মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০২৪, ১ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

বানিজ্যিক ফুল চাষে লাভবান গাইবান্ধার কৃষি উদ্যোক্তারা 

বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠান কিংবা জাতীয় দিবসে সাজ সজ্জার অন্যতম অনুষঙ্গ হিসেবে ফুলের ব্যবহার হচ্ছে যুগ যুগ ধরে। সম্প্রতি এই চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় গাইবান্ধা জেলায় অনেক কৃষক কৃষি জমিতে ফুল চাষ করে লাভবান হচ্ছে।

কৃষি বিভাগের হিসেবে গত পাঁচ বছরে গাইবান্ধা জেলায় বানিজ্যিক ফুলের চাষ অনেক বেড়েছে ।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, জেলায় এবছর প্রায় ২৭ হেক্টর জমিতে গোলাপ, গাঁদা, রজনীগন্ধাসহ বিভিন্ন জাতের উন্নতমানের ফুল চাষ করা হয়েছে। তবে জেলার সাতটি উপজেলার মধ্যে সাদুল্লাপুর উপজেলা ফুল চাষে সবচেয়ে এগিয়ে । এই অঞ্চলের মাটি ও আবহাওয়া ফুলচাষের জন্য অধিক উপযোগী হওয়ায় কয়েক শতাধিক কৃষক বারো মাস ফুল চাষ করে লাভবান হচ্ছে ।
ফুলের গ্রাম খ্যাত সাদুল্লাপুর উপজেলার ইদিলপুর ইউনিয়নের তাজনগর, চকনদী ,রাঘবেন্দ্রপুর গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, ফুলের পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষীরা। মাঠে কাজ করা কয়েকজন কৃষকের সাথে কথা বলে জানা যায়, ফুল চাষ লাভজনক হওয়ায় অন্যান্য ফসলের চেয়ে অল্প সময়ে বেশি লাভের আশায় তারা এখন ফুল চাষের দিকে ঝুঁকে পড়েছেন। তাদের দেখে আগ্রহী হয়ে উঠছেন অন্যান্য এলাকার স্থানীয় কৃষকরা। আর ফুল চাষকে ঘিরে সৃষ্টি হয়েছে স্থানীয় বেকারদের কর্মসংস্থান। এছাড়া ফুলের উৎপাদন ভালো হওয়ায় আশপাশের অন্যান্য চাষিরা আগ্রহী হয়ে উদ্যোক্তাদের কাছ থেকে পরামর্শ নিচ্ছেন। আর রঙ-বেরঙের বিভিন্ন জাতের চাষবাদকৃত ফুটন্ত ফুল ও ঘ্রাণ নিতে ছুটে আসছেন অনেকেই।
কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, এখানকার ফুল চাষিরা প্রতি মৌসুমে ৭টি উৎসবকে ঘিরে মূল বেচাকেনা করে থাকেন। উৎসবগুলোর মধ্যে ইতিমধ্যে বিজয় দিবস ও খ্রিস্টীয় নববর্ষের বেচাকেনা শেষ করেছেন তারা। আসন্ন বসন্ত উৎসব, ভালোবাসা দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসকে ঘিরে ফুল বাজারে তুলতে প্রস্তুত চাষিরা। তাই প্রতিটি বাগানে গোলাপ, গাঁদাসহ অন্যান্য ফুল পরিচর্যায় এখন তারা ব্যস্ত সময় পার করছেন।
ইদিলপুর ইউনিয়নের তাজনগর গ্রামের ফুল চাষি বিপ্লব মিয়া বলেন , ২ বিঘা জমিতে গোলাপ চাষ করেছি। এক বিঘা জমিতে প্রায় ৪ হাজার গোলাপ রোপণ করা যায়। এতে প্রায় দেড় থেকে দুই লাখ টাকা খরচ হয়। যার মধ্যে চারার দাম ৬৫ হাজার টাকা এবং সার, কীটনাশক, শ্রমিকের মজুরী আর রোপণসহ অন্যান্য খরচ আরও ৬০ হাজার টাকা। এছাড়াও পরিচর্যা ও পরিবহনে রয়েছে বাড়তি খরচ। একবার চারা রোপণে ৬ থেকে ৭ বছর পর্যন্ত গোলাপ ফুল পাওয়া যায়।
একই ইউনিয়নের চকনদী গ্রামের আশরাফুল ইসলাম বলেন এবছর ৪৫ শতক জমিতে গাঁদা ফুলের চাষ করেছি,ফলন ভালো হওয়ায় প্রতিদিন ২ থেকে আড়াই হাজার পিস গাঁদা ফুল সংগ্রহ করা যায় । বর্তমানে গোলাপ ৮ থেকে ১০ টাকা পিস ও গাঁদা ৭ শ থেকে ৮শ’ টাকা প্রতি হাজার বিক্রি হচ্ছে। এক বিঘা জমির ফুল মৌসুমে প্রায় তিন থেকে সাড়ে তিন লাখ টাকায় বিক্রি করা যায়।
চাষিরা জানান, গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার ফুল বাগানগুলোতে এবছর চাষ হয়েছে গোলাপ, রজনীগন্ধা, গ্লাডিওলাস, চন্দ্রমল্লিকা, গাঁদাসহ বিভিন্ন ধরণের ফুল। তাদের উৎপাদিত ফুল ঢাকা, রংপুর, বগুড়াসহ গাইবান্ধার বিভিন্ন এলাকা থেকে পাইকার ও ব্যবসায়িরা এসে নিয়ে যান। কখনও কখনও চাহিদামাফিক ফুল কার্টুনে প্যাকেটজাত করে কুরিয়ারে পাঠানো হয়।
গাইবান্ধা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মোঃ খোরশেদ আলম জানান, ফুল চাষ একটি সম্ভাবনাময় খাত। সাদুল্লাপুর উপজেলার মাটি ফুল চাষের জন্য উপযোগী তাই অনেক উদ্যোক্তা ফুল চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছে। সঠিক নিয়মে ফুল চাষ করতে কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে তাদের সব সময় পরামর্শ ও বিভিন্ন প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
Tag :
Popular Post

