শনিবার, ২৫ মে ২০২৪, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

গাইবান্ধায় হাটে সস্তা দামে বিক্রি হচ্ছে শখের সাইকেল

 

একটা সময় ছিল যখন পায়ে হেঁটেই পাড়ি দিতে হতো শত মাইল পথ। ঠিক সেই সময় যোগাযোগ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন এনেছিল শতাব্দীর প্রাচীন যানবাহন সাইকেল। আধুনিক যুগেও দুই চাকার অতি সাধারণ এই যানবাহনটির বিন্দুমাত্র কদর কমেনি।

 

শিশু থেকে বৃদ্ধ সব বয়সের মানুষের কাছেই নিরাপদ যানবাহন হিসেবে সমাদৃত বাইসাইকেল। তাই তো অল্প টাকায় নিজের শখের সাইকেল কিনতে পুরাতন সাইকেলের হাটে ভিড় করছেন গাইবান্ধার সাইকেল প্রেমীরা।

 

বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় বিপাকে পড়েছেন নিম্ন-মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষজন। অফিস বা নিকটতম জায়গায় যাতায়াতের জন্য অনেকেই মোটরসাইকেলের পরিবর্তে ঝুঁকছেন পুরাতন সাইকেলে।

অনেকে স্বল্প দূরত্বে যাতায়াতের জন্য মোটরসাইকেলের পরিবর্তে বাইসাইকেলকেই পছন্দ করতে শুরু করেছেন।

 

গাইবান্ধা সদর উপজেলার সাহাপাড়া ইউনিয়নের তুলশীঘাটের গাইবান্ধা-পলাশবাড়ী আঞ্চলিক মহাসড়ক ঘেঁষে গড়ে উঠা পুরাতন সাইকেলের হাট গিয়ে দেখা গেছে ক্রেতা-বিক্রেতাদের পদচারণায় মুখর সাইকেলের হাট। চলছে জমজমাট কেনা বেচা।

 

সরেজমিনে হাটে গিয়ে দেখা যায় সেখানে সাইকেল বিক্রেতা রয়েছেন ৩০ থেকে ৪০ জন। এরা গাইবান্ধার বিভিন্ন হাট থেকে পুরাতন সাইকেল ক্রয় করে তুলশীঘাট হাটে এনে বিক্রি করেন। তুলশীঘাট হাট বসে সপ্তাহে দুই দিন সোমবার ও বৃহস্পতিবার। এই দুইদিনে সাইকেল বিক্রেতারা পুরাতন সাইকেল লাইন করে সাজিয়ে রাখেন।

ক্রেতারা পছন্দমত দরদাম করে সাইকেল কিনে নিয়ে যান। প্রতিটি সাইকেল ৩ হাজার থেকে ৮ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হতে দেখা গেছে। সাইকেলের ক্রয় বাবদ ইজারাদারকে রশিদের মাধ্যমে ২০০ টাকা দিতে হয়। স্থায়ী ব্যবসায়ী ছাড়াও অনেকে নিতান্ত প্রয়োজনে পড়ে এখানে সাইকেল বিক্রি করতে আসেন।

 

সদর উপজেলার রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের সাইকেল বিক্রেতা মতিউর রহমান বলেন, তুলশীঘাট ও দাড়িয়াপুর হাটে ২৫ বছর থেকে পুরাতন সাইকেলে ব্যবসা করে আসছেন। আগে প্রতিহাটে দুই থেকে ৩টি সাইকেল তিনি বিক্রি করতেন। জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় এখন প্রতি হাটে ৫/৬ টি সাইকেল বিক্রি করছেন।

 

ছেলের জন্য সাইকেল কিনতে আসা আজিজুল হক বলেন, নবম শ্রেণিতে উঠে ছেলে বায়না ধরেছে তার একটি সাইকেল লাগবে। তাই তার শখ পূরণ করতে ৪ থেকে ৫ হাজার টাকার মধ্যে একটি পুরাতন সাইকেল কিনতে এসেছি।

 

টাকার বিশেষ প্রয়োজন হওয়ায় মমিন মিয়া নামে এক ব্যক্তি এসেছেন তার নিজের ব্যবহৃত সাইকেলটি বিক্রি করতে। তিনি বলেন, তার সাইকেটি সাড়ে ৪ হাজার টাকা হলে তিনি বিক্রি করবেন। কিন্তু আড়াই হাজার টাকার ওপর কেউ দাম বলছে না। তাই তিনি সাইকেল বিক্রি করবেন কি না সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না।

 

বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত তৌহিদুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি এসেছেন সাইকেল দেখতে। তিনি বলেন, বাড়ি থেকে প্রতিদিন অফিস করতে যে টাকার তেল খরচ হয় তাতে সংসার চালানো কষ্ট সাধ্য হয়ে পড়েছে। তাই তুলশীঘাট হাটে এসেছেন পুরাতন সাইকেল দেখতে। তিনি বলেন পছন্দ এবং দরদামে বনলে তিনি একটি সাইকেল কিনবেন।

 

হাটের ইজারাদার মশিউর রহমান বলেন, আগে প্রতি হাটে ৫ থেকে ৭ টি সাইকেল বিক্রি হত। এখন প্রতি হাটে ১৫ থেকে ২০ টি সাইকেল বিক্রি হচ্ছে। তিনি বিক্রি বৃদ্ধির কারণ হিসেবে মনে করেন বাজারে সব কিছুর দাম অনেক বেশি আর জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় অনেকে কাছাকাছি দূরত্বে যাতায়াতের জন্য মোটরসাইকেলের পরিবর্তে বাইসাকেল ব্যবহার করতে শুরু করেছেন। তাই স্বাভাবিকভাবেই আগের তুলনায় সাইকেলের বিক্রি বেড়েছে।

