টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত অফ পিক আওয়ারে ট্রেন আসছে ১২ মিনিট পরপর।

 

বাঁধনের এই দাবিও দ্রুত পূরণ হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ডিএমটিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (অপারেশন)। তিনি মনে করছেন যাত্রীর চাপ যেভাবে বাড়ছে, তাতে কেবল কোচের সংখ্যা বাড়ালেই কাজ হবে না।

 

কালের চিঠি/ ফাহিম