বেরোবিতে কোঠা ইস্যুতে আন্দোলনকারীদের ওপর ছাত্রলীগের হামলা

বানিজ্যিক ফুল চাষে লাভবান গাইবান্ধার কৃষি উদ্যোক্তারা 

Update Time : ১১:২১:২১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৪

বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠান কিংবা জাতীয় দিবসে সাজ সজ্জার অন্যতম অনুষঙ্গ হিসেবে ফুলের ব্যবহার হচ্ছে যুগ যুগ ধরে। সম্প্রতি এই চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় গাইবান্ধা জেলায় অনেক কৃষক কৃষি জমিতে ফুল চাষ করে লাভবান হচ্ছে।

কৃষি বিভাগের হিসেবে গত পাঁচ বছরে গাইবান্ধা জেলায় বানিজ্যিক ফুলের চাষ অনেক বেড়েছে ।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, জেলায় এবছর প্রায় ২৭ হেক্টর জমিতে গোলাপ, গাঁদা, রজনীগন্ধাসহ বিভিন্ন জাতের উন্নতমানের ফুল চাষ করা হয়েছে। তবে জেলার সাতটি উপজেলার মধ্যে সাদুল্লাপুর উপজেলা ফুল চাষে সবচেয়ে এগিয়ে । এই অঞ্চলের মাটি ও আবহাওয়া ফুলচাষের জন্য অধিক উপযোগী হওয়ায় কয়েক শতাধিক কৃষক বারো মাস ফুল চাষ করে লাভবান হচ্ছে ।
ফুলের গ্রাম খ্যাত সাদুল্লাপুর উপজেলার ইদিলপুর ইউনিয়নের তাজনগর, চকনদী ,রাঘবেন্দ্রপুর গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, ফুলের পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষীরা। মাঠে কাজ করা কয়েকজন কৃষকের সাথে কথা বলে জানা যায়, ফুল চাষ লাভজনক হওয়ায় অন্যান্য ফসলের চেয়ে অল্প সময়ে বেশি লাভের আশায় তারা এখন ফুল চাষের দিকে ঝুঁকে পড়েছেন। তাদের দেখে আগ্রহী হয়ে উঠছেন অন্যান্য এলাকার স্থানীয় কৃষকরা। আর ফুল চাষকে ঘিরে সৃষ্টি হয়েছে স্থানীয় বেকারদের কর্মসংস্থান। এছাড়া ফুলের উৎপাদন ভালো হওয়ায় আশপাশের অন্যান্য চাষিরা আগ্রহী হয়ে উদ্যোক্তাদের কাছ থেকে পরামর্শ নিচ্ছেন। আর রঙ-বেরঙের বিভিন্ন জাতের চাষবাদকৃত ফুটন্ত ফুল ও ঘ্রাণ নিতে ছুটে আসছেন অনেকেই।
কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, এখানকার ফুল চাষিরা প্রতি মৌসুমে ৭টি উৎসবকে ঘিরে মূল বেচাকেনা করে থাকেন। উৎসবগুলোর মধ্যে ইতিমধ্যে বিজয় দিবস ও খ্রিস্টীয় নববর্ষের বেচাকেনা শেষ করেছেন তারা। আসন্ন বসন্ত উৎসব, ভালোবাসা দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসকে ঘিরে ফুল বাজারে তুলতে প্রস্তুত চাষিরা। তাই প্রতিটি বাগানে গোলাপ, গাঁদাসহ অন্যান্য ফুল পরিচর্যায় এখন তারা ব্যস্ত সময় পার করছেন।
ইদিলপুর ইউনিয়নের তাজনগর গ্রামের ফুল চাষি বিপ্লব মিয়া বলেন , ২ বিঘা জমিতে গোলাপ চাষ করেছি। এক বিঘা জমিতে প্রায় ৪ হাজার গোলাপ রোপণ করা যায়। এতে প্রায় দেড় থেকে দুই লাখ টাকা খরচ হয়। যার মধ্যে চারার দাম ৬৫ হাজার টাকা এবং সার, কীটনাশক, শ্রমিকের মজুরী আর রোপণসহ অন্যান্য খরচ আরও ৬০ হাজার টাকা। এছাড়াও পরিচর্যা ও পরিবহনে রয়েছে বাড়তি খরচ। একবার চারা রোপণে ৬ থেকে ৭ বছর পর্যন্ত গোলাপ ফুল পাওয়া যায়।
একই ইউনিয়নের চকনদী গ্রামের আশরাফুল ইসলাম বলেন এবছর ৪৫ শতক জমিতে গাঁদা ফুলের চাষ করেছি,ফলন ভালো হওয়ায় প্রতিদিন ২ থেকে আড়াই হাজার পিস গাঁদা ফুল সংগ্রহ করা যায় । বর্তমানে গোলাপ ৮ থেকে ১০ টাকা পিস ও গাঁদা ৭ শ থেকে ৮শ’ টাকা প্রতি হাজার বিক্রি হচ্ছে। এক বিঘা জমির ফুল মৌসুমে প্রায় তিন থেকে সাড়ে তিন লাখ টাকায় বিক্রি করা যায়।
চাষিরা জানান, গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার ফুল বাগানগুলোতে এবছর চাষ হয়েছে গোলাপ, রজনীগন্ধা, গ্লাডিওলাস, চন্দ্রমল্লিকা, গাঁদাসহ বিভিন্ন ধরণের ফুল। তাদের উৎপাদিত ফুল ঢাকা, রংপুর, বগুড়াসহ গাইবান্ধার বিভিন্ন এলাকা থেকে পাইকার ও ব্যবসায়িরা এসে নিয়ে যান। কখনও কখনও চাহিদামাফিক ফুল কার্টুনে প্যাকেটজাত করে কুরিয়ারে পাঠানো হয়।
গাইবান্ধা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মোঃ খোরশেদ আলম জানান, ফুল চাষ একটি সম্ভাবনাময় খাত। সাদুল্লাপুর উপজেলার মাটি ফুল চাষের জন্য উপযোগী তাই অনেক উদ্যোক্তা ফুল চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছে। সঠিক নিয়মে ফুল চাষ করতে কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে তাদের সব সময় পরামর্শ ও বিভিন্ন প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।