মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০২৪, ১ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

পুলিশ সদস্যের বানানো এক অ্যাপসে মিলবে গাইবান্ধার সব তথ্য

নিজের অদম্য ইচ্ছাশক্তি আর তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ে প্রবল আগ্রহ থেকেই শত প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে গাইবান্ধা জেলা নিয়ে তথ্য বহুল একটি বিশেষ মোবাইল অ্যাপস তৈরি করেছে নাজমুল হাসান নামের এক পুলিশ সদস্য।

“আমাদের গাইবান্ধা ” নামের মোবাইল অ্যাপসটিকে তিনি গাইবান্ধা জেলা সম্পর্কিত একটি বিশাল তথ্য ভান্ডারে রুপ দিয়েছেন ।

অ্যাপস তৈরিতে ব্যস্ত: নাজমুল হাসান ছবি: কালের চিঠি

অ্যাপসটির উদ্যোক্তা নাজমুল হাসান গাইবান্ধা সদর উপজেলার রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের ধোপাডাঙ্গা গ্রামের জব্বার আলীর ছেলে। নাজমুলের পরিবার জানায়, স্থানীয় রহমতপুর এম এম উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক ও তুলশীঘাট শামসুল হক ডিগ্রী কলেজের বিজ্ঞান শাখা থেকে এইচএসসি পাশের পর পুলিশে যোগ দেন নাজমুল হাসান এরপর গাইবান্ধা সরকারি কলেজে পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হলেও নানা জটিলতায় বন্ধ হয়ে যায় তার পড়াশোনা।

অ্যাপসটির লোগো ছবি: সংগৃহীত 

চাকরির পর উচ্চ শিক্ষা অর্জনের পথ বাধাগ্রস্ত হলেও নিজের উদ্ভাবনী শক্তিকে জাগ্রত রেখেছিলেন নাজমুল । নিজের কাজের ফাঁকে তাই যতটুকু সময় ছিল সেই সময়ে বিশ্রাম না নিয়ে অ্যাপস তৈরিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছিলো । অবশেষে চেষ্টা আর কঠোর পরিশ্রমের ফসল হিসেবে একটি পূর্ণাঙ্গ ডাটাবেজ তৈরি করতে সক্ষম হয় নাজমুল ।সম্প্রতি গুগল থেকে ক্লিয়ারেন্স পাওয়ায় প্লে স্টোর থেকে যেকোন এন্ড্রয়েড মোবাইল ফোনেই অ্যাপসটি ডাউনলোড করে অফলাইন ও অনলাইন দুইটি মাধ্যমে সেবা গ্রহণ করতে পারবেন ব্যবহারকারীরা।

অ্যাপসটিতে ঢুকে দেখা যায়,গাইবান্ধা জেলার ইতিহাস ঐতিহ্য, ভৌগলিক সীমারেখা, গাইবান্ধার সাতটি থানা ও ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের মোবাইল নাম্বার, শতাধিক ডাক্তারের চেম্বার ঠিকানা, এম্বুলেন্স , ব্লাড ব্যাংক ও ব্লাড ডোনারদের গ্রুপ ভিত্তিক তালিকা ও মোবাইল নাম্বার , জেলার বিভিন্ন উপজেলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তথ্য, গাইবান্ধা জেলা জজ আদালতের আইনজীবীদের মোবাইল নাম্বার , বাস কাউন্টারের তথ্য , ট্রেনের সময়সূচি , বিদ্যুৎ অফিস, হাসপাতালের ঠিকানা ও মোবাইল নাম্বার, গাইবান্ধা থেকে প্রকাশিত দৈনিক পত্রিকাগুলোর ওয়েব সাইট ঠিকানাসহ জেলা সম্পর্কিত প্রয়োজনীয় সব সেবাই সুবিন্যস্ত আকারে সাজানো।বর্তমানে অ্যাপসটি প্লে-স্টোরে প্রকাশিত অবস্থায় রয়েছে। তাই যে কেউ চাইলে গুগল প্লে স্টোরে গিয়ে ইংরেজি ভাষায় ( Amader Gaibandha ) লিখে সার্চ দিলে অ্যাপসটি ডাউনলোড করে ব্যবহার করতে পারবেন।

 