Tag :

গাইবান্ধায় হাটে সস্তা দামে বিক্রি হচ্ছে শখের সাইকেল

Update Time : ০৬:১৪:২৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৪

 

একটা সময় ছিল যখন পায়ে হেঁটেই পাড়ি দিতে হতো শত মাইল পথ। ঠিক সেই সময় যোগাযোগ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন এনেছিল শতাব্দীর প্রাচীন যানবাহন সাইকেল। আধুনিক যুগেও দুই চাকার অতি সাধারণ এই যানবাহনটির বিন্দুমাত্র কদর কমেনি।

 

শিশু থেকে বৃদ্ধ সব বয়সের মানুষের কাছেই নিরাপদ যানবাহন হিসেবে সমাদৃত বাইসাইকেল। তাই তো অল্প টাকায় নিজের শখের সাইকেল কিনতে পুরাতন সাইকেলের হাটে ভিড় করছেন গাইবান্ধার সাইকেল প্রেমীরা।

 

বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় বিপাকে পড়েছেন নিম্ন-মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষজন। অফিস বা নিকটতম জায়গায় যাতায়াতের জন্য অনেকেই মোটরসাইকেলের পরিবর্তে ঝুঁকছেন পুরাতন সাইকেলে।

অনেকে স্বল্প দূরত্বে যাতায়াতের জন্য মোটরসাইকেলের পরিবর্তে বাইসাইকেলকেই পছন্দ করতে শুরু করেছেন।

 

গাইবান্ধা সদর উপজেলার সাহাপাড়া ইউনিয়নের তুলশীঘাটের গাইবান্ধা-পলাশবাড়ী আঞ্চলিক মহাসড়ক ঘেঁষে গড়ে উঠা পুরাতন সাইকেলের হাট গিয়ে দেখা গেছে ক্রেতা-বিক্রেতাদের পদচারণায় মুখর সাইকেলের হাট। চলছে জমজমাট কেনা বেচা।

 

সরেজমিনে হাটে গিয়ে দেখা যায় সেখানে সাইকেল বিক্রেতা রয়েছেন ৩০ থেকে ৪০ জন। এরা গাইবান্ধার বিভিন্ন হাট থেকে পুরাতন সাইকেল ক্রয় করে তুলশীঘাট হাটে এনে বিক্রি করেন। তুলশীঘাট হাট বসে সপ্তাহে দুই দিন সোমবার ও বৃহস্পতিবার। এই দুইদিনে সাইকেল বিক্রেতারা পুরাতন সাইকেল লাইন করে সাজিয়ে রাখেন।

ক্রেতারা পছন্দমত দরদাম করে সাইকেল কিনে নিয়ে যান। প্রতিটি সাইকেল ৩ হাজার থেকে ৮ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হতে দেখা গেছে। সাইকেলের ক্রয় বাবদ ইজারাদারকে রশিদের মাধ্যমে ২০০ টাকা দিতে হয়। স্থায়ী ব্যবসায়ী ছাড়াও অনেকে নিতান্ত প্রয়োজনে পড়ে এখানে সাইকেল বিক্রি করতে আসেন।

 

সদর উপজেলার রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের সাইকেল বিক্রেতা মতিউর রহমান বলেন, তুলশীঘাট ও দাড়িয়াপুর হাটে ২৫ বছর থেকে পুরাতন সাইকেলে ব্যবসা করে আসছেন। আগে প্রতিহাটে দুই থেকে ৩টি সাইকেল তিনি বিক্রি করতেন। জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় এখন প্রতি হাটে ৫/৬ টি সাইকেল বিক্রি করছেন।

 

ছেলের জন্য সাইকেল কিনতে আসা আজিজুল হক বলেন, নবম শ্রেণিতে উঠে ছেলে বায়না ধরেছে তার একটি সাইকেল লাগবে। তাই তার শখ পূরণ করতে ৪ থেকে ৫ হাজার টাকার মধ্যে একটি পুরাতন সাইকেল কিনতে এসেছি।

 

টাকার বিশেষ প্রয়োজন হওয়ায় মমিন মিয়া নামে এক ব্যক্তি এসেছেন তার নিজের ব্যবহৃত সাইকেলটি বিক্রি করতে। তিনি বলেন, তার সাইকেটি সাড়ে ৪ হাজার টাকা হলে তিনি বিক্রি করবেন। কিন্তু আড়াই হাজার টাকার ওপর কেউ দাম বলছে না। তাই তিনি সাইকেল বিক্রি করবেন কি না সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না।

 

বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত তৌহিদুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি এসেছেন সাইকেল দেখতে। তিনি বলেন, বাড়ি থেকে প্রতিদিন অফিস করতে যে টাকার তেল খরচ হয় তাতে সংসার চালানো কষ্ট সাধ্য হয়ে পড়েছে। তাই তুলশীঘাট হাটে এসেছেন পুরাতন সাইকেল দেখতে। তিনি বলেন পছন্দ এবং দরদামে বনলে তিনি একটি সাইকেল কিনবেন।

 

হাটের ইজারাদার মশিউর রহমান বলেন, আগে প্রতি হাটে ৫ থেকে ৭ টি সাইকেল বিক্রি হত। এখন প্রতি হাটে ১৫ থেকে ২০ টি সাইকেল বিক্রি হচ্ছে। তিনি বিক্রি বৃদ্ধির কারণ হিসেবে মনে করেন বাজারে সব কিছুর দাম অনেক বেশি আর জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় অনেকে কাছাকাছি দূরত্বে যাতায়াতের জন্য মোটরসাইকেলের পরিবর্তে বাইসাকেল ব্যবহার করতে শুরু করেছেন। তাই স্বাভাবিকভাবেই আগের তুলনায় সাইকেলের বিক্রি বেড়েছে।