নাজমুল বলেন, ছোট থেকেই বিজ্ঞান ও তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ে আমার অনেক আগ্রহ ছিলো। গাইবান্ধা জেলা নিয়ে একটি তথ্য ভান্ডার তৈরি করতে চেয়েছিলাম। ডিউটি শেষে বাসায় ফিরে এসে আমি অ্যাপস তৈরিতে সময় দিতাম । প্রথমবার চেষ্টা করে কিছু ত্রুটির কারণে ব্যার্থ হয়ে দ্বিতীয়বার আবার চেষ্টা করে সফল হই । অ্যাপসটিতে আরও নতুন কিছু তথ্য সংযোজন করতে হবে। আশা করছি খুব দ্রুত সময়ের মধ্যেই সম্পূর্ণ কাজটি শেষ হবে । হঠাৎ এমন একটি চিন্তা কিভাবে মাথায় এলো জানতে চাইলে নাজমুল বলেন , আমি দেখেছিলাম একজন ডাক্তারের সিরিয়াল কিংবা ব্লাড ডোনার খুঁজতে গিয়ে মানুষ অনেক হয়রানির শিকার হতে হয় । ট্রেনের সময়সূচি না জানা, বাস কাউন্টারের নাম্বার না থাকা , পুলিশ স্টেশনের নাম্বার না থাকাসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় তথ্য না জানায় সাধারণ মানুষদের প্রতিনিয়ত ভোগান্তি পোহাতে হয় । এসব ভাবনা থেকেই আমি এই অ্যাপসটি তৈরি করেছি । আমার বিশ্বাস অ্যাপসটি ব্যবহারের মাধ্যমে এর ব্যবহারকারীরা সুফল পাবে।

 

নাজমুল হাসানের স্কুল শিক্ষক রহমতপুর মঞ্জুর মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রুহুল আমিন সরকার বলেন, নাজমুল ছোট থেকেই নম্র ও ভদ্র স্বভাবের ছেলে, লেখাপড়াতেও ভালো মনযোগী ছিলো তার এই সাফল্যে শিক্ষক হিসেবে আমি নিজেও অনেক গর্বিত ।

Tag :
Popular Post

বেরোবিতে কোঠা ইস্যুতে আন্দোলনকারীদের ওপর ছাত্রলীগের হামলা

পুলিশ সদস্যের বানানো এক অ্যাপসে মিলবে গাইবান্ধার সব তথ্য

Update Time : ০৮:২৯:৪৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৪

নিজের অদম্য ইচ্ছাশক্তি আর তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ে প্রবল আগ্রহ থেকেই শত প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে গাইবান্ধা জেলা নিয়ে তথ্য বহুল একটি বিশেষ মোবাইল অ্যাপস তৈরি করেছে নাজমুল হাসান নামের এক পুলিশ সদস্য।

“আমাদের গাইবান্ধা ” নামের মোবাইল অ্যাপসটিকে তিনি গাইবান্ধা জেলা সম্পর্কিত একটি বিশাল তথ্য ভান্ডারে রুপ দিয়েছেন ।

অ্যাপস তৈরিতে ব্যস্ত: নাজমুল হাসান ছবি: কালের চিঠি

অ্যাপসটির উদ্যোক্তা নাজমুল হাসান গাইবান্ধা সদর উপজেলার রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের ধোপাডাঙ্গা গ্রামের জব্বার আলীর ছেলে। নাজমুলের পরিবার জানায়, স্থানীয় রহমতপুর এম এম উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক ও তুলশীঘাট শামসুল হক ডিগ্রী কলেজের বিজ্ঞান শাখা থেকে এইচএসসি পাশের পর পুলিশে যোগ দেন নাজমুল হাসান এরপর গাইবান্ধা সরকারি কলেজে পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হলেও নানা জটিলতায় বন্ধ হয়ে যায় তার পড়াশোনা।

অ্যাপসটির লোগো ছবি: সংগৃহীত 

চাকরির পর উচ্চ শিক্ষা অর্জনের পথ বাধাগ্রস্ত হলেও নিজের উদ্ভাবনী শক্তিকে জাগ্রত রেখেছিলেন নাজমুল । নিজের কাজের ফাঁকে তাই যতটুকু সময় ছিল সেই সময়ে বিশ্রাম না নিয়ে অ্যাপস তৈরিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছিলো । অবশেষে চেষ্টা আর কঠোর পরিশ্রমের ফসল হিসেবে একটি পূর্ণাঙ্গ ডাটাবেজ তৈরি করতে সক্ষম হয় নাজমুল ।সম্প্রতি গুগল থেকে ক্লিয়ারেন্স পাওয়ায় প্লে স্টোর থেকে যেকোন এন্ড্রয়েড মোবাইল ফোনেই অ্যাপসটি ডাউনলোড করে অফলাইন ও অনলাইন দুইটি মাধ্যমে সেবা গ্রহণ করতে পারবেন ব্যবহারকারীরা।

অ্যাপসটিতে ঢুকে দেখা যায়,গাইবান্ধা জেলার ইতিহাস ঐতিহ্য, ভৌগলিক সীমারেখা, গাইবান্ধার সাতটি থানা ও ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের মোবাইল নাম্বার, শতাধিক ডাক্তারের চেম্বার ঠিকানা, এম্বুলেন্স , ব্লাড ব্যাংক ও ব্লাড ডোনারদের গ্রুপ ভিত্তিক তালিকা ও মোবাইল নাম্বার , জেলার বিভিন্ন উপজেলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তথ্য, গাইবান্ধা জেলা জজ আদালতের আইনজীবীদের মোবাইল নাম্বার , বাস কাউন্টারের তথ্য , ট্রেনের সময়সূচি , বিদ্যুৎ অফিস, হাসপাতালের ঠিকানা ও মোবাইল নাম্বার, গাইবান্ধা থেকে প্রকাশিত দৈনিক পত্রিকাগুলোর ওয়েব সাইট ঠিকানাসহ জেলা সম্পর্কিত প্রয়োজনীয় সব সেবাই সুবিন্যস্ত আকারে সাজানো।বর্তমানে অ্যাপসটি প্লে-স্টোরে প্রকাশিত অবস্থায় রয়েছে। তাই যে কেউ চাইলে গুগল প্লে স্টোরে গিয়ে ইংরেজি ভাষায় ( Amader Gaibandha ) লিখে সার্চ দিলে অ্যাপসটি ডাউনলোড করে ব্যবহার করতে পারবেন।

 

নাজমুল বলেন, ছোট থেকেই বিজ্ঞান ও তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ে আমার অনেক আগ্রহ ছিলো। গাইবান্ধা জেলা নিয়ে একটি তথ্য ভান্ডার তৈরি করতে চেয়েছিলাম। ডিউটি শেষে বাসায় ফিরে এসে আমি অ্যাপস তৈরিতে সময় দিতাম । প্রথমবার চেষ্টা করে কিছু ত্রুটির কারণে ব্যার্থ হয়ে দ্বিতীয়বার আবার চেষ্টা করে সফল হই । অ্যাপসটিতে আরও নতুন কিছু তথ্য সংযোজন করতে হবে। আশা করছি খুব দ্রুত সময়ের মধ্যেই সম্পূর্ণ কাজটি শেষ হবে । হঠাৎ এমন একটি চিন্তা কিভাবে মাথায় এলো জানতে চাইলে নাজমুল বলেন , আমি দেখেছিলাম একজন ডাক্তারের সিরিয়াল কিংবা ব্লাড ডোনার খুঁজতে গিয়ে মানুষ অনেক হয়রানির শিকার হতে হয় । ট্রেনের সময়সূচি না জানা, বাস কাউন্টারের নাম্বার না থাকা , পুলিশ স্টেশনের নাম্বার না থাকাসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় তথ্য না জানায় সাধারণ মানুষদের প্রতিনিয়ত ভোগান্তি পোহাতে হয় । এসব ভাবনা থেকেই আমি এই অ্যাপসটি তৈরি করেছি । আমার বিশ্বাস অ্যাপসটি ব্যবহারের মাধ্যমে এর ব্যবহারকারীরা সুফল পাবে।

 

নাজমুল হাসানের স্কুল শিক্ষক রহমতপুর মঞ্জুর মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রুহুল আমিন সরকার বলেন, নাজমুল ছোট থেকেই নম্র ও ভদ্র স্বভাবের ছেলে, লেখাপড়াতেও ভালো মনযোগী ছিলো তার এই সাফল্যে শিক্ষক হিসেবে আমি নিজেও অনেক গর্বিত ।